নেভারল্যান্ড – মাইকেল জ্যাকসনরে লয়া মোমাসের লেখার বঙ্গানুবাদ

[ অনুবাদকের ফাৎরা আলাপ –  ১৯৮৭ বা ৮৮ সাল হবে। লিবিয়া। মরুর বুকে ছোট ছোট কাঠের বাড়ি। সুন্দর। খুব সুন্দর। ওগুলো ছিল কোয়ার্টার, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারীদের। আমার চাচাতো ভাইও ছিলেন সেখানে। তিনি আর তার বউ মিলে থাকতেন এক কোয়ার্টারে, এক কাঠের বাড়িতে। তার বউরে আমি ডাকতাম বৌভাবী। আমার যতদূর মনে পড়ে ঢুইকা হাতের বামে যেই রুম, সেইরুমে আমি চাচাতো ভাইয়ের একটা ক্যাসেট চালাইছিলাম। ক্যাসেটটা ছাইড়া মনে হইছিল নাহ, নাচন দরকার। তো, বৌভাবীরে ডাইকা গান ছাইড়া নাচলাম। এলবাম কাভারের আর দেয়ালের পোস্টারের আবছা স্মৃতি রয়া গেছিল, পরে যহন ‘ব্যাড’-এর কাভার দেখছিলাম বড় হয়া – আবছা স্মৃতি ঘাইটা বেরেইনে কইছিল, হালার পো তুমি মাইকেল ছাইড়াই নাচছিলা। এই স্মৃতিডা অস্পষ্ট হইলেও বাংলাদেশে আহনের পর ৮৮ সালেরই(বা ৮৯-ও হইবার পারে) একটা স্মৃতি পরিষ্কার। আমাগো বাড়ি ভইরা ছিল বাপের জমানো নজরুলগীতি্র ক্যাসেট, ও, আর ভানুর কৌতুকের একটা ক্যাসেট, সেইরাম প্রিয় ছিল। অইসব হুনতাম, আর বিটিভিতে এরশাদ কাগুর গান, বন্যা লয়া, ‘আজকের দেশটা আমার’। খুবই টাচিং ছিল গানটা। এই পরিস্থতিতে একদিন এক মামার বাড়ি যাই। মামাতো ভাইয়ের থিকা কয়ডা ক্যাসেট আনি। ৩ ডা। একটা কাজলের কৌতুক। একটা হাসান জাহাঙ্গীর। আর একটা মাইকেল জ্যাকসন। মনে আছে হাসান জাহাঙ্গীরের একটা গানেও এমজে-এর কতা আছিল – “ম্যায়ভি ফ্যাশন করঙ্গা, মাইকেল জ্যাকসন পাদুঙ্গা……জাস্ট বিটেট….জাস্ট বিটেট” টাইপ কিছু একটা। এই ৩ ডা ক্যাসেট মামতো ভাইয়েই বাইছা দিছিল। পরে, আরেট্টু বড় হয়া, না থাউক, সে বিরাট ইতিহাস। আনবিলিভেইবলি বিরাট। আইজও ‘থ্রিলার’ হুনলে টিউব লাইটের কথা মনে পড়ে। হ, যেই বছর আমার বাপে হইলদা বাতি থুইয়া টিউব লাইট লাগায়া স্মার্ট হইছিলেন, ঠিক অই টাইমেই ফাস্ট ‘থ্রিলার’ হুনা আমার, মনোযোগ দিয়া।

আমাগো সময়ে ম্যারাডোনা আর মাইকেল জ্যাকসনই ছিলেন সবচে বড় স্টার, সবচে বড় ফেনোমেনা।

