বিজন ধ্যানকেন্দ্র দেয়াল পত্রিকার শেষ সাক্ষী ( ষষ্ঠ পর্ব)/ রনি আহম্মেদ

[ শিল্পী রনি আহম্মেদের ধারাবাহিক স্মৃতিগদ্য ]

প্রেমের কলঙ্কের মাঝে এমন সুখ আছে, যা বেহেশতের লোভকে ও ভুলিয়ে দেয়, তাই তুমি লোভী না হয়ে প্রেমিক হও” — সুলতানুল হিন্দ গরীবে নেয়াজ হযরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (রহঃ)

(এটা একটা সময়ের গাথা, এখানে ২৫ /৩০ বছর বা ততোধিক সময়ের নানা গল্প , পুরানো অয়েল পেইন্ট এর ঘ্রাণ , টেক্সচার । …আর্ট, কালচার এন্ড লাভ। কারণ ভালবাসা এমন এক শক্তি যা টাইম স্পেইস এর বাইরে থাকে। জান্নাত থেকে দুনিয়ায় আসে এবং জান্নাতেই ফিরত। আর এই লেখা হলো হারানো জান্নাতের গোলাপ। এ সিটি অফ এন্ডলেস লাভ। যখন সমাজে মানুষের দেখা মিলতো। আমার অভিজ্ঞতার একটা বয়ান। যেখানে উঠে আসবে এমন সব ঘটনা যেসব সত্য কিন্তু একটা ড্রিম স্টেট থেকে দেখা। মেমোরি হলো জেগে থাকা স্বপ্নরাজ্যে ডুবে যাওয়া। এই লেখা সময়ের দীর্ঘনিঃশ্বাস বা এমন একটি গ্রহের কথা যার কোন একজিস্টেন্স আর নাই ,সমগ্র কসমোলোজিতে, কিছু গড পার্টিকেলে হয়তো আছে ।আমরা যখন লস্ট ইন স্পেইস টাইম, তখনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট থেকে একজন ফোন করে বললো পৃথিবীর শেষ প্লেন উড়ার বেশি দেরি নাই কারোরই ,এইটা শুনে আমি নিশ্চিন্তে ঘুমাতে গেলাম এবং লিখা শুরু করলাম।

/ রনি আহম্মেদ। )

……………………………………………………………………………

বিজন ধ্যানকেন্দ্র ওয়াল ম্যাগাজিনে সেবার ভাসতে দেখা গেলো নিদ্রাতুর এক অবয়ব, দূর সমুদ্রে , কেউ বললো মানুষ, কেউ নীল তিমি, কেউ বললো টাইটানিকের কোনো যাত্রী, কিন্তু সুমদ্রতটে যখন আসলো, সেটা এক ঝাঁকড়া মস্ত আম গাছ , প্রতি ডালে বড়ো বড়ো সব ফজলি, মানুষ ঝাপায় পড়ে আম খেতে গেলে গাছ চিৎকার করলো, সব ঝুট হ্যায় , সব ঝুট হ্যায় , মানুষ ভয়েই দৌড়, ভাবলো কোনো জীন , গাছটি করিম কে কাছে ডেকে নিলো , বললো আমি অচিন দ্বীপের রাজপুত্র,

সেই ষোড়শ শতাব্দী থেকে আমি ভাসছি সাগরে,এক ডাইনি আমাকে একদিন ফজলি আম খেতে দেয় ,ওটা খাবার পর আমি আম গাছে রূপান্তরিত হই,তারপর সে অবিকল এলিজাবেথ টেলরের রূপ ও শরীর ধারণ করে , আমার বাবা , অর্থাৎ দ্বীপের রাজাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে ,এবং মা-কে বিষ প্রয়োগে হত্যা করে আর একদিন মাঝরাতে বাবাকে জীবন্ত খেয়ে ফেলে ,এরপর দ্বীপের সমস্ত ক্ষমতা নিজের আয়ত্তে নিয়ে রাণী হয় ,একদিন সমুদ্রের ভাঙ্গনে আমি ভাসতে থাকি , কত কি যে দেখলাম তা তোমরা কল্পনাতেও আনতে পারবা না , এখন তুমি আমাকে আবার এই সমুদ্র তীরে রোপন করো , করিম এক হাজার একশো মানুষ দিয়ে প্রায় তলাবিহীন আর সাতটি পুকুর সমান এক গর্ত করলো সি বিচে, এরপর তিরিশ তলা উঁচু গাছটা মহিষের চামড়ার পাকানো দড়ি দিয়ে টেনে খাড়া করে , সাত দিন সাত রাত প্রচেষ্টার পর মহাগর্তে রোপন করা হলো।

