বিজন ধ্যানকেন্দ্র দেয়ালপত্রিকার শেষ সাক্ষী (পঞ্চম পর্ব) / রনি আহম্মেদ

[ শিল্পী রনি আহম্মেদের ধারাবাহিক স্মৃতিগদ্য ]

প্রেমের কলঙ্কের মাঝে এমন সুখ আছে, যা বেহেশতের লোভকে ও ভুলিয়ে দেয়, তাই তুমি লোভী না হয়ে প্রেমিক হও” — সুলতানুল হিন্দ গরীবে নেয়াজ হযরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (রহঃ)

(এটা একটা সময়ের গাথা, এখানে ২৫ /৩০ বছর বা ততোধিক সময়ের নানা গল্প , পুরানো অয়েল পেইন্ট এর ঘ্রাণ , টেক্সচার । …আর্ট, কালচার এন্ড লাভ। কারণ ভালবাসা এমন এক শক্তি যা টাইম স্পেইস এর বাইরে থাকে। জান্নাত থেকে দুনিয়ায় আসে এবং জান্নাতেই ফিরত। আর এই লেখা হলো হারানো জান্নাতের গোলাপ। এ সিটি অফ এন্ডলেস লাভ। যখন সমাজে মানুষের দেখা মিলতো। আমার অভিজ্ঞতার একটা বয়ান। যেখানে উঠে আসবে এমন সব ঘটনা যেসব সত্য কিন্তু একটা ড্রিম স্টেট থেকে দেখা। মেমোরি হলো জেগে থাকা স্বপ্নরাজ্যে ডুবে যাওয়া। এই লেখা সময়ের দীর্ঘনিঃশ্বাস বা এমন একটি গ্রহের কথা যার কোন একজিস্টেন্স আর নাই ,সমগ্র কসমোলোজিতে, কিছু গড পার্টিকেলে হয়তো আছে ।আমরা যখন লস্ট ইন স্পেইস টাইম, তখনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট থেকে একজন ফোন করে বললো পৃথিবীর শেষ প্লেন উড়ার বেশি দেরি নাই কারোরই ,এইটা শুনে আমি নিশ্চিন্তে ঘুমাতে গেলাম এবং লিখা শুরু করলাম।

/ রনি আহম্মেদ। )

বিজন ধ্যানকেন্দ্র ওয়াল ম্যাগাজিনে আলমীর এর নীল রঙের পেইন্টিংটা নিয়ে একটা ছোট লিখা আসলো পৃথিবী থেকে,…Artist Almeer drew his first painting on his ninth year on planet earth, and just after one year he left us all,this painting is a mysterious masterpiece , a prophetic view on his own departure which occurred year after. The Blue painting has a figure of Almeer in the middle , and actually there are two figures in one body shape, two face is facing right and left.and hands are like wings, as if he can fly away… Anytime he needs to,. The white shaded face is the soul, and the black one is the body.Two trees have four branches each and the left one has a lower branch that is a hand pointing finger in the sky,and its middle branch is a dead body standing strait towards the cosmos ..the pointing finger is the direction where his soul may starts its journey. Both trees from a distance resembles the peace sign and victory sign, in whole and by portion. There are 19 stars and a quarter of a big moon…bluish dark sky of dawn. A dismal cosmic ambience resemblance the picture of afterlife that we have in our mind , nineteen stars mean 1 plus 9 = 10, the age he left us forever. There is a bright star exactly middle of the painting , that divides the painting almost perfectly in to half, also the body wth two face in to half.Quarter of the big moon is like coming down,to experience the earthly life, which represents his short life span..Almeer signed the painting only with letter A..his initial. A is the symbol of Arc angel Jibrail (as)., wth his blessing Almeer drew this complex enigmatic masterpiece effortlessly, spontaneously. salute to this great visionary Artist. You will be remembered as an endless rose floating in an universe of our heart…এই অসামান্য পেইন্টিং আঁকার ক্ষমতা যার ছিল , মহান আল্লাহ পাক তাকে নিয়ে গেলেন দশ বছর বয়সেই। সীমা বললো ,And I am proud of being his mother. He gave me so much in his small lifetime. I still cherish his hugs, his smile and his love. I did not get a chance to see him grow out of his toys and turn into a man. He always will be my little boy till my last breath.
