ঢাকা টু – সৌরভ রায়

দরিদ্ররূপে কোন শহরে গমন করলে সে শহর যেমন নিজের বিলাসী অঙ্গগুলিকে অধরা রাখে, রুপির রুপালি চাবুক দিয়ে চাবকে তার শরীরের সর্বান্তঃকারণিক দখল নিতে চাইলেও সে নিজেকে যতটা হিসেবমত খুলে দেয়, ঠিক ততটাই ঢাকা রাখে। মুম্বাইয়ের সেই পায়ুমথনপারদর্শী যেমন প্রফেশনাল করুণায় নিজপায়ু মথিত হতে দেয়, তারপর খিলখিল হাসিতে শীঘ্রপতনকে ক্ষমা করে ও আদর করে, ঢাকা সেরূপ না। ঢাকা নাকি বিলাসী নাকি উদ্ধত নাকি এমন আতিশয্যময় আন্তরিক যাতে আপনার ডিসপেপসিয়া অনিবার্য, ইত্যাদি। কিন্তু কই তেমন কিছু তো পেলাম না। সঠিক দাওয়াতে ঠাঁই পাই নাই বলে? আমার প্রথম ঢাকা দর্শনকালে অত্যল্পপুঁজিতে হাঁটিহাঁটি হণ্টনকালে সেগুনবাগিচার কাছে কোনো এক স্থানে (যেখানে মেলা লাল দোতলা বাস পার্ক করা ছিল, যেন বাসের কবরখানা) পেয়েছিলাম লোকাল বেকারির স্ন্যাক্স বেচনরত এক ঠেলাওয়ালাকে। বিস্কুটের সেকি রূপ, সেকি প্রাচুর্য  – সমুদ্রশঙ্খ, গোলাপকুঁড়ি, ঝিনুকভাঁজ, টগরটোপা – আমি মুগ্ধ হয়ে দেখছি। লম্বাসাদাদাড়িওয়ালা চাচা একগাল হেসে বললেন – আপনারা তো ইন্ডিয়ান, রোহিঙ্গাদের তো আপনেরাই খেদাইসেন কাজটা কি ঠিক করসেন? সেটা ২০১৮ (ইং), ফেব্রুয়ারি মাস। একুশের মাস। নির্বাচনের মাস। বেগম খালেদা জিয়াকে জেলবন্দি করে তাঁকে সুপ্রিম কোর্টে তুলে বিচারের মাস। এই তির্যক ইসলামিক বিশ্বভ্রাতৃত্বের তীর হেনে আমায় বেপাত্তা করে দিয়ে চাচা একগাল হাসেন। তারপর সস্নেহে ফাউ দুই-মুঠ বিস্কুট তুলে দেন আমার ঠোঙায়। আমার অপ্রস্তুত, নিরুত্তর দেঁতো হাসি দেখে, হিন্দুদেশ-কে-নিবাসী’র প্রতি তাঁর হয়তো করুণাই হয় কিছুটা। কিন্তু সেই করুণা মুম্বাইয়ের মারাঠি নগদ-নাগরের প্রফেশনাল করুণা নয়। আমি বিস্কুট খেতে থাকি। কৃতজ্ঞ! কারণ ওটাই ছিল আমার সেদিনের লাঞ্চ। 