এরপর গাছ আবারো কথা বললো , করিমকে নির্দেশ দিলো যেন এই মানুষ গুলো তার ডালে চড়ে বসে, সঙ্গে সঙ্গে হাজার মানুষের ঢল গাছে উঠা শুরু করলো, তারা গিজ গিজ করে ছেয়ে ফেললো সারা গাছ ,আর আম ছিড়ে খাওয়া শুরু করলো , আর তখনই তারা রূপান্তরিত হলো এলিজাবেথ টেলরে, হাজারের অধিক অবিকল এলিজাবেথ টেলর আম খাচ্ছে ডালে ডালে ,সমুদ্রের হাওয়ায় তাদের চুল উড়ছে , সূর্যাস্তের আলোয় চারিদিক যেন নিশ্চুপ কোনো অচিন দ্বীপ ,গাছ করিমের কানে কানে বললো , তুমি আমার ছবি আঁকো করিম,লুসি বললো , আমাকে ভুলে যেও না করিম, করিম ক্যানভাসে রং চাপালো, আকাশে গাঙচিলের দূরবর্তী রেখা, সূর্যাস্তের আলোয় ঝাঁকড়া আম গাছে, ডালে ডালে এলিজাবেথ টেলর , আম খাচ্ছে,পেইন্টিংটা শেষ হলেই গাছটা সবাইকে নিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেলো ,আর তার সামনে এসে দাঁড়ালো অনিন্দ-সুন্দর এক রাজপুত্র , ঝলমলে রাজকীয় পোশাক , মাথায় পাগড়ী ,গলায় মুক্তার মালা, হাতে হীরা পান্না, জমরুধদর আঙটি , করিম বুঝলো ,এই সেই আম গাছরুপী রাজপুত্র

রাজপুত্র বললো , অনেক অনেক ধন্যবাদ করিম , চারশো বছরের অভিশাপ থেকে আপনি আমাকে মুক্তি দিলেন, ছবিটা আঁকার ফলে ডাইনির জাদুর অভিশাপ কেটে গেলো, এখন আমি আমার দ্বীপে ফেরত যাবো , এবং ডাইনিকে হত্যা করবো , এখন বলেন প্রতিদানে আপনি কি চান?করিম বললো , আমি চাই আপনার বাবা মা জীবিত হয়ে আপনার জীবনে আবারো ফিরে আসুক ,করিমের কথা শুনে কাঁদতে কাঁদতে রাজপুত্র বালুতে গড়িয়ে পড়লো , একসময় বললো, আমি যাই করিম , আপনি ভালো থাকবেন , বিদায় বন্ধু , রাজপুত্র হাঁটতে হাঁটতে রওনা দিলো সমুদ্রের দিকে। দিগন্তে টাইটানিকের চিমনি গুলো দেখা গেলো , সেগুলো থেকে ধোয়ার হালকা আভাস, ,রাজপুত্রকে অচিন দ্বীপে নিয়ে যেতে এসেছে, সমুদ্রের গহীন তলদেশ থেকে ।