Everyday I struggle to accept that I can’t give u a shower or feed u with my own hand. I can’t sing a lullaby until u fall asleep in my arm. Motherhood is hard but it is more hard to accept tht Allah has decided to be taken care of him by angels and I accept Allah’s will.
But Baba I let you fly free but I am always loving you as long as I live. ❤️🌺,..আলমীরের চলে যাওয়ার সংবাদ পেলাম রাতে, সীমা অনেক কাঁদলো ,দুঃখের নদী বয়ে গেলো কতদূরে কেই বা জানে কিন্তু আলমীর ফিরে আসলো আমার আত্মার নৌকায় , মানুষের মৃত্যু হয় না,কারো না কারো সাথেই, কোথাও না কোথাও থাকে আজীবন, প্রতিদিন আলমীরের সাথে কথা হয় , সারা বাসা একদিন ওর আঁকায় ভরে যাবে, আমি অপেক্ষায় থাকি।
আমি ইমরানকে আলমীরের কথা বললাম , এবং জলপাই বন দিয়ে হাঁটা ধরলাম,মনে হলো আমরা সবাই জীবিত।
লুসি বললো , অষ্ট ভুজ শহর এখন আট জন মেয়র এর অনুমতিক্রমে সপ্তভুজ শহর করা হয়েছে, একজন মেয়র পদত্যাগ করে গোল্ড এর বিসনেস এ মনোযোগ দিয়েছেন ,তিনি মূলত স্বর্ণ খচিত মূল্যবান স্মৃতি মানুষের মস্তিষ্ক দেয় সংরক্ষণ পূর্বক ব্রিটিশ মুজিয়াম সহ বড় সব মুজিয়ামে চড়া মূল্যে বিক্রি করেন , স্বর্ণ খচিত মূল্যবান স্মৃতি তিনি অত্যন্ত সততার সঙ্গে এবং হাই সিকিউরিটির মধ্য দিয়ে সারক্ষণ আদান প্রদান করে থাকেন। একেকটা স্মৃতির মূল্য সর্ব নিম্ন ২০ মিলিয়ন ডলার। সর্বোচ্চ এক বিলিয়ন ডলার, পুরান ঢাকার এক রিক্সা চালকের অপূর্ব স্মৃতি এক বিলিয়ন ডলারে সদবী অকশন হাউসে নিলাম হয়, কিন্তু সাইড ইফেক্ট হলো এই বিসনেস , যিনি করবেন তার স্মৃতি ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ লোপ পাবে, স্পাইডার ম্যান এর উক্তি অনুযায়ী , লুসি বললো , ইটস এ গিফট। ইটস এ কার্স , আমি আর ইমরান জলপাই বনের গভীরে স্পাইডারম্যান এর ফেলে যাওয়া একটা পঁচিশ ফুট মহাশক্তিশালী মাকড়শা জালের সন্ধান পেলাম সবুজ কোমরসমান ঘাসের উপর। আর দূর এ একটা বিশালদেহি লম্বা গলার ডাইনোসর জলপাই পাতা খেতে দেখলাম, শেষ বিকালের আলোয় ডাইনোসরটি মায়াময় দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকালো, আলমীরের শেষ স্কেচ তা ছিল একটি ডাইনোসর, আমরা স্পাইডার ম্যান এর মাকড়শা জালটা টানতে টানতে সপ্তভুজ শহরের দিকে আগাতে থাকলাম।আমাদের চোখের জলে শেষ বিকালের ডাইনোসরটির প্রতিবিম্ব স্বর্ণকণার মতো জ্বলে উঠলো।

বিজন ধ্যানকেন্দ্র ওয়াল ম্যাগাজিনে ব্ল্যাক হোল নিয়ে একটা লিখা বের হলো দ্বাদশ শতকের শেষ দিকে, স্বরচিত কাল্পনিক ভাষায় লিখাটা লিখা,করিম কে বলা হলো এর অর্থ বের করতে , দীর্ঘ দুর্ভিক্ষকাল শেষ হবার পর , করিম উত্তর দিলো, “হ্যাঁ এগুলো নিয়ে আমি চিন্তা করেছি। ব্লাকহোল বিষয়ে আমার বিশেষ অভিজ্ঞতা আছে।”
