বিজন ধ্যানকেন্দ্র দেয়ালপত্রিকার শেষ সাক্ষী (চতুর্থ পর্ব) / রনি আহম্মেদ

[ শিল্পী রনি আহম্মেদের ধারাবাহিক স্মৃতিগদ্য ]

প্রেমের কলঙ্কের মাঝে এমন সুখ আছে, যা বেহেশতের লোভকে ও ভুলিয়ে দেয়, তাই তুমি লোভী না হয়ে প্রেমিক হও” — সুলতানুল হিন্দ গরীবে নেয়াজ হযরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (রহঃ)

(এটা একটা সময়ের গাথা, এখানে ২৫ /৩০ বছর বা ততোধিক সময়ের নানা গল্প , পুরানো অয়েল পেইন্ট এর ঘ্রাণ , টেক্সচার । …আর্ট, কালচার এন্ড লাভ। কারণ ভালবাসা এমন এক শক্তি যা টাইম স্পেইস এর বাইরে থাকে। জান্নাত থেকে দুনিয়ায় আসে এবং জান্নাতেই ফিরত। আর এই লেখা হলো হারানো জান্নাতের গোলাপ। এ সিটি অফ এন্ডলেস লাভ। যখন সমাজে মানুষের দেখা মিলতো। আমার অভিজ্ঞতার একটা বয়ান। যেখানে উঠে আসবে এমন সব ঘটনা যেসব সত্য কিন্তু একটা ড্রিম স্টেট থেকে দেখা। মেমোরি হলো জেগে থাকা স্বপ্নরাজ্যে ডুবে যাওয়া। এই লেখা সময়ের দীর্ঘনিঃশ্বাস বা এমন একটি গ্রহের কথা যার কোন একজিস্টেন্স আর নাই ,সমগ্র কসমোলোজিতে, কিছু গড পার্টিকেলে হয়তো আছে ।আমরা যখন লস্ট ইন স্পেইস টাইম, তখনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট থেকে একজন ফোন করে বললো পৃথিবীর শেষ প্লেন উড়ার বেশি দেরি নাই কারোরই ,এইটা শুনে আমি নিশ্চিন্তে ঘুমাতে গেলাম এবং লিখা শুরু করলাম।

/ রনি আহম্মেদ। )

My hands r touching your hair …
this real is your memory
my hands r touching your hair from
millenniums away..
as a ship of morphine
sluggish and soaked in a
shivering rainbow..
days r just a whisper
…. roads r blue
you r the dove from Noah’s ark
whiter in pain
but please
don’t call me now..let me finish the
last drop…
iv been waiting for you..
where everything is gone…
Sharon, all the flowers r bit sad
today…because i gave my
heart to a Diva..
standing in the coldest rain ever

(in memory of Sharon Tate)