বিজন ধ্যান কেন্দ্র ওয়াল ম্যাগাজিনে একটা লাইন ছিল, কবি মজলিশ মনিবেদনার লিখা ‘কে জানে কোন আমি কোন আমাকে ডাকে’, এই লাইনটা পরে প্রত্যেকের বুকের লিখা হলো , কেউ বললো মুচকুন্দ ফুলের বাজারে কচুর বস্তায় এক মন ইনটেলিজেন্ট ব্যাঙ পাওয়া গেছে , যারা মানুষের ভাষায় কথা বলে ,আমি দেখতে গেলাম এবং NTV তে আমার ইন্টারভিউ নেয়া হলো, এই ব্যাং গুলা নিয়ে আপনার কি ধারণা ?আমি বললাম কচু ধারণা , ওরা আমাকে বের করে দিলো, আমি রাস্তায় পড়ে থাকা একটা কাগজ পেলাম , ওখানে লিখা একটা ফোন নম্বর , সিলভানার পাশে, ফোন বুথ থেকে ফোন করলাম, ফোন ধরলো শিল্পী এস এম সুলতান, তার সাথেই দেখা করবো প্ল্যান ছিল , কিন্তু তিনি দুনিয়া ত্যাগ করলেন, কিন্তু বহু পরে এস এম সুলতান কে নিয়ে নাসির আলী মামুন আমার বাসায় আসলেন,আমি বললাম এই ভাবেই কেউ মারা যায় না, তাজমহলের পাশে এস এম সুলতান আর নাসির আলী মামুন দাঁড়ানো আছেন চিরকাল, নাসির আলী মামুনকে দেখা গেলো তাল গাছের সারি দিয়ে মাতাল রাজ্জাকের সাথে হেঁটে যেতে , তার জন্য অনেক সাদা মেঘ অক্ষেয় ফুটলো সেবার ,এর আগেই রাজু আলাউদ্দিন বোর্হেসকে নিয়ে আসছিলো , বোর্হেস বললো আপনার সাথেই আমার এন্ড্রোমিডায় দেখা হবে, আমি বললাম রাজুর জন্য আপনার পোর্ট্রেট করা আছে, গভীর রাতে লুসি র সাথে দেখা, LUCY র ব্রেন ১০০ পার্সেন্ট ইউস হয় ,লুসি ডাজন্ট এক্সিস্ট ,আবার সে কল্পনাও না, প্যাসিফিকের জাহাজগুলো লুসিকে খুঁজে,ইয়ামিন আমার বাল্য বন্ধু, কক্সবাজারে ইকথিয়ান্ডার এর সাথে সমুদ্র গভীরে চলে যায় , তার কোনো ছবি আঁকা হয় নাই, আমরা রিক্সার নম্বর লিখতাম খাতায় , কে কত পারে…

বিজন ধ্যান কেন্দ্র ওয়াল ম্যাগাজিনে একটা আয়না ছিল ওখানে দুনিয়ার সব দেখা দিতো,অতীত বর্তমান ভবিষ্যত। আর নিভতে থাকা দূরের দ্বীপাঞ্চল, লুসি তখন বললো তুমি কি জানো , এই জগৎ তোমাদের একে অন্যের ভালোবাসা?এই বস্তুসকল, এই মহাবিশ্ব, সব আসলে গভীর অতল প্রেমের বস্তু রূপ , আমি অবাক হয়ে তাকালে লুসি আমাকে বললো তুমি কি আমাকে নিয়ে যাবে মাঝি?….আমি জানি লুসি আমার কল্পনা না, কিন্তু সে যে কে আর কোথায় তাও জানা নাই….জীনাত একদিন ওই আয়নার সামনে দাঁড়ালো , এবং তার প্রতিবিম্ব বললো, আমি আসল, তুমি দূরের , আমার নাম সোমা। তাই আমি সোমা আর জীনাত ইজুমি তে খাওয়াটা খেয়ে নিলাম , আর সবাই জানে জাপানি খাবার খাওয়ার সময় কুরোসাওয়া’র কোনো ফিল্ম নিয়ে আলাপ করাটা কতটা জরুরি ,আমি জীনাত আর সোমা একমত হলাম আমরা সবাই একজন ব্যাক্তি। আমি আর সোমা জীনাত কে বাসায় পৌঁছায় দিলাম,তারপর মুভেন পিক এর আইস ক্রিম মতো মেঘ উঠলো আকাশে। ঘনঘোর বর্ষা কাল শুরু হলো,এই জন্য জীনাত আড়াল হলো , সোমা বললো , ইউ আর অলওয়েজ গুড উইথ ওয়ার্ডস, আমরা ভাবলাম কবি আবুল হাসানের কথা ,সোমা ডায়মন্ড এন্ড রাস্ট গানটা পাখিদের গাইতে শুনলো , আমি তখন তন্দ্রায় দেখতে পেলাম বাবা আজিজ আমাকে নিতে আসছে ,…আমি আর সৈয়দ সাজ্জাদ আহমেদ একটা গ্যালারিতে গেলাম, সাজ্জাদের মাথায় পাগড়ি , লম্বা ঝোলা ড্রেস,সাজ্জাদ বললো , দুনিয়া আমাদের কিছুই দিবে না , এর সম্পদ সীমিত।.সাজ্জাদের মতো বড় কবি বাংলায় কম হবে ,অথচ কজন বুঝলো বলেন ?শিল্পী মনিরুল ইসলামের বাসায় বহু কাল কাটলো আমার , বাংলার নদীর মতো মানুষ তিনি, নদীর ঢেউ থেকেই আসা পেইন্টিং , উনার অনেক পেইন্টিং এর নাম দিয়া দিলাম। সিনজিং ট্রিস এন্ড ক্ৰয়িঙ এঞ্জেলস, উনার মতো কাব্যিক ছবি কার একবার বলো ? হৃদয়ে তার বাড়ি রেখে দিয়েছি , নরওয়েতে মুনখ এর একটা পেইন্টিং এর সামনে দাঁড়িয়ে মনে হলো ,জীবনের বিষণ্ণ দিক গুলো এই শিল্পী গভীর আনন্দের সংগে বুঝতো…