“কেমন?”লাখো মানুষ এক যোগে প্রশ্ন করে।
একদিন আমি সকালে কালো সাউথ আফ্রিকান কফি পান করছিলাম , সেটা ছিল আসলে একটা লিকুইড ব্লাক হোল। আমি সেখানে ডুবে যাচ্ছিলাম ডুবে যাচ্ছিলাম আর ভাবছিলাম আমার মায়ের কথা, আমার মা আমাকে একটা ব্লাকহোলে টিকে থাকার ম্যাপ দিয়েছিল, সেটা একটা ত্রিভূজ যার মধ্যখানে আরেকটা ছোট ত্রিভূজ। আমি ম্যাপটাকে ব্যবহার করে এগিয়ে যেতে থাকলাম গভীরে। এক সময় আমি একটা অবারিত নীল সমুদ্রের সামনে এসে দাঁড়ালাম। সমূদ্রের মাঝখান থেকে বেরিয়ে এল আকাশ ছোঁয়া এক মাথা। মাথাটা আমার মায়ের। মা বলল, এই সমূদ্রটা আসলে তরল একটা প্রাণী। প্রাণীটার মূখ থেকেই যাবতীয় ব্লাকহোলের সৃষ্টি হয়। আর সেই মুখটাই আমি। এই বলে মা আমার মস্ত বড় হা করে, এরকম হা ত্রিকালের কেউই দেখেনি। সেই হা এর অন্ধকার থেকে একের পর এক ব্লাকহোল বেরিয়ে আসতে থাকে। আর তা দেখে আমার মূখও হা হয়ে যায় ,আমার মুখ থেকে একের পর এক নানা জাতের প্রজাপতি বেরিয়ে আসতে থাকে। সেগুলি একেকটা ব্লাক হোলে ঢুকে এমন আকার ধারণ করে যার দৈর্ঘ্য পঞ্চাশ লক্ষ সৌর জগতের সমান। আর সেই সব ব্লাকহোল ঘিরে এক সোনালী আভা অতীত বর্তমানকে ভাসিয়ে দেয় অপার্থিব আলোয় । আমার সারা শরীর সোনালী আর স্বচ্ছ হয়ে যায়, চোখ দিয়ে সোনালী ধোঁয়া বের হতে থাকে। এভাবে কত আলোকবর্ষ কেটে যায় সেটা নস্ট্রাডুমাস ও বলতে পারবে না এবং কিন্তু একদিন আমি ভেনিসের সান মর্কোর সিংহের নীচে বন্ধুর জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় নিজেকে দেখতে পাই। আর তখনই ভেনিসের মুখোশ গুলো আমার মুখমন্ডল চুরি করে নিয়ে যায়। আমি বুঝতে পারি গভীরভাবে, একবার যে ভেনিসে আসে সে আর কখনও ফিরে আসে না। ভেনিসের মুখোশগুলো নিয়ে যায় মানুষের মুখমণ্ডল আর মানুষ তার মুখমণ্ডল ফেরত পেতে বার বার ফিরে আসে কয়েকশো বছর ধরে, কিন্তু কি ভাগ্য যে, কেউই তা পায় না।উইচ হান্টিং এর নামে পুড়িয়ে মারা নারীদের আত্মাগুলো রাত্রি গাঢ় হলে ভেনিসের রাস্তায় নেমে পড়ে, আর কিছু মানুষকে নিয়ে যায় গ্রান্ড ক্যানালের উপর ভাসতে থাকা চন্দ্রগ্রস্থ মেঘ মন্ডলের মুক্তাখচিত রাস্তা গুলোতে , এই সব গল্প কেউ কাউকে বলে না, অতৃপ্ত আত্মা গুলো শুনে ফেলবে বলে, ওদের জন্য অনেকেই সাদা ফুলের বাগান করে তাদের অতীত জন্মের পুড়ে যাওয়া জমিগুলোতে।