বিরাট একটা ছেয়ে রঙ্গের পুমাবাঘ পুষেছি আমি। সে কেবলই কোলে উঠে বসে থাকে। তার থাবা থোপালো, তলপেট রোঁয়ালো, খুবই আদর-কাতর । তার কিটেন দশা এখনো যায় নাই। কোনো ধারণা নাই কত ভারী আর কত বড় সে আর কোলে বসলে আমার গোটা নিম্নাঙ্গ তার ফার-কম্বলে কতটা তাতিয়ে ওঠে। তবু বেড়ালতরলপদার্থের সমোচ্চশীলতাধর্মে সে কোলে উঠে বসবেই এবং পুরোটাই আঁটিয়ে নেবে। ঢাকায় এবার (২০২৪ ইং) নিজের মা আর মামী নিয়ে ঝটিকাসফরে ক্ষণিকা হয়ে এসেছি। এবারও ফেব্রুয়ারি মাস। একুশের মাস। নির্বাচনের মাস। এবছর আরও চার মাস বাদে জুলাই আসবে আর গ্রেগরিয়ান অমান্যতায় দেড় মাস ধরে চলবে। ফেব্রুয়ারিতে হাসিমুখ বাধ্য জেব্রাসন্তান হয়ে সারাদিনপ্ল্যান তাঁদের দুজনকে সুখআনন্দআরাম দেওয়ার রুটিনের কবলে আমি। খাটনি কম না। তাই রাতে উত্তরার হোটেলের সাতপুরু ম্যাট্রেসে ঘুম গাঢ় হয়। স্বপ্নের টানা তিনচারটে এপিসোড বিঞ্জ ভিউয়িং করা হয়ে যায়। তারপর সকাল সকাল উঠে আমি হোটেলের খুদে বারান্দা থেকে ঝুলে ঝুলে টপ ভিউয়ে ছেলে দেখি। পাশের বিল্ডিং গাক চক্ষু হাসপাতাল। প্রচুর রোগী আসে। তারা ব্যস্তসমস্ত হন্তদন্ত। নিপীড়িত পোলাদের রূপে চক্ষুদান এথিকাল না। তাই চোখ ফিরিয়ে নেই । সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে রিক্সাবোঝাই  হয়ে আফিস-কালেজ সাজে সজ্জিত হয়ে পোলারা, ছেলেরা, আধবুড়ো জোয়ানরা, নবজোয়ানরা চলেছে। অনেক সময়েই ডবলডেকার হয়ে কোলে-কোলে। এবং রিক্সা ওঠা-নামা , দরাদরি কথাবার্তা শুনে বুঝি অনেক সময়েই কোলসইরা ইয়ার-সহকর্মী-পূর্বপরিচিত না। এক উদ্দেশ্যে রাইডশেয়ার হাফ-কোয়াটার ভাড়ায় যাবার চক্করে এই কোলাকোলি। আজব লাগে, মজা লাগে। আচ্ছা এই চার-চাট্টে ধেড়েকে টেনে নিয়ে যেতে রোগা রিক্সামামাটির দম বেরিয়ে যায় না? কলকাতায় তো একটু গায়েগতরে হলেই (আমার মত বা আমার বেশি, যদিও আমি একা সওয়ার করি) ডবলসওয়ারিদের ডবল ফেয়ার অফারও রিক্সাওয়ালারা ত্যাজ্য করেন, ন্যায্যতার খাতিরে। এমনকি এঞ্জিন লাগালো ই-রিকশা হ’লেও। আর দেখি প্রচুর ইস্টুডেন্ট। অনেকেই তাদের দোস্তোর সাথে পদচারণ করতেছে। ছাঁচে ঢালা তাদের যৌবন, ইউনিফর্ম – অবশতা উৎপাদক। অনেকে দেহি বাইছ্যা বাইছ্যা শুধু ফরেনার দোস্ত করে। কভু কোরিয়ান, কভু নাইজেরিয়ান। তাদের জবানের ইন্টারন্যাশনাল (আমেরিকান) এলিট ইউনি-জাত রংঢং ব্যাক টু ন্যাশনাল হইয়া উঠে বাংলাদেশি রিক্সামামাকে ডাকার কালে। করিয়ান ফ্রেন্ডটি এথনোগ্রাফিক চোরাচক্ষু কইরা চাইয়া থাকে, কখন তার লোকাল ফ্রেন্ড তারে রিক্সায় উঠার সংকেত করে। তারা দুইজনেই ওঠে। কোলে না, পাশে পাশে বসে, যার যার রেস্পেক্টেবল পাছা আর কার সাথে না ঠেকিয়ে। আমি টপভিউতে গডভিউ লাগাইয়া তাদের আপেক্ষিক দুরত্বের ইঞ্চিমাপ দেখে নিই। সকালে বেরোনোর তাড়া থাকে, তাই ঝুলবারান্দার রেলিং-এ বেশিক্ষন ঝোলা হয় না, আবার বিকালে আলো নিভলেই মশার অক্ষৌহিণী বাহিনী আক্রমণ করে, সারাদিনের ক্লান্তিভরা দেহে অতগুলি মশাকে দেহদান করা দুষ্কর। মশাদের উচিতমতো সৎকার ব্যবস্থা করে আবার ক্লান্ত তনুলতা এলায়ে দেই রেলিং-এ। ওজন বেড়েছে, সাথে বেড়েছে ‘শ্রোণিভারাদলসগমনা’ এবং ‘স্তোকনম্রাস্তনাভ্যাং’ চারটিরই মাপ (প্রসঙ্গত ‘মাই’-এর পুংলিঙ্গ কিন্তু ‘বাবাই’)। নিজেকে সেমিহরাইজন্টাল শালভঞ্জিকা মনে হয় (আরও অনেকেরই মনে হয়, আমি জানতে পারছি, সাম্প্রতিক হরাইজন্টাল এনকাউন্টারের মাধ্যমে)। নাকি সেই বিরাট একটা ছেয়ে রঙ্গের পুমাবাঘ আমিই? নিজেই নিজের কোলে চড়েছি, এখন আমায় দ্যাকো? আবার নিচের দৃশ্যে মন দেই। 