তো মোল্লার দোকানে দাদু র কাছে মালা কিনলাম ,অচেনা কাউকে দিবো বলে দাদু বললো লোকটি আকাশে মাছ ধরতে যায় , আমি বললাম আজকের ফ্লাইটে চলে যাচ্ছি দূর গোপন দেশে , দাদু বললো , তিনশো বছরের আশীর্বাদ , দাদু পাঁচশো বছর দূর থেকে আমার দিকে তাকালো, তখন লিওনার্দোর সময় কাল , ফ্লোরেন্স , আমি বললুম মোনালিসার রহস্য আমি জানি , দাদু বা লেওনার্দো খুবই অবাক হলো , কিন্তু দাদু সেটা শুনতে চাইলো না , মোল্লার দোকান থেকে ফ্লোরেন্স দেখা গেলো স্পষ্ট,কারণ সেদিন হরতাল ছিল ,আমি ঋষি ভাইকে বললাম নেউয়র্কে এখন করা থাকে?উনি বললেন , এই সব নিয়ে তোমার চিন্তা নাই , কারণ আমরা তো একটা রকেটের ধ্বংসাবশেষ।। বলেই উনি উনার স্কেচ খাতা বের করলো, মুনেম ওয়াসিফ ত্রি হান্ড্রেড ফিল্মটার মাধ্যমে স্পার্টানদের সাথে যোগাযোগ করলো, স্পার্টানদের সাথে নিয়ে আমার বাসায় আসলো,আমার সারা মুখে মুড়ি লাগানো ছিল , ফেস বুলেট প্রুফ করার জন্য, ,অসাধারণ কিছু ছবি তোলা হলো , ঢাকা ক্লাবে ডেপার্টের ওপেনিং এ রিতুর সাথে দেখা হলো , একটা ট্রেন আসলো আমাকে নিবে বাসার দরজায়,আমি জানতাম ইমরান কোনো একটা কামরায় আছে,জিনাত বললো বনানীতে অনেক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের লোকজন ঘুরে বেড়ায় আমরা শ্রীলংকা গেলাম , জীনাত বললো এখানে সমুদ্রে তোমার বাড়ি আছে , আমি দূর থেকে মনিকা বেল্লুচিকে দেখলাম , শ্রীলংকার বিচ এ ,জ্যাকসন পলাক তার বডি পেইন্ট করছে ,সমুদ্র অবাক হলো এই সৌন্দর্য দেখে , কাঁদালাময় জেফরি বাউয়া আমাদের কয়দিন থাকতে দিলো , সিগারিয়ার কথা কার না মনে আছে? সিগারিয়াতে মুরালগুলো পদ্ম হাতে তোমাকে ডাকল। নড়াইলে যখন গেলাম তখন সুলতানি রাত ,আকাশ ভরা সমুদ্র ,প্রাচীন বাংলার রূপ , মনে হলো আদি পৃথিবীর কিছু নীল রত্ন এখনো জ্বলছে, সুলতানের নৌকাটা আমাদের ঢাকায় পৌঁছিয়ে দিলো ,নৌকাটা যখন চলছিল তখন দেখলাম সারি সারি আদিগন্ত ফেরেস্তা, আকাশ ঢেকে গেলো ডানায়, সেবার পহেলা বৈশাখের মিছিলে একটা বাঁশ ও কাগজের ২৫ ফুট টিয়া পাখি জীবিত হলো, দাদুর মালাটা টিয়াকে দিলাম, মানুষ দেখলো ডানা মেলে চলে গেলো সবুজ আলোর রেখা , দাদুর মালাটা টিয়াকে দিলাম যেন আমাকে মনে রাখে তার প্রতিটি জন্মে…