বিজন ধ্যানকেন্দ্র ওয়াল ম্যাগাজিনে তোমার সাথে আমার আয়না বিনিময় হয় , ফলে করিম ছোট্ট ছেলেটিকে একটি আপেল খেতে দেয়। এই সেই আপেল যা নিউটনের সামনে পড়েছিল এবং পৃথিবীকে মধ্যাকর্ষণের সাক্ষী করেছিল । ছেলেটি আপেলে কামড় দেয় এবং মনোযোগ দিয়ে খেতে থাকে। ধীরে ধীরে চারিদিকে মধ্যাকর্ষণ কমে আসতে থাকে, কেননা এই আপেলটিই মূলত: মধ্যকর্ষণের জন্য দায়ী, কিন্তু ছেলেটি ক্রমে তা খেয়ে ফেলছে। সেহেতু করিমের শুন্যে ভাসমান বাসা আরও উপরে উঠতে থাকে। এই আপেলটি অনেকদিন ব্রিটীশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ছিল। কিন্তু ১৯১২ সালে তা চুরি যায় এবং চুরি করেন আইজ্যাক নিউটনেরই এক বংশধর। তার মৃত্যুর পর সেটা হাত বদল হয়ে হিটলারের হাতে পড়ে। হিটলার সঙ্গিনী ইভা ব্রাউন আপেলটিকে লুকিয়ে রাখেন এক ইহুদী বেহালা বাদকের দেহাবশেষের ছাই এর বাক্সে। নাৎসী বাহিনীর পতনের পর বাক্সোটি রাশান বাহিনীর হাতে পড়ে। তার বহুবছর পর প্রেসিডেন্ট গরবাচেভ বাক্সোটি সিআইএ-র কাছে একটা ম্যাকডোনাল্ড ডাবল চীজ বারগারের বিনিময়ে খায়বার গিরিখাদে এক গোপন বৈঠকে হস্তান্তর করেন। সিআইএর হেড কোয়ার্টারে বেশ কিছুদিন পড়ে থাকার পর, সেখানকার এক ডেপুটি ডিরেক্টর সেটা পুরাতন অকেজো ফল হিসাবে ফেলে দেন পার্শবর্তী ডাস্টবিনে। ডাস্টবিন থেকে এক হোমলেস সেটা কুড়িয়ে তার এক নিউইয়র্কের প্যাগাসাস এন্টিক শপে সেটা বিক্রি করে দেয় ১ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে। নব বিবাহিত দম্পতি সিওসিসেস এডওয়ার্ক সেটা ক্রয়পূর্বক তাদের বাসার স্পট টেবিলে ফেলে রাখেন। পরবর্তী সফরে তারা থাইল্যান্ডের নিকি বিচে বেড়াতে গেলে সেটা তারা সঙ্গে নিয়ে যায় এবং ভুল করে আসার সময় ফেলে রেখে আসে। রিসোট ম্যানেজার জনাব উইলি ডিবেনসন তার বউকে উপহার হিসাবে বাক্সোটা দেয়। পরবর্তীতে রিসোর্টে ঘুরতে আসেন হলিউডি তারকা ডেভিড নিভেন। ডেভিড নিভেনের সাথে সখ্য হয় উইলি ডিবেনসনের স্ত্রী। সেই স্ত্রী-ই নিভেনকে জিনিসটি হস্তান্তর করে। নিভেনের সাথে ক্রিইস্টিসের এক আর্ট ডিলারের বন্ধুত্ব ছিল। যার ফলে বাক্সোটি কোনো অখ্যাত শিল্পীর শিল্প হিসাবে ক্রিস্টির অকশনে উঠে। ঘটনা ক্রমে করিম অকশন চলাকালীন সময় সেখানেই ছিল এবং সে জোর গলায় দাবি করে শিল্পকর্মটি তারই করা, বাক্সের মধ্যে ইহুদী বেহালাবাদকের দেহাবশেষের ছাই এবং নিউটনের সেই বিখ্যাত আপেল করিমের দাবীর কাছে কোন রহস্যময় কারণে ক্রিস্টির অকশান কর্তৃপক্ষ হার মানে এবং করিমকে তা ফিরিয়ে দেয়। কমির ছেলেটির আপেল খাওয়া দেখতে দেখতে এমন কিছু মনে করার চেষ্টা করে যা তার মনের মধ্যে নেই। ছেলেটি বড় চোখে তাকিয়ে প্রশ্ন করে, তুমি কি ভাবছো এটাই সেই আপেল যেটা বেহেশতে ছিল?আর সেটাই মাধ্যাকর্ষণ শক্তি রূপে দুনিয়ায় পড়ে যায়?আর মানব জাতি মাধ্যাকর্ষণ জন্য বেহেশতে ফিরতে পারে না ? করিম বললো অবশ্যই তাই , এর বাইরে কি বা হতে পারে?

