ভূমিকা
জিয়ার জিক্সারের জি নিয়া
ঝিঁঝিঁ পোকা হইয়া ঘুরতাসি
ষাইট ফিটের ডাইনে মোড় লইলেই
মিরপুর রোড শ্যামল শ্যামলী
সামনে দেখি এক মানুষ সাইকেলে
পৃথিবীর দায়িত্ব কর্তব্য মান মর্যাদা
বোঝাই করা এক ভ্যানরে দেইখা
কী করব কী করব করতে করতে
ভ্যানের থেইকা সরতে গিয়া ভ্যানের
লগে মারাত্মক সংঘর্ষে জড়াই গেল
দায়িত্ব কর্তব্য শিক্ষা সার্টিফিকেট
এক সাইডে পইড়া রইল মানুষটা গর্তে
গর্তে পইড়াও কেমন জানি নির্বিকার
সাইকেলের গায়ে লেখা নাম মিশু
পেশা মানব গবেষক পরিচয় কবি
গর্তে পইড়া খুব মজা পাইছে মনে হয়
আচ্ছা এরা কি গর্তে পইড়া, খুঁইড়া মজা পায়
চোখগুলা লাল হইতে হইতে হলুদ হইয়া গেছে
অন্যরকম চোখ বেশিক্ষণ তাকাইলে চোখে লাগে
আমি জিগাইলাম চোখগুলারে
কী মামা পইড়া গেছো?
চোখগুলা উত্তর দিল না
চোখগুলা কি বোবা নাকি
এমন ক্যান
কবিমিশুর চোখ

মিশুর শৈশব
মুশকিল আহসান মিশু
ছোট্ট একটা শিশু
র্যক্সিনের তলায় হিশু
গোরস্থানে যিশু
মোড়ের তলায় কোপ
পিছের বস্তির ঝোপ
বড় হওয়ার হোপ
ঝুলে থাকার রোপ
ভাঙা গাছের চূড়া
আচার বেচা বুড়া
একটু সাগু পুড়া
মায়ের আঁচলে মুড়া
আলু দিয়া রুটি
মজা খুনসুটি
ভাসতে থাকা পুঁটি
স্কুল থেকে ছুটি
বন্ধু কাট্টি ভাব
কল্পনারই হাব
স্ট্র দেওয়া ডাব
খেজুরে গাছের রাব
মোড়ের টেরা কুকুর
প্রতিবেশীর নূপুর
খেলতে থাকা দুপুর
ঘুমাইতে গেলে উপুড়
ক্যাচাল মারপিট
ক্যাডসের ফিতার গিঁট
চারিদিকে সব হিট
থাইমা চলা হার্টবিট
পুরি ঝালমুড়ি
সুন্দর পাথর নুড়ি
খেলনা ছাড়া ঘুড়ি
কেমনে কইরা উড়ি
ঐদিকে যাইসনা
ঐদিকে যাইসনা কথাটা বলে লাভ হলো না
কথাটা আমি ঐদিক থেকেই শুনছি,
জীবনানন্দ, নজরুল, রবীন্দ্র শামসুর বেদানা
দিনের পর দিন কবিতার পাতা গুনছি।
আমি আপেল নাকি আমড়া?
খুঁজতে বলে সবুজ, সবুজ খোঁজ দেয়,
বাবুবাজার বস্তির কামরা!