ইয়োর ইন্টেলেকচুয়ালনেস, ইয়োর আভাঁগার্দনেসরা মাইন্ড খাইলে খান গিয়া, অস্মীকার করি ক্যামায়, যে, আমাগো বোকচোদ জেনারেশনে, আমার লাহান বোকচোদতর অনেক গাবররে মাইকেলই পরথম হুনাইছিলেন, হিগাইছিলেন – “দে ডোন্ট কেয়ার এবাউট আস”। এই অবজারভেশন আমার নায়, আমার এক জিগরি দোস্তের। যাউকগা, দে ডোন্ট কেয়ার এবাউট আস, লেট দেম বি আওমীজ, বিম্পি্জ, জামাতজ, জিহাদিজ, এরশাদ কাগু্জ, লেট দেম বি আর্মি-রেব-পুলিশ-বিজিবিজ, লেট দেম বি দ্যা এমপিজ, মন্ত্রিজ, মেয়রস, ক্যাডারজ, লেট দেম বি বুর্জোয়াজ(পেতি, গ্রঁ -বোথ), লেট দেম বি বিজিএমইএ অর গার্মেন্ট-মালিকজ। এট্টু হিপহপ গাইতে ইচ্ছা কত্তেসে –

“দে ডোন্ট গিভ আ ফাক বেইবে,
বি টু দ্যা জি টু দ্যা এম ই এ,
বি জি এম ই এ”

তো, যা কইতেছিলাম আরকি। ভোদাই আছিলাম। পিউর ভোদাই। সোনার-চামচ-মুখে-লয়া-জন্মানো-সম দাস ক্যাপিটাল, বা কী করিতে হইবে লয়া জন্মাই নাই। হালার বাপ-মায়-খালায় ভি পিঙ্ক ফ্লয়েড বা নিদেনপক্ষে পিট সিগার গায়া ঘুমা পাড়ায় নাইক্কা। বড় ভাই টাইপ কেউও আছিলেন না, যে দিবে দেখায়ে পথ, যাব কোথা চলি, ধুরো কী কই। শিট।

আমাগো এমজে-ই ছিলেন বাতিঘর। আমার লাহান চরম ভোদাইগো।

গ্রাফিত্তি ; প্রাপ্তিসূত্র - http://mjpopculture.blogspot.com/2010/12/did-anyone-else-wonder-where-this-was_17.html
গ্রাফিত্তি ; প্রাপ্তিসূত্র – http://mjpopculture.blogspot.com/2010/12/did-anyone-else-wonder-where-this-was_17.html

এই যে মোমাস সাবের লেখাডা অনুবাদ কল্লাম, তার মূল কতা হইল গিয়া যে, মাইকেল হইলেন নেভারল্যান্ডের বাসিন্দা, বা উড়িন্দা, যিনি পুরাই ‘এটা মাগার ওটাও’(yet also)। আর এই দুনিয়া হইল কট্টর ‘হয় এটা নাইলে ওটা’-বাদী(either or)। এই দুনিয়া, জামানা খালি ক্যাটাগোরাইজ কত্তে চায় – জীববিজ্ঞানের শ্রেণীবিন্যাসের লাহান। সাদা নাইলে কালা – গুড নাইলে ইভল – পুলা নাইলে মাইয়া – আম্রিকার পক্ষে নাইলে টেররিস্ট – আস্তিক নাইলে নাস্তিক – আম্লিগ নাইলে বিম্পিজামাত ইত্যাদি। মাইকেল এইসব তরিকায় বিন্যস্তকরণে ঝামেলা পাকান। ক্যারাবেরা লাগায়া দেন। আবার ডিপজলের লাহান পুরা ভিলেইনও হেতে না। নাইলে হে মরলে এত মাইনষে কান্দে ক্যা? এই লেখার লগে আমি পুরা সাপোর্ট খাইনা, মানে পত্তেক বাক্যের লগে আরকি। তাও কল্লাম। হ্যারে লয়া আলাপ শুরু হউক, বাংলায়। আলাপ হউক, গাইল্লায়া, নাইলে লাবিউ জানায়া, নাইলে ফিলোসফি-পোস্টমডার্নিজম কপচায়া – যেমায়ই হউক।