খুবই টান্টু টাইপের একটা শ্যামলা ছেলে, হেবি হট। পিছনে সেঁটে লম্বাচুলের ফুরফুরি একটি লালঠেঁটি কন্যে। যাস না বইন, যাইস না অই যুবকের সাথে। বেশি ভালা দেখতে পোলারা বেশি কোন্নো কামের না। পুরাই লস। কইতাসি এক্সপেরিয়েন্স থিক্কা। শোন বইনের কথা। কিন্তু মেয়েটাও যথেষ্ট খেলুড়ি এস্মাট চিট পিট ট্যাং টপ। কে কাকে ঘুরাচ্ছে কে জানে। কিছু কিছু শ্যামল পোলা হিরো টাইপ চেহারা হইলেও হেবি ভালো হয়। সেই সেক্সপেরিয়েন্স এক্স-পেরিয়েন্স নাই বললে পাপ লাগবে। ক’দিন আগেই কোথায় যেন পড়ছিলাম দৈহিক সৌন্দর্যকে কেউ আলগা দাঁতের সাথে তুলনা করে উপমা টেনেছেন। তুমি চাও না চাও জিভ তোমার তার দিকে যাবেই ঠেলা দিতে, চিনচিন ঝিনঝিন পেতে। একটা কম্পালসিভ কোডিং-এর মত ব্যাপার। বিধি তোমার জিনে জিনে বেঁধে দিয়েছেন অই প্রকার আকর্ষণ যা চোখ দিয়ে মরমে পশে, রক্তস্ফীতি আনে। ডিজিটাল ডেটিং অ্যাপের প্রোফাইল ছবির জগত থেকে এটা খুব ভালো বোঝা যায়। কী দেখিলাম, কেন উত্তেজিলাম, কী পাইলাম (কিছুই না)। Physiognomy শাস্ত্র অর্থাৎ মানুষের চেহারা দেখে তার গুণদোষ নির্ধারণ করা মধ্যযুগের একটি বিশেষ বিজ্ঞান ছিল, রাজারাজড়াদের এই বিষয়ে পারঙ্গম হইতে হইত। চৌষট্টি কলার মধ্যে কয় নম্বর যেন। কিন্তু আমাদের এই তথাকথিত post-racism যুগে এইসব নাকি নাজায়েজ। কিন্তু মানুষ হিসাবে মানুষমুখদেহছবি দেখে নিরন্তর এই Physiognomy চর্চা করে চলি। রিক্সামামা নেবার সময়, ইন্সুরেন্স এজেন্ট বাছার সময়, ক্যাজুয়ালসেক্সধারী বাছার সময়, তার বেলা? একটা ফাইন ঢেঁকুর ওঠে। দুপুরে পদ্মাসেতুর নীচের লঞ্চঘাটে ‘শখের হাঁড়ি’ রেস্তোরান্তে বেছে-নিন-রেঁধে-দেব স্কিমে দু’কেজি ওজনের ইলিশভোজটা দারুণ ছিল। বহুবছর বাদে আমার আশি বছরের মা আর সাতাত্তর বছরের মামিকে পাতে ভাতের চুড়ো নিঃশেষে খেতে দেখলাম।

আচ্ছা, এই যে একটা ধেড়েঙ্গা-বহুমস্তকী-আলচ্যাড়েঙ্গা-বিসর্পিল একটা সেতু পদ্মানদীর বুকে ঝুলিয়ে দিল, এত কোটি কোটি টাকা ঋণের ভার দেশবাসীর ওপর চাপিয়ে দিয়ে, পদ্মানদীর লঞ্চপারঘাটের ব্যবসাকে দেউলিয়া করা হল সেটা তো আমার স্বপ্নপুমার কোলে চাপার মতো বা আমার রেলিংয়ে চাপার মতো আদরদানী কোন ব্যাপার না। আবার সর্বত্র, সর্বত্র প. সে. প্রজেক্টের প্রোপাগান্ডা। বই, স্ট্যাম্প, টিশার্ট, মডেল আরও আরও। এমনকি গঙ্গার ওপার থেকে আমার শ্যামের ফোনের বাঁশিতেও পদ্মা সেতুর টি-শার্টের ফরমাশ। রোমিং সস্তাই। খ্যাঁকানো যেত সুলভেই। তবু না খেঁকিয়ে অন্য ডিজাইনের টি-শার্ট কিনলাম। জাতীয় মাছ পদ্মা ইলিশ তো খাওয়ানো গেল না (হায়), জাতীয় সেতু না পরালেও চলবে। ‘নাং ধরবে তো পুলিশ’ এর মতো ফুলিশ ফেইল্ড প্রজেক্ট যত। 