মুখোসের ছাইয়ে ভরে ওঠা পুরান এশট্রে।
ঐদিকে যাইসনা বলে ওনারা
আমারে এমন এক দিকে পাঠালো,
মই দিয়ে ধরা যায়না কিনারা
তখন আমার শব্দ এত উঁচু ধারালো।
আমি মনে হয় আগাছা
আমড়া আপেলের শ্রেণীশত্রু।
আস্তে হাঁটো বাছা,
ঐদিক গেলে ঝরে অশ্রু।
এমনি করে একদিন কলম দিয়ে,
শেভ করতে গিয়ে গাল কাটি।
আয়নার সামনে দেখলাম ইয়ে,
কবিমিশু, গালে রক্ত, চোখে শীতলপাটি।
৩ জন খুন
“বলেন কী ৩ জন খুন”
“আরে লাশ চেনার উপায় ছিল না”
“এটা কী বলার মতো গুণ”
“বয়স কম রক্ত না খাইলে বিকার মিটত না”
“আপনার কিছু হলো না”
“না ওরা তো অন্য তিনজন”
“তখন বয়স ষোল না”
“স্বরভঙ্গের এক আশ্চর্য ব্যঞ্জন”
”অন্য কারও বিচার হলো”
“নামের কারণে ফাঁসলো বেচারা”
“কিছু বললো না আপনার দলও”
“রাজনীতির কী বিশ্রী চেহারা”
“সে চেহারার প্রেমেই তো পড়েন”
“তারপর খুনাখুনি আর খয়েরি ভুল”
“এসব খেতাব নিয়া কেমনে যে চলেন”
“সে সব বুদ্ধিতে ডায়েরী থাকে ফুল”
“এরকম মৃত্যুর জন্য দায়ী কে”
“কে আবার সমাজ, ‘রক্ত পিপাসা’”
“আপনি কী হোন্ডা সিডি বাইকে”
“চালাতে পারিনা এ এক হতাশা”
“আপনার কিন্তু শাস্তি পাওনা”
“সব মৃত্যুর শাস্তি হওয়া চাই”
“ও ভাই একটা মজার গান গাওনা”
“আরেকজনের পাপের ভারে মজা পাই”
“আপনি তো মারাত্মক পাজি”
“জ্বি চেষ্টা করছি পুরোপুরি না”
“খাবেন নাকি পরোটা ডিমভাজি”
“চলুন। সব মৃত্যুর স্বাদ তো খারাপ না। ”
হাফ হাফ ডি ওয়াই এইচ
চারিদিকে সবাই খালি,
আমারে চিনতে চায়।
জীবনে কয়টা জোড়াতালি?
পকেটের খবর জানতে চায়।
এমন কী বগল
কামাইলাম নাকি!
হিসাবের খাতায়
কী নগদ না বাকি!
সব সব
জানতে চায়।
শব শব
তাদের গায়।
আমারেও মারতে চায়
একদম পুরাপুরি।
যেমনে ডালে ডুইবা মরে
তাজা গরম পুরি।
আমি বাঁইচা থাকি
হাফ হাফ ডি নিয়া,
তালুর উপরে ঝাঁকি
চিনি বাড়ানো চা দিয়া।
কার সাথে শুই
তাতে খুব কৌতুহল,
কার পড়ি বই
কে বা বন্ধুমহল?
লগে কি রাখি ওয়াই?
মাথা কি খুব গরম?
ওজনটা কি মাপাই?
নাকি ভুলসি লাজ শরম?
ছোট্ট পাতা এইচ,
বরবটির শাক।
বিরোধী পার্টির কেইস,
চড়ুই পাখির ঝাঁক।
আমারে জানা
এত কী সহজ?