এই লেখা প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালের ১৩ মার্চ, ‘ক্লিক অপেরা’য়। অর্থাৎ মাইকেল মারা যাবার আগে। মোমাস সাবের এংরাজি লেহাডা বেশ সুস্বাদু, আমি বাংলা কত্তে গিয়া ল্যাপ্টায়ালাইছি। মাপ চাই।

এনিওয়ে, কৃতজ্ঞতা জাইঙ্গারে, অর্ঘ্যরে, প্রমিথরে, জিসানরে, সানিরে। নানা কারণে। সে আরেক বিরাট ইতিহাস।

তো, বসিক-বসিকারা, কথা সেইটাই – আলাপ……চলবে। ]


নেভারল্যান্ড

-মোমাস

গ্রাফিত্তি ; প্রাপ্তিসূত্র - http://endlesscanvas.com/?tag=michael-jackson
গ্রাফিত্তি ; প্রাপ্তিসূত্র – http://endlesscanvas.com/?tag=michael-jackson

মাইকেল জ্যাকসনের বিচার একটা কারণে বড়ই দুর্ভাগ্যজনক। তা হইলো – ‘হয় এটা নাইলে ওটা’র দুনিয়া তার ভাল-মন্দের সিদ্ধান্ত চাপায় দিবে ‘এটা মাগার ওটাও’ কিসিমের এক জীবের উপর। পরিস্কার, দ্ব্যর্থবোধকতাহীন (ভাল-মন্দ, ডান-বাম, সাদা-কালো ইত্যাকার –অনু.)মেরুকরণের দুনিয়া তার সিদ্ধান্ত চাপাবে এমন একজনার উপর, যে পিটারপ্যানসম উইড়া বেড়ায় সকল মেরুকরণের উপ্রে দিয়া ; যেই মেরুকরণ কিনা সংজ্ঞায়িত আর সীমাবদ্ধ করে বাদবাকী আমাদিগকে।

আমরা যখন মাইকেলের দিকে তাকাই, আমার বিশ্বাস, আমরা দেখি নিজ প্রজাতির ভবিষ্যতরে। ভবিষ্যৎ থিকা আসা এক জীব মাইকেল ; যেই ভবিষ্যতে আমরা হয়া থাকব বর্তমানের চাইতে আরো ফেমিনিন, আরো কনজিউমারিস্ট, আরো পোস্টমডার্ন, আরো কৃত্রিম, আরো আত্মগঠনমূলক, আরো আত্মমধ্যস্থতাকারী, আরো মজারু, আরো কেয়ারিং, আরো প্রতিভাধর। আবার এইসকল বিশেষণ ব্যবহার করাটাও ঝকমারি, কারণ এডি তো সব ‘হয় এটা নাইলে ওটা’সুলভ বিশেষণ। আর আমাদের উনি আসেন কিনা ‘এটা মাগার ওটাও’-এর দুনিয়া থিকা। যেই দুনিয়ার বাসিন্দা হয়তো আমরা সবাই-ই হব, ‘কপালে থাকলে’। সেই দুইন্না, যেথা থাকবে না কো কঠিন-বাস্তব-প্রসূত-স্বতঃসিদ্ধ-বিশুদ্ধতা, থাকবে না কো মানব-প্রকৃতি (‘Human Nature’)। এক খাঁটি সংশ্লেষণের, খাঁটি আত্মনির্মাণের দুনিয়া।

