নিদ্রাবর্ত – আজমাঈন তূর হক

নিদ্রাবর্ত

যকৃতে সঞ্চিত আলো নিভে গেলে শেষে
তোমাদের উপত্যকা ক্রমশ শীতল হতে থাকে
অবসন্ন রাত্রিদিন এই এক মুখ মনে পড়ে
যাকে তারা প্রতিদিন জ্বালায় আপন গিলোটিনে।
তবু তুমি এই ভোরে শাশ্বত সুরের নামে দেখো
অবশ আলোকে ভেসে পুনর্বার তাকাও এবার
কুহকী হ্রদের ধারে চিরদিন বসে থেকে,আলো-
আগুনের কাছে তুমি নিদ্রার রাখো ভুল ঋণ…

রূপালি বটের ধারে নীল ফণায়ন-

আহত প্রভুর মতো হে সরীসৃপ
তোমার আলোয় দেখো, চিনো লোলুপতা
কণ্ঠার লালায় লাল, বেভুল আত্মার জলে-
ভাসছে যে মৃতভ্রূণ, তার পীতহাসি
সফেদাবাগানে বারবার পাক খেয়ে ধুলিঝড় তোলে।

কার্বন আমিষ হাতে দরজায় দাঁড়িয়ে গীতল
রাতের শমন শুনে কাছে যদি নেমে আসো তবে
অনিয়তাকার আলো আগুনের রূপ ভেবে পরে
তোমাতেই দোল খাবে মিশ্রিত তোমার আঁখিরসে।

উদাসীন ঢেউ ধরে যদি নেমে আসো
চাঁদের সাথে মিলে এ মদ একান্তে করো পান
মৃত্যুর সিন্দুকে আজ; যেমন জংলাদিনের শেষে
রক্তাপ্লুত বেলফুল; তাকেও নিজের কাছে রেখো।

   হলুদ চোখের আঠালো আলোয় ধীরে
শৈশব স্মৃতি পাথর হয়েছে দেখো
যদি তার চোখে চোখ মরে গেলো তবে
লক্ষঅযুত রুবীমণিহীরা দেখো!

   মৃত বাসিলিস্ক তব দুর্গের নীল প্রকোষ্ঠে আজ
শান্ত শালিখ যকৃৎ ছেঁড়া ফিরছে আপন নীড়ে!

চুড়া থেকে নামে ধীরে স্বপ্ন সান্দ্র মেঘে
বাতাসের নামে তার অঙ্গ দেখো জাগে
নীল দুর্গের আকাশে-

   ভাসে সেই নাম;
যে নামে কাতর
অবশ নিথর
শিশির নামছে; আমিষে লবণে বিষ!

ঘোড়ার কেশর জুড়ে যতটা অসুখ জমে আছে
তাদের কণিকা সব অরণ্যের লালারেণু মেখে
আজব কুয়াশা হয়ে চিরদিন পথ রুধে থাকে
আবার অরণ্যে আজ ত্রিশূলবিদ্ধ ঋষি নাচে…

যে ব্যাকুল নাভিমূলে রেখে হাত নিদ্রা যাও এত
নদীকুলে শালবনে এখনো সে ধুলিসব মৃত
শৈশব গুহার পাশে যে তোমাকে দিয়েছে আশ্রয়,
অঘ্রাণ চাঁদের রাতে তুমি ঠিক ঘর ছেঁড়ে বের হয়ে চলো…

রে আহেরিমান শোন, আজ তোর ডানায় ডানায়
দেখবো গোধূলিকাল কীভাবে হয়েছে লীন ধীরে
চুপচাপ পাতার মর্মরে যাবো সেই দুর্গের উঠোনে।

সেখানে আগুণ জ্বলে
অন্ধকার তীব্র
করে তীব্র করে
করে প্রতিরাতে..

 

যাপন করি এইসব পাপভরা রাত্রি, ফসফরজ্বালা বিস্মৃতির হলুদ অক্ষিকোটরে লেগে থাকে
আঠা আর কান্নার রেখা, নোনাঘ্রাণে সমুদ্রতীরবর্তী নেকড়ের স্মৃতিতে তার জলজ জীবন
ফিরে ফিরে আসে।

জলের তলদেশে মিলে যাওয়া তেল ও লবণ; পার্শ্ববর্তী ভেজা গুহায়
লুকানো ছিল প্রাচীণ দ্রাক্ষার বন। লিকলিকে শিখায় জ্বলেছে কাম ও বোধিবৃক্ষ, তোমার
সরুদেহ। হিংসা আমার পবিত্র পানীয় হে নিবিড় আগুণ, শীতল করে করো দগ্ধ, তোমাতে
নিভিয়ে হই ছাই।
হাবিয়ার আলোতে আমি পড়ি লোহিত আদিপাপের উপকথা, এই বাগানে এসো
মিলেমিশে লীন হয়ে যাই ও সরীসৃপ; তোমার শিখায় জমাট বাঁধি এসো, তোমার জমকালো
শরীরে শরীরে সেই পিচ্ছিল বিগত জনম ঝিলিক দেয়, যার অংশবিশেষ
লুসিফারের শীতল দুর্গের কোটরে কোটরে গায় গান-

জীবন! জীবন!

'শিরোনামহীন' - জদিস্লাভ বেকশিন্সকি ; প্রাপ্তিসূত্র - http://www.wikiart.org/en/zdislav-beksinski/untitled-35
‘শিরোনামহীন’ – জদিস্লাভ বেকশিন্সকি ; প্রাপ্তিসূত্র – http://www.wikiart.org/en/zdislav-beksinski/untitled-35

ফটো - মইনুল হোসেন ধ্রুব
ফটো – মইনুল হোসেন ধ্রুব

[ আজমাঈন তূর হক – কবি, পাঠক। লিরিসিস্ট হিসেবে যুক্ত আছেন ‘ইলোপ’ ব্যান্ডে। অহন পড়তাছেন রেসিডেন্সিয়ালে, এইচ এস সি প্রথম বর্ষে – নয় নাম্বার বাসের হেল্পারগণ ]

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s