রহস্য আমি
একাই যমজ।
ওহ মাই গড
ওহ মাই গড কথাটা
মাদ্দু হাফেজরে দেইখা ভয়ে মারা গেল
মাদ্দু বললো- “ওহ মাই আল্লাহ বল”,
এ কথা আমার কাছে হাঁইটা আসতে আসতে
মাদ্দু টোকিওর একটা বুতাম খুইলা
শুইয়া পড়ল
আমি আগে থেকেই শোয়া অবস্থায়
শোয়া অবস্থায় আমি বললাম
লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহাম্মাদুর রাসূরুল্লাহ
ও মা চোখ দেখি তিতা হইয়া গেল
চোখ বলল সরি ভাই
এমন ভাবে আসতেছে দেখি নাই
চোখের মধ্যে ঢুইকা গেছে মশা
এসব বুঝ আমারে দেন
আপনার মোহাম্মদপুরে বাসা
এদিকে যে মারাত্মক এর জন্য কথাটা
সে মারাত্মক মারা গেছে৷
মারাত্মকের ধর্ম কী
আরে মারাত্মক মানে
মার+আত্মক
আত্মঘাতী
ওদের ধর্ম নাই
ওরা মারাত্মক।
ফিলিংস
দেশি পাখি
যে দেশি কবিতা
উনারে পাগল করল
২৩ বছর বয়সে বা
প্লাস মাইনাস ওয়ান
যারে দেখে মনে হলো
এই জীবনে শুধু তোমাকেই চাই
তৎক্ষণাৎ হৃদপিণ্ড হয়ে গেল ছাই
আমার প্রেমের কিলিংস
এগুলাই হইল ফিলিংস
আবার কেমন কইরা
যে বিলাতি নারীরে দেইখা
উনার টুনটুনি পাখি
শিষ বাজাইতে শুরু করল
খাঁচার ভিতর ছটফট
এদিক সেদিক খাবার
ছড়াইয়া ছিটাইয়া
সে কী বাজে অবস্থা
বিদেশী শ্যাম্পু কী ঘ্রাণ
পুরা মেইড ইন জিঞ্জিরা
লোহা বাইর হওয়া রেলিংস
এর মধ্যেও ফিলিংস
আবার সারারাত এত কথা
চাপা কিরকিরানো
দাঁতে দাঁত লাগা কথা
লাল রঙের কথা
রূপালী বাক্যে
পাগল করা ফিলিংস
ফার্মগেটে বইসা চিলিংস
আবার সব হারাইয়া
কী যেন খুঁজতেছিলাম
আজকে কালকে
অথবা সারাজীবন
কী যেন খুঁজতেছিলাম
কী যেন পাইলাম না
রাত ভর গায়েব
সারাজীবন
নাম-না-জানা কত হাজার সিলিংস
অথবা কালু জেমসের সাথে ডিলিংস
টঙে দেখা ব্রায়ান লারার ইনিংস
মনে রঙ মাখলে সবই যেন ফিলিংস।
চারকোনা
পৃথিবীতে কে কারে চায়
উনারা চারজন চারকোনায়
কত দিন রাত রজনী ভোর
কত রকম ফিলিংস কত রকম ঘোর
একজন তো পুরা প্রতিষ্ঠিত এখন
জীবনযাত্রার মান বর্ধিত যাপন
চূড়াতে বইসা ছিলাম
কী সুন্দর হাওয়া
কবি কবিতার নিলাম
কত গান গাওয়া
কেউ লেখে বাঁচার জন্য
কেউ বাঁচলে লেখে
কেউ খায় শুয়োর বন্য
ফেলে বড়শি লেকে
চারজন একসাথে ছিলেন
লেখা দেখলে মনে হয় না
কে যে হিরো কে যে ভিলেন
কথা শুনলে বুঝা যায় না
চোখ তো বন্ধ হওয়ার উপক্রম
বাকিরা তো ভালোই আছে
সাহিত্যে আবার ফকির বিক্রম
কার হাতে শব্দ বেশি নাচে
কেউ খুশি হয় কাজল দিয়ে
কেউ মাখে নেইলপলিশ