জ্যাকসন হল তা, যা সব মানুষই হয়া উঠবে, যদি আমরা ক্রমশ আগাইতে থাকি পোস্টমডার্নিজম ও আত্মমধ্যস্থতার দিকে। উনি তা, যা আমরা হয়া উঠব, যদি একই লগে আমরা আরো (অস্কার)ওয়াইল্ডীয় আরো নিৎশীয় হয়া উঠি। সে তা, যা আমরা হয়া উঠব, কেবল যদি কপালে থাকে। যদি ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা আর ক্রমহ্রাসমান সম্পদের লিগা গুয়া মারামারির নয়া পাশবিকতা আমরা উতরায়া উঠি। জ্যাকসনরে আর সে যা কিছুর প্রতীক – মানে ধরেন গিয়া অক্ষমতা, কৃত্রিমতা, দ্ব্যর্থবোধকতা – এডিরে আমরা আক্রমণ করি। আক্রমণ করতে করতে নিজেগো লাইগা এক অমায়িক ভবিষ্যতের ছক আঁকি। নেভারল্যান্ডে(১), যা কিনা এমন কিছু, যেটা নিষিদ্ধ, কলঙ্কিত আর দাঁত ক্যালায়া হাসি-মস্করার বিষয়। অথচ যখন কিনা আমাদের আক্রমণ-উপহাস করা উচিৎ সেসব নিয়া, যা স্বাভাবিকতা হিসাবে ধইরা নেয়া হয় – যুদ্ধ, অপচয় আর সবাই মিল্লা যা যা করি আরকি নিজেগো পুটকি নিজেরা মারার লিগা। সেই স্বাভাবিকতারে না ভ্যাঙ্গায়া আমরা মস্করা করি অস্বাভাবিকতা আর ফুলবাবুগিরি(Dandyism) লয়া। আর জ্যাকসনই তো চরম ফুলবাবু(Dandy), চরম অস্বাভাবিক। সে দিব্যি উইড়া বেড়ায় আমাগো সকল ‘হয় এটা নাইলে ওটা’-মেরুকরণের উপ্রে দিয়া এবং কখনোই মাটিত নামে না। সে পপের রাজা কি না, বিতর্কের বিষয়। কিন্তু সে যে ‘এটা মাগার ওটাও’-এর রাজা, তা নিয়া বিতর্কের অবকাশ নাই।

গ্রাফিত্তি ; প্রাপ্তিসূত্র - http://1.bp.blogspot.com/_Eifu7YT-CdQ/TQs2FZTPhrI/AAAAAAAAAWY/DWnlavrcUrA/s1600/MJ-Berlin.jpg
গ্রাফিত্তি ; প্রাপ্তিসূত্র – http://1.bp.blogspot.com/_Eifu7YT-CdQ/TQs2FZTPhrI/AAAAAAAAAWY/DWnlavrcUrA/s1600/MJ-Berlin.jpg

কী অসাধারণভাবে, নানা দিক দিয়া মাইকেল জ্যাকসন ‘এটা মাগার ওটাও’, ভাইবা দেহেন। সে কালো, মাগার সাদাও। সে প্রাপ্তবয়স্ক, মাগার একটা বাচ্চা। সে পুরুষ, মাগার নারীও। সে সমকামী, মাগার স্ট্রেইট। তার সন্তানাদি আছে, মাগার হে তাগো মা-দিগকে চুদে নাই। হে মুখোশ পইরা থাকে, মাগার তার আসল চেহারা দেখায়। সে হাঁটে, মাগার পিছলায়। সে দোষী, মাগার নির্দোষ। হেতে মার্কিন, মাগার বৈশ্বিক। সে লৈঙ্গিক, মাগার ক্লীব। হেতে চরম ধনী, মাগার ব্যাঙ্ক-ঘোষিত দেউলিয়া। হেতেনে জুডি গার্ল্যান্ড, মাগার এন্ডি ওয়ারহলও(২)। সে খাঁটি, মাগার সিন্থেটিক। সে অপ্রকৃতিস্থ মাগার প্রকৃতিস্থ, মানুষ মাগার রোবট, বর্তমানের মাগার ভবিষ্যতেরও। তার দাবী তাইনের গান আহে স্বর্গ থিকা, মাগার গানগুলান তিনি-ই বান্ধেন(লেখেন, সুরেন, গানেন, নাচেন)। হেতেরে কহনো ঠেহে যেন দুনিয়ার সবচায়া সৌভাগ্যবান বান্দা, মাগার কহনো বা সবচে দুর্ভাগা। তার কাজকাম তার খেলা, তার খেলাই তার কাজকাম। হেতে খ্রাপ, ব্যাড (‘Bad’) মাগার ভালও ভি। সে আশীর্বাদপুষ্ট, মাগার অভিশপ্ত। সে জীবিত, তয় তাত্ত্বিকভাবে।