ঢাকা যাওয়ার ঠিক আগেই প্রজেক্ট রামমন্দির উদ্বোধনের পাগলচোদনপর্নোমহাতাণ্ডব দেখে গেছি। যেখানে দেশবাসী কুপিতভাবে রেপিত হয়েছে শুধু। ফ্যাসিস্ট পাওয়ারের ঠাপে কোন সুখ নাই। শুধু অন্যকে ঠিক অই ভাবে ফ্যাসিস্টঠাপিত হতে দেখার কল্পকামনাসুখ ছাড়া। ঢাকা থেকে ফিরে এসে দেখি সারাভারতে থই থই করছে রামমন্দিরের ছবি, মূর্তি, টিশার্ট, মিম, গামছা, জাঙ্গিয়া, চাড্ডি, পতাকা, স্তম্ভ, প্লাস্টার অফ প্যারিস মডেল, শোলার মডেল, কাংস্যমূর্তি, অষ্টধাতু স্ট্যাচু, মায় ঠাকুরঘরের এল ই ডি লাইট। এবং লোকে কিনছে। গাঁতিয়ে। এমনকি খাজুরাহো টেম্পল ডান্স ফেস্টিভালের লগের ক্রাফটমেলায় খাজুরাহো টেম্পলের থেকে রাম টেম্পলের টেমপ্লেট বেশী। পাঁচ না আট হাজার বছর ধরে শ্রীরামের অখণ্ড চাষবাসের ফল নাকি এই গেরুয়া বীর্যের হড়কা বান? কিন্তু ভোটবন্দী ভারতের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক উৎসবে চুপচাপ ফুলে টিপছাপ তো দিতেই হবে, হাসি হাসি হাসিনা হয়ে। পশ্চিমবাংলায় ভোট হবে চারমাস ধরে।   

দু হাজার আঠেরো খ্রিস্ট অব্দে যখন ঢাকা এসেছিলাম তখন তো ফেব্রুয়ারি ছিলই। দু হাজার আঠেরোতে-ও সেই। একুশ দুগুনে বেয়াল্লিশ। প্রথম একুশ মাসে প্রতিদিন ঢাবি-র জগন্নাথ হল থেকে সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আসতাম। ঢাকা আর্ট সামিট নামক মহা এক্সিবিশন সকাল থেকে বিকেল ঘুরে ঘুরে দেখতাম, ফটো তুলতাম, নোট নিতাম। এম্নেই। কেউ বলে নাই। নিজের ঠেলায় আইসিলাম। বাবা ১৯৪৭-এ দেশভাগের পর ইন্ডিয়া চলে আসতে বাধ্য হ’য়ার পর কখনও ফিরে যেতে চাননি। মরলেন আক্ষরিক অর্থে ইন্ডিয়ার মাটিতে। নিজের বানানো তিনতলা বাড়ির ছাদের নিজের সবচেয়ে প্রিয় কোনাটা দিয়ে নিজে নিজেই লাফ মেরে, নিজের ঠেলায়, কাউকে ঠেলতে হয় নি। তাঁর সত্তর বছরের জন্মদিনে (এবং প্রথম মৃত্যুদিনে) সত্তর ফুট নিচে নিজের বাগানের মাটি পেল বাবা। মাটি তাঁকে আঁকড়ে ধরল, কিন্তু রাখতে পারল না। বাবা বীজ ছিলেন না। তাঁর বীজ আমি। সেই রাশহীন বীজ বাপ মরার ছয় বছর দেড় মাস পর বাসে বাসে চড়ে ঢাকা গেল। তার পাসপোর্টে জলের দাগ। সেই দাগিত্ব নিয়ে বেনাপোলে কথা উঠলেও, পাশ হ’ল সেই পাসপোর্ট। নাহ ভাগীরথীর উৎস সন্ধানে নহে। বাবার দেশের বাড়ি ছিল কুমিল্লা জেলা, ফেগুনাসা (নাকি ফেগুনাশা, আমরা হাসতাম ‘ফাগুনের বেগুনের আমাশা’ ব’লে, বাবা হাসতেন না। যেমন বাবা সেই তিনতলা বাড়ির ভিতপুজোর সময় বসেছিলেন একটা গাছের ডালের ওপর, সিল্কের পাঞ্জাবির তলা দিয়ে ঠিক লেজের মত উঁচিয়ে ছিল, তখনো ডারুইন পড়িনি তাই জানতাম না মানুষের বাবাদের লেজ থাকে, যেমন জানতাম না মানুষের বাবাদের জন্মদিন মৃত্যুদিন হতে পারে)। ওহ না, ভুল বললাম, ফেগুনাসা বোধহয় মায়ের গ্রামের নাম ছিল, জেলা ঢাকা। বাবার গ্রামের নাম ছিল নাতের পেটুয়া। মা বলত, ঐ জন্যই তুমি পেটুক। সেই পেটুকত্ব বাবার বীজ থেকে এসেছে আমার পেটে। গতবার ঢাকায় গিয়ে রেস্তর অভাবে পেটুকবৃত্তি করতে পারি নাই রেস্তোরান্তে। কিন্তু এবার চব্য চোষ্য গব্য (বিফ বিরিয়ানি) ভালই হয়েছে। বন্ধুর বন্ধু মিশু আর নুর-এর (জীবনে প্রথম দেখা) বাড়ি বোধয় সর্বসাকুল্যে দশমিনিটও ছিলাম না, তার মধ্যেই কত কিছু, খেয়ে যাই নিয়ে যাই আরও যাই চেয়ে। ছাঁদা বেঁধে দিল বিরাট একহাঁড়ি দই আর ক্কি ভালো একবাক্স চমচম। সেই মিষ্টির ব্যাগ ভালবেসে থুয়েছি, তাতে থুয়েছি ভালবাসার কলকব্জা ও রসদ। এক খাওয়াইতেই ভালবাসার ডুব খাওয়া। আমার পুরান বন্ধুরা বলে আমি নাকি কুকুরের মত, একবার যে ভালোটা আসটা খাওয়ায় সারা জীবন তার কেনা হয়ে থাকি। ওয়াফাদার, রোঁয়ালো লেজ ঘন ঘন পেন্ডুলায়মান। হক কথা ঠক করে লাগার কথা। কিন্তু আমি তো এই তুলনা শুনে সদাই খুশিতে দিলধকধক হই। কুকুর কা পেয়ার সাচ্চা পেয়ার, মনুষ্যের প্রেম কোন ছার।   

