অন্ধকার স্থির হয়ে থাকে
স্থির হয়ে থাকে আমার পা
গোপন বিশ্বাসের পানি
পুরানো মেডেলে ছাপা
মহারানীর গুমোট করোটি
লোহার দোকানে তারকাখোচিত
ভেজামাটির সোঁদা পাপড়ি
ডানাভাঙা মউমাছি কাৎরায়
হাওয়ার ঝাপ্টা আছড়ে পড়ে
আগাছার ফুলে
যেমন মানুষ কবিতা লেখে
পাখির গানের রেণু
সন্ধ্যার আকাশ থেকে ঝরে
~
বললো সে
বাহির হলো ভিতর
ভিতর হলো এক বন শ্বাসমূলের সারি
এক থোকা পেয়ারা পাতা
আমি পেয়ারা ডালের নিচে প্রজাপতি
মরচে পড়া ঢেউটিন
দেয়ালের উপর স্থির শান্ত কাচ
বুকের ভিতর
যেখানে শব্দ হয়
~
সব মিথ্যা নয়
আকাশ একটা খাঁচা
যুক্তিগুলি উন্মাদ
উন্মাদ শান্ত
এ্যল্গরিদমের আত্মার ভিতর
ঘড়ির কাঁটার ভিতর
সাদা হতে থাকা চুলে
এক নিবিড় ভাষা টানেল –
যার বাইরে গুয়ান্তানামো
ভিতরে আত্মপরিচয় –
সব মিথ্যা নয়
যত সম্মোহন তত মুক্তি
যত গ্লুকোমা তত আলো

একটি সরকারি গোয়েন্দা রোবট
আমাকে বুঝতে চাচ্ছে।
কমপক্ষে দশ ট্রিলিয়ন শব্দে বোনা
একটা গোয়েন্দা এলেলেম্
আমার বাক্যগুলি খুলে খুলে সাজচ্ছে
আপন স্মৃতিকোষে –
আশ্বাস দিয়ে জানাচ্ছে
কী কী উপায়ে তার সাথে কথা বলা
অনিরাপদ নয়
~
শব্দের বিন্দু। একটা আক্ষরিক পৃথিবী। যার ঈশ্বর এক কবি। যার মিথগুলি লিখেছে এক কামুক রাজার মেয়ে। যার মুখোশের ফাটল ধরে নামা অন্ধকারে— ভেসে যেতে যেতে আমি ঘরের মেঝেতে পাতা কার্পেটে— চুমকিদানার মতো মিটিমিটি জ্বলতে থাকা একটা শব্দের বিন্দু দেখলাম।

[ মেসবা আলম অর্ঘ্য : কবি, লেখক, প্রকৌশলী। ঢাকার পুলা, দেশের বাইরে থাকেন, বিদাশে। প্রকাশিত গ্রন্থ-গ্রন্থিকা – ‘আমি কাল রাতে কোথাও যাই নাই ’, ‘তোমার বন্ধুরা বনে চলে গেছে ’, ‘মেওয়াবনে গাণিতিক গাধা ’, ‘তোমার সাথে আক্ষরিক’। – নয় নাম্বার বাসের হেল্পারগণ ]