কারও উপমা হলুদ টিয়ে
কারো চড়ুই কোলবালিশ
একজন তো এখনও যাযাবর
সাথে রাখে মাটির কলকি
লেখকরা শালা স্বার্থপর
ঘোরায় শুধু ধান্দার চর্কি
উনি আবার এমন না
শতাব্দীর সেরা কবি
তার লেখা কবিতা না
সব শব্দ আলাদা ছবি
আরেকজন গেল ঐপারে
নৌকা দিয়া ডুইবা
মাল যে জমছে লিভারে
খাইছে মুখ থুইবা
উনার লেখার আরেক ধরণ
খুবই পাকা কাঁচা লংকা
সঠিক বেঠিক ব্যকরণ
উচ্চারণের ভুল শঙ্কা
নায়ক একদম আলাদা
নায়িকাদের প্রিয়
চারকোনায় চার মাথা
যুক্তবর্ণ ক্ষিও
ইয়ে মানে ইয়ে
ইয়েটা পুরা ইয়ে হয়ে গেল
কাছিমের জঙ ধরা খোলস
জলদি একটা সিগারেট জ্বালো
সারা শরীর হয়ে উঠল অবশ।
তারা দৈনিক ইয়ে খেয়ে বেড়ায়
চিনির বলদ কালো এফ জেড
কমলা সার্জেন্ট ডেন্ডিখোর তাড়ায়
জগতের গেস্টরুমে বড় মাস্টারবেড।
মানে যে ইয়ে টা তারা শুরু করলো
শেষ করার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা ছাড়াই
কত গুইসাপ যে ম্যনহোলে পড়লো
তেল ভাজার জন্যে এক মহিলা কড়াই।
শুধু এক ইয়ে দিয়ে কী এসব সম্ভব
আমি বুঝি না, কেউ নাকি বুঝে না
মানে ইয়ে করলেই কী সবাই গর্দভ
তারা গুনতে চায় কিন্তু জাগে না।
দেশ ও জাতি
সবাইরে অপ্রস্তুত করলে ভালো লাগে
কারণ নায়ক অপ্রস্তুত হতে হতে
অপ্রস্তুত হওয়ার এমনই
প্রস্তুতি নিয়েছেন
যেন সবাই অপ্রস্তুত হলেও
তিনি অপ্রস্তুত হতে পারেন না।
নায়ক দেশ জাতি নিয়ে কন্সার্ন
চিন্তা চেতনা জ্ঞান গরিমায় মডার্ন
সব কিছুই ভুলেন হলে ভরপুর আর্ন
নতুবা বিভিন্ন টপিক রোল দিয়ে বার্ন
এমনেই চলে জীবন
ঠক্কর ঠক্কর
ঠেলাগাড়ি রিকশা
রিকশাওয়ালা মামারে অপ্রস্তুত করে
দেশ ও জাতির অবস্থা বলেন ভাড়া পরে
আরে আমি গরিব মানুষ রিকশা চালাই
দিন আইনা রাত খাইয়া ছাওল পড়াই
ভাড়া বেশি চাইলেই খালি ধানাই পানাই
আমারে দেইখা কী মনে হয় আমি সভ্য মশাই
সভ্য সুশীল না হইলে মতামতের দাম কী
তৎক্ষণাৎ রিকশাওলারে জোরে এক ধাপকি
আরে খবর নিতে চাইলে পেশা দিয়া লাভ কী
রিকশা ঘুরান দেইখা লই সুশীলদের হাল কী
সুশীলরা সীসা খায়
হলিউড রয়্যালে এলার্জি
সুশীলরা দেশাল খায়
এম্পলে নষ্ট এনার্জি
দেশের অবস্থা খুব বাজে
কেউ কিছু করছে না
কোন পেস্ট দিয়া দাঁত মাজে
টকশোও আর জমছে না
দেশ জাতি পড়ল পিছাইয়া
কার কী যায় আসে
সুশীল সমাজ নেতাইয়া
কচি মেয়েদের পাশে
তাহলে দেশ জাতির দায়িত্ব
সুশীল নাম লাগাইলেন ক্যান