পূর্বোল্লিখিত মহম্মদপুরের অগুন্তি মিষ্টির চমচমাতি ও কাগমারি দধি ডেন্সিটির ভালবাসার বিপ্রতীপে আমার মামির বাপের বাড়ির মিষ্টির বাক্স। গুনে গুনে তাতে আটটি মিষ্ট। আমি, মামি, মা ও ড্রাইভার সাব – মাথাপিছু দুটি। দোকানের সবচেয়ে সস্তার পিস। অনাহারে নাহি খেদ, বেশি খেলে বাড়ে মেদ।

আমার এক সমাজতত্ত্বপণ্ডিত বন্ধুনি এপার-ওপার বাংলার তুলনামূলকতা নিয়ে এস্পার-ওস্পার পিএচডি করেছেন ও সেই অপার থিসিস সদ্য এক থান বই হয়ে পুনর্জন্ম নিসে। তাঁর মতে এপার ও ওপার বাংলার মিষ্টিসংস্কৃতির তুলনামূলক মূলে আছে এই মাথাগুন্তি পার পিস (এপার) ও অগুন্তি পার কেজি (ওপার) এর তফাত। আর এপারখিল্লিমূলক ওপারের মিমডিসকোর্সের মতে এটাই আতিথেয়তায় এপারের আর ওপারের তফাত। কী জানি! আমি তো এপারে আর ওপারে দুর’মই দেখলাম। তবে কি হিন্দু-মুসলমান? মেজরিটি-মাইনরিটি? ইকনমিক কুকার থুড়ি ইকনমিক ক্লাস স্ট্রাগল? যাই হোক, মামির ‘বাপের বাড়ি’ কিশোরগঞ্জের সেই মিনিট দশেকে ফিরি। কোন ফোন নাম্বার ছাড়া, আগাম যোগাযোগ ছাড়া, শুধু তরুণীবেলার স্মৃতিতাড়িত হয়ে মামী আমাদের নিয়ে পৌঁছালেন কিশোরগঞ্জ টাউনের আদি থানার বিপরীতে। মামীর বাপের বাড়ির ধ্বংসাবশিষ্ট পুরুষদিগের দ্বারা চালিত অতিজমজমাট অতিমুনাফাপ্রজ ঔষধের দোকানে। তার ওপর তলায় ডায়াগন্সটিক সেন্টার।  