গ্রাফিত্তি ; প্রাপ্তিসূত্র - http://mjpopculture.blogspot.com/2010/12/did-anyone-else-wonder-where-this-was_17.html
গ্রাফিত্তি ; প্রাপ্তিসূত্র – http://mjpopculture.blogspot.com/2010/12/did-anyone-else-wonder-where-this-was_17.html

কেবল এক দিক দিয়া মাইকেল জ্যাকসন ‘এটা মাগার ওটাও’ তরিকা ফলো করে না। সে আর যাই হউক, ‘বিখ্যাত মাগার সাধারণও’ নয়। যেইখানে কিনা দুইন্নার আর হগল তারকারা, কট্টর ‘হয় এটা নাইলে ওটা’-বাদী হইলেও, এই একখান জাগায় বিনয়ে গইলা দুইটা তালগাছই নিজের দখলে রাখবার চায়। হেগোরে যুদি কেউ জিগায়, “ভাই/মেডাম, আপনে নিজেরে কী মনে করেন, বিখ্যাত না সাধারণ?” – হ্যারা জোর দিয়া কয়, তারা এইডাও, ঐডাও – দুইডাই। এই একখান ব্যাপার, যেইখানে হার্ডকোর ‘হয় এটা নাইলে ওটা’-বাদীরা আজিবভাবে ‘এটা মাগার ওটাও’ কিসিমের জবাব বাইছা লয়। এইডা তারা করে প্রতিভাবান-অপ্রতিভাবান মামলাখান ব্যালেন্স করার লিগা – যে তেনারা প্রতিভাবান হয়াও যেন অপ্রতিভাবানদের ভেতর গ্রহণযোগ্য হন। এইডা অন্য কিছু না হবার বিপদ বা চ্যালেঞ্জ না লওয়া তাগোরে – প্রতিষ্ঠিত করে, পোক্ত করে স্বীয় অবস্থানে, পরিপার্শ্বে। হ্যারা প্রতিষ্ঠা চায়, প্রেরণা না। হ্যারা চায় না, হ্যাগো আটিশ-সেলিব্রিটিরা অন্যরকম, অন্য দুনিয়ার চাল-চলন বাইছা লউক, যে দুনিয়ার ভাও তারা বুঝেন না। দ্ব্যর্থবোধক, ভবিষ্যতের দুনিয়ারে তারা ডরান। তারা হাঁটেন বা ওয়াকেন, মুনওয়াকেন না, চন্দ্রাহত হন্টনরে তারা বিপজ্জনক ঠাওড়ান; তারা চান তাগো স্টারেরাও যেন নর্মালি হাঁটে।