আরে তাদের আহবান বন্ধুত্ব
ধানমণ্ডি বনানীর অন্ধকার লেইন
আর্টি ফার্টি
বইলেন না সবাই কী কদর বুঝে
বইলাই হনহন কইরা হাঁটতে থাকা লোকটা
ল্যাম্পপোস্টের প্রবল আলো লাগায় মুখে
সামনে তুলে দেয় তিন কোপ খাওয়া হাতটা
ঐদিকে সওয়াবগুলার আজ উৎসব ভরপুর পার্টি
উনি আবার সরুকানওয়ালা একটু আর্টি ফার্টি।
চোখ আবার মারাত্মক তেড়া তাকাইয়া থাকে খালি
হলুদ রঙ খামে লাল মোম ঢালা বিদ্যা বুদ্ধির গালি।
দিন দুনিয়ার খবর গরম, মশলা, ঝাল, তাজা।
লগে রাখা ম্যাগি মাংসের গন্ধ গায়েব! কত হিসাব গরমিল।
ফিরিঙ্গি এক হরিণ শুইকা, গরুর মগজ কড়া ভাজা।
কালচারাল মাগুর সাঁৎরায় এ দেশের নদী খাল বিল।
ইউরোপের চুমু
ইউরোপে তো ক্রেক মাল কম
মানে ইউরোতেও ক্রেক আছে
কিন্তু তাদের অভাব হইল দম
দূষিত বাতাসে বাঙালি যেমনে বাঁচে
ঐরকম বাঁচতে দেইখা
ইউরোপ নায়কের ডানচোখে
লালাভর্তি চুমু মাইখা
টাকা গুঁজে বাম বুকে
কানগুলা খাইয়া ফেলে
কিছুই শুনে না সে
শত জায়গায় পাখনা মেলে
কত রঙেরই মেয়ে
কুড়াইতে গিয়া শামুক
মুক্তা পাইয়া যায়
বানাইতে গিয়া সখি
ভুলদিকে পা বাড়ায়
চুপ হারামি
দিকের আবার ভুল ঠিক
রিয়েলি সরি
আপনাকে বলিনি নিশ্চিত
কে হোল
কে হোলে পড়া
অনেক কঠিন
পড়লে অসম্ভব
ভুলা সেদিন
কে হোল
যেন প্রেম
মায়ের ডাক
কে হোল
যেন ড্রেন
বন্ধ নাক
অনেক গভীর
কে হোল
বোকা নারীর
ছোট্ট দল
পড়লে পরে
ব্যথা ব্যথা
দুধের সরে
লেবুর তিতা
তাও মানুষ
বারবার পড়ে
প্রেমপর্বত থেকে
সরাসরি কে হোলে
হঠাৎ যখন
পড়ে কেউ
উঁচু জায়গা থেইকা
নিজে ভাসে
হাওয়ার ঢেউ
উড়ছে লাগে দেইখা
খানিক উড়াল
দেওয়ার স্বাদ
বিড়াল খরগোশ
ঘোড়া বাদ
বারবার ঐ
একই ফাঁদ
উড়ার জন্যে
আর্তনাদ।
চেলসির একমাত্র ব্রাউন ডগ
চেলসির ব্রাউন ডগ
রেসিজমের কড়া লিকারে
একটু কবিতার মালাই
ক্যাপাচিনোর লার্জ সাইজ মগ
বিলাতের বড় শহরে
লাল মার্লবোরো জ্বালাই
সবাই সেখানে সাদা
ধবধবে বিধবার শাড়ি
অথবা সার্ফ এক্সেল
সাদার চেয়েও সাদা
কালো লিমো গাড়ি
অযথা আর্ট ক্যান্সেল
কবিতা না লিখার
অনেক উপকরণে
সাজানো একখানা
নষ্ট কবিতা
মনে না ধরার
অনেক প্রলোভনে
নেভানো মুখখানা
তুষ্ট প্রেমিকা
ব্রাউন রঙ দেখে
বেশি চাও নাকি
আধখানা চেখে
বাকি জায়গা ফাঁকি
দুর্লভ দেখে
মনে ধরল
চুলে হাত রেখে
চুমু মাখল
ব্রাউনরা শুধু ঝাড়ু দেয়
সাদারা রাতভর যৌবনের রস ঢেলে
ভোরবেলা তারা সব গুছিয়ে
ঝোলা ভরে তা ডাস্টবিনে ফেলে
আমি শুয়ে থাকি
সাদা হয়ে যাই
আদর গায়ে মাখি
আড্ডা জমাই৷
তারপর খাওয়ার সময় হইলে
দেখি আলাদা বাটি হাড়
সারাদিন একসাথে শুইয়া রইলে
এক হয় না চামড়ার কালার
তুর তুর কইরা তাড়ায়
দূর দূর কইরা খুব
চেলসির কুকুররা দৌড়ায়
ব্রাউন ডগ খেলে কুতকুত।
জিওমেট্রিকাল কাট
জীবন হইল,
শিশুর হাতে,
খেলতে থাকা,
রাবারের টায়ার,
ব্রেক নাই,
বাড়ি দিলে ঘোরে।
আমি ছাইড়া দিছি,
বস্তির সেই রাতে,
কেরোসিন মাখা,
জিপ্পোর ফায়ার,
ডি এইচ ওয়াই,
সন্ধ্যা রাত ভোরে।
কত রকম কাট,
কত বড় কোপ,
বিশাল বিশাল বোম।
ভয়ংকর চেহারা,
লাশ লুকানোর ঝোপ,
মেডিকেলের ডোম।
সব যেন জ্যামিতি,
চাঁদা স্ক্যাল কম্পাস।
দুনিয়ার কী নীতি,
আমেরিকা কলম্বাস।
আবার ভালো লাগে,
মাজার শাহ আলী।
লাল রঙের পতাকায়,
নেই কোন কালি।
প্রেম
আচ্ছা প্রেম কী
বয়ামে রাখা যায়?
রোদে যদি না দিই!
তাইলে কী পোকে খায়।
প্রেম কী খড়ের গাদা?
নাকি ছাইয়ে ল্যাপ্টানো লাফানো কই?
প্রেম কী বাঁশির সাদা?
নাকি হাতের তালুতে কবিতার বই।
প্রেম উদ্বায়ী নাকি?
ন্যাপথলিন কর্পুর?
অথবা তুসকার ঝাঁকি?
পাহাড়ি বন্ধুর।
প্রেমে কয় চামচ চিনি লাগে?
দুই তিন আরও বেশী?
কিনতে কী পাব শাহবাগে?
সেক্সোফোন না কাঠের বাঁশি?
ফ্রিজে রাখলে শক্ত হয়ে যায়।
গরম করলে ঝোল কমে।
আলমারিতে গন্ধ ছড়ায়।
রাখলে ভালো সানসেটে।
বানর
বানর তুই কী মানুষ হবি না
আর কবে শুধরাবি
আসলে তো তুই আচ্ছা কামিনা
স্বভাব না পাল্টাবি
ফল খা কলা খা
খা আপেল ডাব
ফুলের সাথে গিয়া
এতো কীসের ভাব
ফুল শুঁকার দরকার কী
তোর ছোট্টো জীবনে
মানুষের বাগানের পুষ্প
ছিঁড়িস কোন কারণে
একটা ফুল রাইখা দেয়
নিজের কাছে সযত্নে
চুরি কর কিনা নেয়
বাস্তবেতে অথবা স্বপ্নে
ফুলরে পড়াস
ওয়েস্টার্ন
টাইট জিন্স টপস
মডার্ন
মাঝে মাঝে শাড়ির
আঁচল পেঁচাইয়া
গন্ধ খুঁজোস মাটির
ভ্রূ কুঁচকাইয়া
তাও তোর শোকর নাই
তুই দেখি বকর
মাথার ওপর টোপর নাই
ফুল শুঁকা বানর
এক ফুলে হয় না
মনে আরও চায়
মনে আর সয় না
নতুন গন্ধ পায়
মানুষের বাগান
দেশি বিদেশি ক্যাকটাস
জঙ্গলে ফলা
ঝিঙে জারবারা লোটাস
ফুল দেখলেই
গন্ধ শুঁকতে চাস
ফুলের নেশায়
তোর জীবন দুর্বাঘাস

মীর অনাবিল— কবি। মিরপুর ১ এর বাসিন্দা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ছাত্র।