বিজন ধ্যান কেন্দ্র, ওয়াল ম্যাগাজিনে একটা সাদা বিশাল আকৃতির জাহাজ এসে থামলো,যেন এরকম জাহাজ পূর্ব দুনিয়ায় আর দেখা যায়নি এমনি তার রূপ, চারুকলার গেট এ এসে থামলো, সেখান থেকেই নেমে আসলো এক উচ্ছল পাহাড়ী ঝর্ণা, আমরা বুঝলাম এইটা কারো অশ্রুধারা , ইমরান বললো চল বের করি কে এই অশ্রু ধারার মালিক ,সাইফুল বললো তোমরা আমার ঘরে উঠো , তীব্র বেগে ঘোড়া ছুটলো , আমরা পৃথিবীর বায়ু মন্ডল পার হলাম , নক্ষত্রের বাটি উল্টায় গেলো আমাদের উপর,দূর থেকে আমরা মাইল মাইল লম্বা এক মুখমন্ডল দেখতে পেলাম , আমরা এইরকম অবাক আর হই নাই ,মুখমন্ডলের কাছে আসতে বুঝলাম এইটা আমারি মুখমন্ডল ,আর ঝর্ণাধারার মতো যে অশ্রু , ওটাও আমার , শেষ পৃথিবীর জন্য আমার হৃদয়-ভাঙা কান্না …আমরা আবার পৃথিবীতে ফিরলাম ,বেঙ্গল গ্যালারিতে তখন গোইয়ার প্রিন্ট শো , মানব জীবনের এমন ছায়াময় অন্ধকার রিয়েল কিন্তু মেটাফিজিক্যাল ছবি গোইয়া ছাড়া এমন মহৎ হৃদয়ে কেউ আর ফুটাতে পারেনি , পরবতীতে প্যারিসে বাস্তিল দুর্গের পাশ দিয়া যেতে যেতে আমার মনে হয়েছিল ,ইতিহাস হলো কালেকটিভ মেমরি , একটা বাজার , সেই বাজার থেকে চন্দন কাঠের একটা ফ্রেম করা তোমার ছবি পেলাম ফ্রাঙ্ক ঘেরির ডিজাইনে করা লুই ভূতন ফাউন্ডেশন বিল্ডিং এ কাঁচের সুবিশাল পাল যেন একশ মুখী , ঘেরীর ডিসাইন এমনি , আর ড্যানিয়েল বুউউরেন এর বহু রঙা গ্লাস ওয়ার্ক , ওখানে ওলুফার ওলসন এর একটা এক্সিবিশন চলছিল , অদ্ভুত আলো এর মাস্টার এই শিল্পী , সেই আলোতেই দেখা হলো তোমার ছবিটির সঙ্গে , তুমি ভালো থেকো , যেখানে আমি থাকবো না …সাদা জাহাজের এই অশ্রুধারা নিয়ে অনেক কথা হলো, নিউস টিভি চ্যানেল সবজায়গায়, মানুষ পাগল হয়ে গেলো ,কত রকম কাল্পনিক কথা ছড়ালো , কেউ বললো আমরা তো একটি গল্পের অংশ মাত্র. কেউ বললো জীবন দ্বিতীয় বার আসে না, কেউ স্টাম্পের মধ্যে লুকালো বিভিন্ন দেশের, আমি ইমরান আর সাইফুল হাসলাম ,ভাগ্য ভালো আমাদের সঙ্গে সাইফুলের সাদা ঘোড়াটা ছিল , লুসি বললো , তোমার চোখের মায়া শেষ হবার নয়…সোমা বললো ,Visiting the city of Los Angeles gave me a strange sense of nostalgia. It was like revisiting my memories of growing up watching all those movies and tv series from the 70s and 80s, shot in LA. Things looked so familiar and like a part of my childhood. Like a time capsule. Yet the city lives and breathes and keeps on producing new materials new performances new films new talent – but at the back of it all the old city is still alive, breathing silently.