তাই কইতাছি, ‘না-নামনের দুনিয়া’র(Never-Land) আজিব জীবের বিচার করতে বইছে কিনা ‘না-উড়নের দুনিয়া’র(Never-Fly) জীবেরা! হ্যারা নিশ্চিত তারে জেলেই হান্দাইবো। তারা নিজেরা যেরাম বাস্তবোচিত, সুবিন্যস্ত এবং অ-স্বাধীন – সেরামই দ্যাখবার চায় মাইকেলরে। পুরাই আজিব ব্যাপার। ‘হয় এটা নাইলে ওটা’র বাস্তবোচিত, সু-স্থাপিত, অ-স্বাধীন জীবেরা রূপকথার ডানা কাটনের লিগা উদ্ধত, বেপরোয়া। চাক্কু, চাপাতি আর কাঁচি ঝলসায়া উঠবার লাগতাছে নেভারল্যান্ড জুইরা। ডাইনির খোঁজে উইচহান্টারেরা মশালমিছিল বাইর করছে য্যান। পিটার প্যানরে হ্যারা রাস্তা দেহায়া, মাপায়াই ছাড়বো – কল্পনা থিকা বাস্তবে, আসমান থিকা জমিনে। তারে ঘেডি ধইরা নামাইব হ্যারা, ফিরায়া আনবো – জাতের ছাপ্পর মাইরা, লিঙ্গের ছাপ্পর মাইরা – ফিরায়া আনবো তারে সংকীর্ণ, সীমাবদ্ধ স্বচ্ছতায়।

যদি ধইরা নেই যে, জ্যাকসন বারান্দা থিকা লাফায়া আত্মহত্যা করবেন না (যেমনটা তিনি হুমকি দেন মার্টিন বশিরের ডকুমেন্টারিতে) – তবে লাইনে অন্তত আসতেই হবে তাকে – আমাদের ভবিষ্যতের অস্পষ্ট, সূক্ষ্ম, অস্থিতিশীল দশা থিকা রূঢ় বাস্তবে, বর্তমান ও অতীতের বাস্তবে আনা হবে তাকে। ‘হয় এটা নাইলে ওটা’র দুনিয়ার জয় হবে, ‘এটা মাগার ওটাও’র বিপক্ষে। কিন্তু ‘এটা মাগার ওটাও’রে হারাইতে গিয়া, লগে লগে অগোচরে নিজেগো ভবিষ্যতরেও হয়তো গলাটিপা মাইরা ফেলবে ‘হয় এটা নাইলে ওটা’র দুনিয়া। হারাইবো, মাগার নিজেও হারবো। ‘হয় এটা নাইলে ওটা’র এই বিজয় অনেকটা ‘এটা মাগার ওটাও’ কিসিমেরই।

মুনওয়াক ; প্রাপ্তিসূত্র - http://www.classgratis.com/wp-content/uploads/michael-jackson-dancing-moonwalk_8469_1.jpg
মুনওয়াক ; প্রাপ্তিসূত্র – http://www.classgratis.com/wp-content/uploads/michael-jackson-dancing-moonwalk_8469_1.jpg

নোটিকা –
(১) নেভারল্যান্ড –পিটার প্যানের জগত, যেইখানে কারো বয়স বাড়ে না, পরী উইড়া বেড়ায় ইত্যাদি। মাইকেল তার বাড়ির নাম রাখছিলেন নেভারল্যান্ড। পিটার প্যানের ভক্ত আছিলেন তিনি।
(২) জুডি গার্ল্যান্ড – অভিনেত্রী, গায়িকা, হলিউড-স্টার। এন্ডি ওয়ারহল – চিত্রশিল্পী, পপ আর্টের গুরু। উভয়ই সুপরিচিত। এন্ডি ওয়ারহলের আর্টের বিষয় ছিলেন জুডি। মানে লেখক মোমাস এইহানে মনে লয় বুঝাইবার চাইছেন যে, মাইকেল শিল্পী, মাগার শিল্পের বিষয়ও – সাবজেক্ট,অবজেক্ট উভয়ই।


মোমাস ; প্রাপ্তিসূত্র - http://en.wikipedia.org/wiki/Momus_%28musician%29
মোমাস ; প্রাপ্তিসূত্র – http://en.wikipedia.org/wiki/Momus_%28musician%29

[ মোমাস – আসল নাম নিকোলাস কুরি। স্কটিশ। পোস্টমডার্ন লেখক, মিউজিশিয়ান, সাংবাদিক, ব্লগার।

অনুবাদ – কাজী মুনতাসির বিল্লাহ। – নয় নাম্বার বাসের হেল্পারগণ ]

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s