↹ 

নানা এতোল বেতোল ব্যাজস্তুতিমার্কা বাতেলা আর কুমিরাশ্রু বিসর্জনের পরে তড়িঘড়ি মিষ্টির খুদে বাক্সটিসহ আমাদের গাড়িতে আমাদেরই গেদে দেওয়া হ’ল ঢাকা ফেরার রাস্তা দেখিয়ে। আমি মিষ্টদ্রব্যের স্বল্পতা নিয়ে অন্তর্টিপুনিমূলক মন্তব্য পেশ করলাম। ড্রাইভারসাহেব দেখলাম মুখ টিপে হাসছেন। তিনি পরে আমাকে বললেন, ওপার থেকে এসে ইন্ডিয়ান মহিলাদের পৈত্রিক সম্পত্তির হারানো বখরা পুনর্দখল করা নাকি বাংলাদেশের হাল আইনে অনেক সোজা। অহহহ তাই? শেখ হাসিনার সরকার, আরও আছে দরকার, নাকি আর নেই…সেই জন্যই কি মামীর আত্মীয়দের (জেঠতুতো ভাই ও তাঁর স্ত্রী) মুখ দুপুররোদে শুকনা আমসি, হোগার ফুটায় বিনবিন ঘাম? যেই বুনিয়াদি ঔষধালয় (সাথে ডায়াগন্সটিক সেন্টার) থেকে আমরা শরিকিআদায়েচ্ছুসন্দেহবশে সুমিষ্ট গলাধাক্কা খেলাম (পার হেড দুই পিস) সেই তীর্থে নাকি জর্জদা দেবব্রত বিশ্বাস গ্রামোফোন শুনতে আসতেন। কারণ সেটি তখন সাইকেল প্লাস গ্রামোফোন প্লাস ঔষধের দোকান ছিল। এই তথ্য সত্য কারণ তাহা ছাপাক্ষরে লিপিবদ্ধ আছে ‘ব্রাত্যজনের রুদ্ধসংগীত’-এর অমুক নম্বর পাতায়। পরীক্ষা প্রার্থনীয়। হায়রে হিন্দু সংস্কৃতি, তোমার পার্টিশনপূর্ব দিন গিয়াছে? সেখান থেকে ঢাকা খেদিয়ে দেওয়া হলেও না গিয়ে আগে গেলাম মামীর তরুণীবেলার ইস্কুলে (মামী স্কুলপাশ করে কিশোরগঞ্জ ছেড়েছিলেন)। সেদিন তাঁদের স্পোর্টস ডে। খুকিরা ভারি খুশি। ক্লাস নেই, এই রঙ্গিন কাগজের শিকলি বিনোচ্ছে, এই লাইন দিয়ে বিরিয়ানি খাচ্ছে, এই ডিসিপ্লিন আপার কাছে বান্ধবীর নামে চুগলি করছে। ডিসিপ্লিন আফাও ফুল ডিসিপ্লিনিং মুডে নাই। বর্তমান হেডমাস্টারমশাই এই প্রাক্তন ছাত্রীটির চেয়ে কয়েক দশক জুনিয়ার। বড়ই আহ্লাদিত হয়ে সাদরে চেয়ারে বসালেন, চা সাধলেন, ঝালিয়ে নিলেন ইস্কুলের অজানা ইতিহাস (তিনিও তো এই অনলি গার্লস ইস্কুলের ভূতপূর্ব কোএডুকেশন অবতারের প্রাক্তন ছাত্র), তুলতে চাইলেন ফটো। কিন্তু বিধর্মী পরপুরুষের ইত্যাকার প্রস্তাব যথাযথ গাম্ভীর্যের সাথে প্রত্যাখ্যাত হইল। কিন্তু ইস্কুলের এক হিজাবী দিদিমণি যখন নাপর্দা, বেঘোমটা এই ছাত্রীকে বুকে জড়িয়ে দোয়া করলেন, তাঁর চোখ ভেজা। মামি কি রেখে এলেন তাঁর অনুপস্থিত ৬২ বছরের সত্তার কাছে (1962-2024)? কী দিয়ে এলেন তাকে? উত্তরার হুডেলের মত কোন ভিজিটরস বুক তো ছিল না কিশোরগঞ্জে?    

↹ 

আমি তো গতবার ঢাকা এসে হুডেলেও থাকতার পারি নাই, ট্যাহা আসিল না। এক পুরা অপরিচিত (এক এপারবাসিনী দিদির ফোর্থ ডিগ্রি চিনা) এক অতি ওভারবিয়ারিং হিন্দু ব্যাডার লগে তার ঢাবি জগন্নাথ হলের টু-সিটার রুমে তৃতীয় পক্ষ হইয়া ছিলাম। টেরিয়ে টেরিয়ে দেখেছিলাম ঢাবি জগন্নাথ হলের পুষ্কণীতে ৬০ ফুট উগ্রতার থুড়ি উচ্চতার টেম্পরারি সরস্বতীমূর্তি। পার্মানেন্ট তিরিশফুটিয়া বিবেকানন্দ আর বুদ্ধদেবও পাশেই ছিলেন। পচুর হেঁদুবাদী বাণীমূলক পোস্টার-ও ছিল চারপাশে। আর ছিল অখণ্ড নামসংকীর্তন, ক্যাম্পাসমন্দিরে। যে রিকশাঅলা আমাকে নামিয়ে দিল, সে অপরিসীম কৌতূহলে বলেছিল যে এই নামগানের কথা সে আগে শুনসিল, এবার সত্যি শোনা হ’ল। পেছনে তাকাতে তাকাতে প্যাডেল মারতে মারতে পথের বাঁকে হারিয়ে গিসলো সে। হিঁদুয়ানির এত বোলবোলাও এর মধ্যে সরস্বতীপুজোর ভোজের মেনুতে খিচুড়ির সাথে ইলিশ মাছ ভাজা আর বিফ ভুনা দেখে আশ্বস্ত হয়েছিলাম। বৈদিক গরুখাগী দেবী তাইলে এখনো কিছু প্রোটিন পাচ্ছেন এপারে। আমরা তো তাঁকে সর্বশুক্ল ময়দা আর আলু খাইয়ে চিরকুমারী কাম বালবিধবা করে রেখেছি। অথচ তাঁর মেনুতে প্রথম আইটেম ছিলেন উনার পিতাশ্রী, ব্রহ্মা।