The hundreds and thousands of times I’ve watched the Hollywood walk of fame, Sunset Boulevard, Santa Monica pier, the giant Hollywood sign, Griffith observatory, the crowded beaches, the richest mansions, the LA skyline …… all on screen, big and small ….. even all the colours looked like faded 70s maybe bleached by the over exposure to sunlight …. the LA heat…. all tricked my brain into thinking I’ve been here before….
আমি হারানো ফেরেস্তাদের কথা ভাবলাম, ভাবলাম সিটি অফ এঞ্জেলসের কথা , সমুদ্র ধরে সারি সারি আত্মারা …শেষ পৃথিবীর জন্য আমার কান্না , তোমরা ভালো থেকো , যেখানে সময়ের শুরু আর শেষ ,
তাশার সাথে একবারই দেখা হয়েছিলো উইমপী তে, ওর ছিল হরিণের মতো দৃষ্টি, দুনিয়ার ইতিহাসে মিশে গেছে তাশা, আমার তুলি তোমাকে ধরে রাখুক, যখন তার ইচ্ছা হয়, মহাকাশ থেকে ফিরবার পর ইমরান বললো বরিশাল যাবে লঞ্চে, এতো বছর পর ও ইমরানের লঞ্চ যাত্রা র শেষ হয় নাই , কিন্তু তা-ও আমি একটা ক্রিস্টাল কিউব এর মধ্য দিয়া অষ্টভুজ শহরে ফিরত গেলাম , ওখানে তখন শিল্পী কামরুল হাসান মেলা চলছে , নীলা বললো আজকের দিনটা গাঢ় নীল , উই ক্যান গো ফর এ বোট রাইড , এয়ারপোর্টের সামনে কাফে আর লেক এখন নাই , কামরুল মেলায় দেখা হলো তিন কন্যার , এতো কালারফুল এই তিন যুবতী , আমি নাম জিজ্ঞেস করতে আমাকে মোবাইল নম্বর দিয়ে উধাও হলো বাংলার পাখ পাখালির গানের মতো করে,অষ্টভুজ থেকে দুঃখগ্রামের যাওয়ার রাস্তা ইমরানই ভালো জানতো, আর জানতো সাইফুল আর শ্রাবণ , শ্রাবণ ছিল এক চলন্ত ম্যাজিক,শ্রাবণ আর আমি একদিন আজাহার আউলিয়ার বাসায় গেলাম ধামরাইতে , আহা সেই অতিপ্রাকৃত দিনগুলো, জোড়া ময়ূরের দিন গুলো ,জিকিরের দিনগুলো , আজাহার আউলিয়ার বাসার গাছগুলো ঘাসগুলো সবই জিকর , অষ্টগ্রাম শহরে আবারো তার দেখা পেলাম…আজাহার আউলিয়ার নাম এ আকাশ ভরে উঠলো আলোময় এক অভূতপূর্ব মেঘমালায়.. ,
অতীত তো একটি
দূরের দেশ
যেখানে যাওয়ার
পথ শুধু তোমার চোখের
মায়া
প্রিয়তমেষু
আমার হাত গুলো ডুবে
আছে রঙে
আল্লাহর এই আকাশ
আমাদের জন্যই কাঁদে
আর মধ্যরাতের
ট্রেনগুলো ঘুমন্ত মানুষের
স্বপ্নে ঢুকে অবুঝ বালকের
মতো কবরে
মাকে খুঁজে বেড়ায়…
মনে রেখো এই পৃথিবী
নবীজির জন্যই সৃষ্টি
আমাকে দেখোনা আর
আমিতো অদৃশ্য
দেখলেই সরে যাই
যেখানে তোমাদের
চিঠি গুলো
মানুষের মুখ হয়ে
মহাকাশের বালিশে
ঘুমিয়ে আছে…
প্রিয়তমেষু
বৃষ্টির পানি গুলো
আমাদের রহস্যগুলো জানায়
যেন তোমার জন্য
প্রতীক্ষাই ছিল পথ
রবের কাছে যেতে হলে
কত না ইশকের দুয়ার
পার হতে হয়
কতনা সভ্যতা
ধুলায় মিশে যায়
কুষ্ঠে জীর্ণ আইয়ুব
কে মহান আল্লাহ
প্রশ্ন করেন
আইয়ুব তুমি ভালো আছো?
এই প্রশ্নে আইযুব নবীর
সব যন্ত্রণা
গোলাপ হয়ে যেত..
আসমান জমিন
আতর দানিতে
ডুবে যেত
যেন রাহমাতের বাজার
খুলে যেত জন্ম
থেকে জন্মান্তরের
শেষ পৃথিবীতে আর কি
বলার আছে …
আমার স্মৃতিগুলো
তোমার জন্য থাকুক
নীলিমা রেখায়
দুর্দিনের দুর্গ হয়ে
ভালো থেকো
যত্ন নিয়ো

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s