বিজন ধ্যানকেন্দ্র ওয়াল ম্যাগাজিনে দেখা গেলো তোমার তারাভরা অনন্তে ম্রিয়মান মায়াময় সুরেলা দুই আঁখি , আন্দালুসিয়ার ঝিমিয়ে পড়া বিকালের আলো এসে ভরালো আমাদের জীবন, ইমরান বললো চল এমন কোথাও যাই যেখানে আয়নার বাগান আর ময়ুর এ ঢাকা অনেক বছরের পথ,আমরা হাত ধরলাম , লাল আর নীল কাঠি লজেন্স মুখে পুরে, তুরাগ নদীর পারে বাজারে এসে দেখলাম ৫ মন ওজনের বাঘা আইর মাছ , আর ওটা দেখার জন্য হাজার মানুষ,ভিড়ের মধ্যে একজনকে চিনতে পেলাম , তার হাতে কম্পাস, বাঘা আইর মাছ এর মুখ হা করা, যেন কি দেখা গেলো , ৩০ ইঞ্চি হা এর মধ্যে, ইমরান হাত ঢুকিয়ে মুখ থেকে চারকোনা বাঁধানো জিনিসটা বের করলো , ওটা আসলে একটা বাঁধানো পেইন্টিং,রেমব্র্যান্ড এর আঁকা ছোট অয়েল পেইন্টিং , সেলফ পোর্ট্রেট , অসাধারণ নাটকীয় আলো ছায়ার খেলা,আমস্টারডামে দেখা নাইট ওয়াচ পেইন্টিংটার একটা অংশ পাওয়া যায় নাই , আসলে ওই অংশটাই এই কোনো এক জায়গায় এই সেলফ পোর্ট্রেট পেইন্টিংটা ছিল, কেউ ওটা ফ্রেম করে নদীতে ফেলে , আর সেখান থেকেই এই মাছের পেটএ , এবং পুরা ঘটনাটাই লিখা পেইন্টিংটার পিছনে , কম্পাস হাতে লোকটা এসে হঠাৎ মাছের মালিকের উপর চড়াও হলো,বললো ও আসলেই পেইন্টিং চোরা-কারবারি , মাছের পেটে এক দেশ থেকে আরেক দেশে পেইন্টিং পাচার করে, কিন্তু সবাই সুখস্বপ্নে ছিল এতো বড় মাছটাকে খাবার , তো হঠাৎ সবাই ঝাপায় পড়লো মাছটার উপর,এবং কাঁচা-ই কামড়ে খাওয়া ধরলো ,মালিক ভয়েই দৌড় , কম্পাস ওয়ালাও মালিকের পিছে দৌড়, তার হাত থেকে কম্পাসটা পড়লো, ইমরানের কাছে পেইন্টিং,কম্পাস তুললাম আমি , আর দিলাম দৌড় , কম্পাস দেখে আমরা টঙ্গী বাজার থেকে শাহবাগ হয়ে জাদুঘরে পৌছালাম, জাদুঘর কতৃপক্ষ পেইন্টিংটার বদলে বাঘা আইর মাছটার প্রতি বেশি আগ্রহ দেখালো , আমরা বললাম ওটা তো রেমব্রান্ড খেয়ে ফেলেছেন , ইটা শুনেই অনেকেই কাঁদলো, অনেকেই বিদেশে চলে গেলো,.আমরা ভাবলাম এরচেয়ে আর কি ভালো হতে পারে, যে কৃষ্ণচূড়ায় লাল হলো সারা শহর?
আমরা হাঁটতে হাঁটতে এসে দাঁড়ালাম ধানমন্ডি লেকে , আর তখনি ওই ৫ মনি বাঘা আইর পানি থেকেই মুখ বাড়িয়ে আমাদের দিকেই তাকালো ,তার সারা শরীরের রক্ত পানি লাল করেছে, যেন আলতা দেয়া একটি বিকাল, ,মানুষের কামড়ে এই যন্ত্রণার গালিচা তাকে জড়িয়ে আছে , তার তাকানোর মধ্যে দেখলাম তোমার তারা-ভরা অনন্তে ম্রিয়মান মায়াময় সুরেলা দুই আঁখি..এর পর কত মৌসুম চলে গেলো ,কত ধানের নৌকা পার হলো পদ্মায় , কত পাখির মৃতদেহ ভেসে গেলো তুরাগে , তোমার সাথে আমাদের আর দেখা হয়নি।ভালো থেকো। যত্ন নিয়ো।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s