আতিথেয়তা কিন্তু ভালাই করসিল সেই অতি ওভারবিয়ারিং হিন্দু ব্যাডা। অনন্ত বিসিএস দেওয়া সেই ‘নষ্ট ছাত্র’ (যাদের ছাত্রদশা শেষ হয়ে গেলেও চাকরির চাঁদ এখনো দূর অস্ত্ তাই হোস্টেলের পার্গেটরিতে যাঁদের অনন্তশয়ন, যেমন আমাদের দিল্লীর জওহরলাল নেহেরু বি, বা কলকাতার যাদবপুর বি-এর ‘নষ্ট’ ছাত্ররা) কী সুন্দর করে ঘুরিয়ে দেখিয়েছিল পুরা ক্যাম্পাস, ধারাবিবরণীসহ (ফিলোসফি অনার্সের পরে পুলিশপরীক্ষার দড়িবাওয়া প্র্যাক্টিসের কষ্ট চেপে রেখে), ধৈর্য ধরে বুঝিয়েছিল বি সি এস এর অনন্ত দীর্ঘসূত্রিতা আর বেসরকারি চাকরির স্বল্পতার গল্প। কিন্তু বয়সে আমার চেয়ে প্রায় এক দেড় দশকের ছুডো হয়েও ব্যাডাতান্ত্রিক দাদাগিরিতে আমায় জানাতে ভোলেনি যে আমরা অর্থাৎ ইন্ডিয়ানরা নাকি মাইনরিটি মোছলমানদের লাই দিয়ে মাথায় তুলে রেখেছি। মুসলিমপ্রধান বাংলাদেশ তার মাইনরিটি হিন্দুদের যে ভাবে দাবায়া রাখসে তার থেকে নাকি আমাদের শেখা উচিত। কলিকাতার মুসলিম ঘেটো পার্কসার্কাসের বাজারে খোলাখুলি গরুর দাপ্না ঝোলানর দবদবা, সদ্য দাড়িয়াল মুসলমান ছোঁড়াদের সাইলেন্সারবিহীন বাইকের রবরবা, এইসব দেইখ্যাশুন্যা নাকি তার মাথায় খুন উইঠ্যা যায় গিয়া। হায় ধর্ম, হায় সেকুলারিজম!

গতবার ঢাকাসফরের সময় আমার দৈনিক সেগুনবাগিচা দর্শনের শেষ দিন – ঢাকা আর্ট সামিট সেই দিনই শেষ। কিন্তু শিল্পক্লা একাডেমির গেটে সেদিন অতিপরিবর্ধিত কড়াকড়ি। কারণ বুলেটছোঁড়া দুরত্বের সুপ্রিমকোর্টে সেদিন খালেদা জিয়ার বিচার। সেই কি যেন অনাথাশ্রম অগ্নিকান্ডের কি যেন নষ্ট অতীত খুঁড়ে তোলা গড়াপেটা কেস। এদিকে গেটের সব সিকিউরিটিই আমার মুখ চেনে। কিন্তু সেদিন নাকি কিছু নূতন আইডেন্টিফিকেশন দেখাতে হ’বে। আমি হতাশ-নাছোড় হয়ে সেই পাসপোট ভিসাই নাড়ি। নতুন নথি কোন ফুটা দিয়া পয়দা করুম? ঐ তো দুইটাই। শেষমেশ চোখ দিয়া ফুল বডি প্যাটডাঊন কইরা “হুম, হিন্দু?” “যান যান।” আর এইবারে ফেরার আগের দিন বিফ ভুনা খিচুড়ি লাঞ্চে রুম সার্ভিস দিতে এল উত্তরার হুডেলটির সবেধন নীলমনি হিন্দু বয় সুমন। হিন্দু হইয়া আমার বিফখাদন লইয়া নিজের অবস্থান হইতে যতটা উঁচু ঠোনা দেওয়া যায়, দিলো। আর ব্যাস! এতেই আমার মা ও মামীর বিফবিরোধী অসন্তোষের সাথে এলাইন হইয়া তার বিদায়ী বকশিস ডবল হইল। হায় মাইনরিটি! অহো মাইনকাচিপা। ২০১৮-র কলকাতা-ঢাকা বাসে আমাদের চলনদার গাইড ছিল সবুজ রায়। হাসিখুশি, ছোটখাটো, মায়াকাড়া হরিণচোখের ফিটফাট ছেলে। আর তার পদবী নিয়ে রঙ্গ করতে করতে বাসযাত্রার ক্লান্তি হাল্কা করতাসিলেন সবচেয়ে সাম্নের সিটে বসা ঢাকাইয়া মা-মেয়ে জুটি। রায় তো যা খুশি হইতে পারে, এমনকি হিন্দু-ও। সবুজ সবিনয়ে জবাব দিল, সে শুধু খাঁটি মুসলিমই নয়, সাথে খাঁটি আ.লী.-ও বটে। 