বিজন ধ্যানকেন্দ্র ওয়াল ম্যাগাজিনে সেবার একটি শহর দেখা গেলো, , স্বপ্নের মাধ্যমে সেই অষ্টভুজ শহরের আবছা অস্পষ্ট একটা ঠিকানা আমরা পেলাম, শ্যারন বললো তুমি তো একটা কবিতা লিখেছিলে , ওটা কোথায় ,আমি বললাম ওটা তোমার মুখমণ্ডলে লিখা শ্যারন , আমি আয়না ধরলাম, ,……….তোমার মুখমণ্ডল আমাকে ডেকে যায়……যেন আমি এক সাদা পৃষ্ঠা…আর সেখানে তুমি কবিতা…যেন এক সাদা উড়ন্ত সাদা সারস…যার অভিজাত ছায়া রূপালী সাগরে…একটি চাঁদে ঘুমিয়ে থাকা…তোমার মুখমণ্ডল আমাকে ডেকে যায়..যেন আমি সবচেয়ে প্রাচীন গাছ….সামারকন্দের সরোবরে ভাসতে থাকা ম্যান্ডোলিনের শব্দ শুনছি…তোমার মুখমন্ডল আমাকে ডেকে যায়..যেন আমি এক পর্যটক..প্রতিটি দরজায় টোকা দেই,একেবারে শুধু শুধু…তোমার মুখমণ্ডল আমাকে ডেকে যায়..যেন আমি এক হারিয়ে যাওয়া দরবেশ ..নিজের হৃদয় লুকিয়েছি একটি জলন্ত গল্পের জন্য, তাবরীজের বাগানে…তোমার মুখমন্ডল আমাকে ডেকে যায়..যেন আমি এক তারা ভরা আকাশ..তোমার চোখের পলকের ভিতর….তোমার মুখমন্ডল আমাকে ডেকে যায়..কারণ আমি সেই ডাকের জন্যই জন্ম নিয়েছিলাম ….শ্যারন বললো এবার সমুদ্রে আমার দেখা পাবে ,মনে রেখো তোমার জন্য আরেক জগৎ থেকে এলাম এই ঢাকায় , তোমার বাসায়,সোনার ফ্রেম এ বাঁধিয়ে রেখো আমার ছবি তোমার হিয়ার-ই মাঝে, এবার বসন্তে ডেমিয়েন হার্স্ট চেরি ব্লসমের বড় বড় পেইন্টিং করলো , বললো সারা বাংলার মুখ ঢেকে গেলো সরিষা ফুলের গালিচায়, আমাকে পাওয়া গেলো প্রতিটি দরবেশের চোখ জুড়ে , আমি বিদায় দিলাম তোমাদের।
রাজকীয় সাদা জাহাজে আসলো রানী আন্তোয়ান, গিলোটিনের স্মৃতি মুছে দিতে আমার চেষ্টার ত্রুটি ছিল না, সোমা বললো,Returning from lunuganga was a long journey through the dark and deserted winding roads and glistening elevated expressway yet I was scared that we might be lost. We could sleep only 2/3 hours before starting for the airport passing through the quiet & empty streets of Colombo at 4 in the morning. It was surreal , আমি বললাম ,আমাদের রত্ন গুলো আমাদের সংগে আছে, জয়নুলের একটা পেইন্টিং এর কাক আর ভানগঘের কাক , পাশা পাশি বসলো , মনে হলো কাক গুলো একটা কোড , অষ্ট ভুজ শহরের খোঁজ দিলো ইমরান , ইমরান বললো দুই দিন হাঁটার পর ,নাক বরাবর যাবি , আমি বললাম কার নাক, ইমরান বললো সেটা আমার অজানা , অষ্ট ভুজ শহরে যখন আমরা পৌছালাম , ইমরান আর ইমন বড় চোঙা লাগিয়ে চারুকলার গেটে অদ্ভুত কিছু আওয়াজ করলো ,এইসব সম্রাট আকবররের শাসন আমলের কথা , অষ্টভুজ শহরে লুসি আমাদের স্বাগতম জানালো, শহরের গেটটা ছিল ক্রিস্টাল আইল্যান্ড থেকে আনা স্বচ্ছ হর্ন বিল আর ম্যাকাও পাখি দিয়া বানানো , অষ্টভুজ শহরে আটজন মেয়র , লুসি অন্যতম ,লুসি বললো যে কোনো শহর হলো একটা শূন্য স্পেস এর নকশা, শূন্য স্পেস মূলত তৈরি হয়েছিল জনগোষ্ঠীর মিলিত স্বপ্নের এক জটিল জিওমেট্রিক্যাল ইন্টারফেস এর মধ্য দিয়ে , তাই শূন্যতায় যেতে অনেক সাধনা দরকার , অনেক ত্যাগ , শূন্য হবার পর আসল যাত্রা শুরু হবে, শহরের হৃদয় তখনি খুলবে , অষ্টভুজ শহরে শিল্পী দীপা হকের একটা এক্সজিশন চলমান, এতো সেনসিটিভ কালার আর ফর্ম কার-ই বা আছে,সেই সময় মানুষ কত কোমল আর প্রেমময় ছিল পেইন্টিং গুলোই তার প্রমান ,শিল্পী দীপা হকের জন্য দক্ষিণের একশটা মেঘ থেকে বৃষ্টি নামলো, আমি ভাবলাম নুরুন নাহার পাপার চামড়ার উপর করা অনবদ্য কাজ গুলো জাদুঘরে নিশ্চুপ মানুষ দেখে, উনার বাসায় হোপি ইন্ডিয়ানদের মতো একটা বিডসের মালা পেলাম , উনার অনেক ধৈর্য্য নিয়ে বানানো, ওটা গলায় পড়ে আমরা হোটেল খুঁজতে গিয়ে একমাত্র একটা হোটেলই পেলাম, মরিসন হোটেল , হোটেল ম্যানেজার মাঞ্জেরেক আমাদের বললো , ইন্ডিয়ান ইন্ডিয়ান হোয়ই ডিড ইউ ডাই ফর ইন্ডিয়ান সেইড নাথিং এট অল , মরিসন হোটেলে রাজুকে দেখলাম লবিতে বসে আছে, হাতে নীল আকাশের চিঠি, পাশেই বাবার ডেটসন চেরি মেরুন গাড়িটা , যেটা বিক্রি করে মলিকে বিয়ে করেছিলাম ।অষ্টভুজ শহরে আরেক মেয়র ছিল যিনি আসলেই একজন অক্টোপাস , মরিসন হোটেলেই তার বসবাস , তিনি ছিলেন শিল্পী ও কবি উইলিউম ব্লেইক, হোটেলের খাবার আইটেম ছিল একধরণের দুর্লভ কুয়াশা,আমি কুয়াশার ভিতর নিজের চেহারা দেখতে পেলাম সিলভার কোটেড সাইনি থালায়। লুসি বললো যত তুমি দূরে যাবে তত তুমি কাছে আসবে , এটাই শূন্য তে যাবার উপায়।এর পর আসল যাত্রা। আমি দেখলাম , হান্সসলো পিয়ানোতে বসা, রবীন্দ্রনাথের একটা গান তুলছে, আনন্দ লোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্য সুন্দরও, হোটেলের বাইরে আসতে আমাকে ঘন কুআশা আর ঠান্ডা বৃষ্টির রেইন কোট জড়িয়ে ধরলো, এভাবেই অষ্টভুজ শহরে প্রথম দিন শেষ বা শুরু হলো…
বিজন ধ্যানকেন্দ্র ওয়াল ম্যাগাজিনে সপ্তাদশ শতকের একটা অজানা শিল্পীর ছবি দেখা গেলো,পালকি চড়ে একটা বধূ শ্বশুর বাড়ি যাচ্ছে, বরের বেশে যেই লোকটি পাশেই চলছেন, তিনি আর কেউ না, ভিনগ্রহবাসীদের একজন, তার নাম বলছি একটু পর , কোনো বই ও তার কোনো রেফারেন্স নাই , কিন্তু তার গাঢ় সবুজ গাত্র বর্ণ , উজ্জল সোনালী চোখ দেখেই আমি চিনতে পারলাম, এই ইয়াকুব দর্জি, যে কচ্ছপের মতো তার গলা বুকের মধ্যে ঢুকাতে আর বের করতে পারতো, যার দোকান ছিল এলিফ্যান্ট রোডে , উনি শুধু মৃত্যু পোশাক বানাতেন,যারা সুইসাইড করতে চায় বা মৃত্যুশয্যায়, তাদের জন্য,সোনালী আলখেল্লা বানায় দিতেন,তার নিজের সোনালী দ্যুতিময় চুল ছিল ,পালকি র বরযাত্রার ছবিতে ছিল বেশ বিকালের আলো , অনেকটা এলগ্রেকোর পেইন্টিংয়ের মতো নাটকীয়, আমরা সবাই অবাক হয়ে সারা শরৎ কাল পেইন্টিংটার সামনে দাঁড়ায় থাকলাম,এর মাঝেই খবর পেলাম বুড়িগঙ্গার ধারে ইয়াকুব এর লাশ পাওয়া গেছে , মাটি থেকে সাত ফিট উপরে ভাসন্ত , মাথা বুকের খঁচায় ঢুকানো অবস্থায় , একটা ভোজালি বুক বরাবর ,ইমরান বললো , এই লোক তোর কল্পনা থেকেই আসছে, তুই এর মৃত্যুর জন্য দায়ী , লুসি বললো , বিষয়টা এমন নয় ,ধরো একটা কিউব , তার চারি দিকেই একটা আলো আছে ,সেই আলো থেকেই সব হয় , আমি বললাম এখন কি করা, একজন পুলিশ কর্মকর্তা বললো ইটা আপনার কল্পনার ফলাফল, এই চরিত্র, তার খুন হওয়া , সো আমাদের কিছু করার নাই , আপনি আইনগতভাবে দোষী, আমি তাকে একটা গোলাপ দিলাম বসরাই শহরের , তিনি এতো খুশি হলেন যে সমস্ত অভিযোগ বাতিল করে গোলাপের গন্ধ নিতে নিতে রাজস্থানের একটা ময়ুরের সাথে শাহবাগের দিকে হাঁটা দিলেন ধীর গতিতে , এর পরে লুসি বললো তুমি কি জানো যা কিছু দেখছো করছো সবই কল্পনা?কিন্তু আমি জানতাম ইয়াকুব কোনো কল্পনা না , কারণ ইয়াকুবের তৈরি সোনালী রং মৃত্যু পোশাক আমার বাসার দাদার আমলের একটা ট্রাঙ্কএ আমি রেখে দিয়েছি, গোপনে , কালো টিনের ট্রাঙ্ক খোলা যায়না,বন্ধও হয়না , নিয়মটাই তাই ,তাই আমি একটা ট্রাঙ্ক বের করে অষ্ট ভুজ শহরে এলাম,কালো কয়লা রং ট্রাঙ্ক, ট্রাঙ্ক খোলা অনুষ্ঠানে সবাই আমন্ত্রিত হলো , কেউই পারলো না , শুধু কালো এবং , গভীর রাতময় এক সুন্দরী ট্রাঙ্কে হাত দিতেই খুলে গেলো ডালা , ফতেহপুর সিক্রির দানবীয় দরজা খোলার আওয়াজ যেমন, তেমন শব্দে , মরিসন হোটেল থেকে মানজারেকের কী বোর্ডের শব্দ আর গান ভেসে আসলো , কালো তা সে যতই কালো হোক , দেখেছি তার কালোহরিণ চোখ , মরিসনের গলার কোনো তুলনা নাই , ট্রাঙ্ক থেকে কৃষ্ণ সুন্দরী মৃত্যু পোশাক বের করে আমাকে দিলে, আমি গায়ে চড়ালাম, আর বুজতে পারলাম আম্মা চলে যাওয়ার সাথে আমিও অনেকটাই চলে গেছি , আম্মা বললো , তোমরা তো জানো না আমি কে, তোমরা তো জানায় থাকো, অজানায় থাকো না।


বহু বছর আগেই
আমাদের বছরগুলো

চলে
গেছে
বহু বছর আগেই
অগণিত ফেরেস্তা নিয়ে
গেছে
সময় এর আশ্চর্য বইটা
মনে করো একটি দ্বীপ
প্রদীপে দেখা মুখের
আদলে
রাতের আকাশ থেকে
দেখা গেলো
সমুদ্রে ফেলে আসা জীবন
তুমি কাকে
ভালোবাসতে
কার কাছে যেত
তোমার অলেখা চিঠির
পাহাড়
স্তব্ধতার নদী মুখে
তোমার আমার
সন্ধান পাওয়া গেলো
আমরা তো নবীজির
আলোয় হারিয়ে যাওয়া
হীরক দূতী
বনাঞ্চলের গভীরে
জিব্রাইলের সাথে
খিজিরের দেখা
সেই সবুজের কথা
কি আর বলবো তোমাদের
শুধু নিজেকেই জানাই
আর প্রতীক্ষায় থাকি
নবীদের স্বপ্নে
বাসন্তি রঙের পাখি ওড়ে
মহাকাশ জুড়ে
একটি লবণাক্ত দিন
তোমার চোখের দিগন্তরেখায়

অমর হয়ে
থাকুক…

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s