ঢাকার এই আশিরনখ ভোজনপ্রাচুর্যকে নস্যাৎ করে দেন ২০২৪-এর ড্রাইভার সাব। এগুলি নিকি পাক্কা অপচয়প্রবণতা। গরীবের বড়লোকি, বড়লোকের আমিরি, আমিরের সুলতানি, সুলতানের বিলিয়নেয়ারি। জ্যামবদ্ধ এসি গাড়ির কাঁচের ভেতরের এই অডিওর সাথে বাইরের সাইলেন্ট ভিজুয়াল যুক্ত হয়। আটতলা প্রাসাদোপম এক ডায়াগনস্টিক সেন্টার (না হাসপাতাল, না নার্সিংহোম না মেডিকাল কলেজ, আট এর আটটা তলাই ডায়াগ, বাবাগো)। চকচকে কালো হিজাবে ঘেরা পিতলের বালগোপালের মত পালিশমুখ বিবিরা ডায়াগো থেকে বেরুচ্ছেন, সোজা ঢুকে যাচ্ছেন কাচ্চি ভবন, ফুচকা সদন, চটপটি মঞ্জিল আর জুস জয়েন্টে। আর জয়েন্ট, মঞ্জিল, ভবন, সদন থেকে মাঝবয়েসি সেক্সি ফেডেড চাপদাড়ি ড্যাডিরা ঢুকে পড়ছেন আটতলা ডায়াগোতে। এই বিশ্বরূপ দর্শনে অর্জুনের মত খিদা বাড়ে। ২০১৮ তে চালের দাম দ্বিগুণ হয়েছিল। ২০২৪-এ মাংস এত দামি, মধ্যবিত্তের-ও সাধ্যের বাইরে। খিদে কমে না। মনে পড়ে জ্যামবদ্ধ ফুল এসি গাড়ির পিছনের সিটে ঠান্ডা হচ্ছে চিতই পিঠার বাক্স। জুড়িয়ে যাচ্ছে হাঁসের ঝোল। উত্তরাপ্রবাসী সিলেটনিবাসী ড্রাইভারসাহেব বলেন সিলেটে জমির দাম সোনার দাম। বলেন সেই জমি বেচে ঢাকায় রাতের রাতের পর রাত অসহ্য ফুর্তি করা যায়, বমি সার মত বেশি পরিমাণে খাওয়া যায় অহেতুক ইলিশ, গরু, মুরগি। কিন্তু তাঁর হোটেলের ড্রাইভারির চাকরী আর উপরি রোজগারের টাকায় বড় মেয়ের মত ছোট মেয়েকেও ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানো যায় না, মাদ্রাসায় দিতে হয়। আমার মনে ঘোরে কী কী খাওয়া হ’ল না – জগন্নাথ ভোজনালয়ের নিরামিষ খাদ্য, বিউটি বোর্ডিংয়ের মুখরোচক ভোজ, নদী থেকে সদ্যধরা ছোটমাছের ঝোল। ইন্দুবালার ভাতের হোটেল-এর স্বর্গীয় ভৌতিক কচুবাটায় পেট-মন ভরে না। এপারের যে কচুবাটা ওপারখাগী পোস্ট-পার্টিশন নস্টাল-ড্রাগে এপারে বেস্টসেলার, ব্লকবাস্টার, টপ বিলার। কচুবাটা ঢের খেয়েছি, রেঁধেছিও। সামটাইমস এ সিগার শুড জাস্ট বি এ সিগার। কচু দিয়ে বেটে, জিওপলিটিক্স দিয়ে চেটে নদীর ওপার না খেলেও কিছু ফরাক্কা পড়বে না। ১৯৪৭ এর পর আট দশক কাটতে চলল। ১৯৭১ এর পর পাঁচ দশক কেটে গেছে। 

রাত বাড়ে, কাল সকালে ওঠার তাড়া নেই। উত্তরার ঝুলবারান্দায় আমার দেহকাণ্ড আধঝোলে, স্বপ্নপুমার মতো, ঝাড়িশঙ্খ সর্পের মতো, নিচের রাস্তায় লখিন্দর কমে, যেন আবার লকডাউন নামে। যেন আবার বেড়ে ওঠে আমার শ্যামের সেই লকডাউনের কলমিশাক। পুলিশের চোখ বাঁচিয়ে, দশ কিলোমিটার পথ হেঁটে নিয়ে যাওয়া সেই কলমিশাক যার ফেলে দেওয়া গোড়া বটগাছের নিচে মাটি পেয়ে ফনফন করে পাতা মেলেছিল, নতুন করে আবার পাতে ফিরে এসেছিল। বীজ। সে আরেক অন্য প্রেমের গল্প।

সৌরভ রায়। ভিজুয়াল স্টাডিস গবেষক, সম্পাদক এবং ইন্টারনেটভাষা বিউপনিবেশিকরণ কর্মী।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান