এই সময়ে
সুউচ্চ শিখর দেখে, বহু দূর হেঁটে এসে,
ঢোকার অনুমতি মেলেনি মধ্যযুগীয় গির্জায়
এটা নাকি এখন ব্যক্তিগত সম্পত্তি
নেইমিগেনের মতো নয় মোহাম্মদপুর
এখানে শুক্রবার হয়েছে সফেদ সহস্র পুরুষে
অজস্র ফটোস্ট্যাট মেশিন বের হচ্ছে মসজিদের পেট ফুঁড়ে
মাইকের আজানের আওয়াজ উচ্চ
তবুও, ইন্দ্রিয়ে বাজে ব্যথিত প্রাণের ধ্বনি
মা বললেন, ও পাশের বস্তিতে
মরিয়ম নামের এক কিশোরী
আত্মহত্যা করেছে
চার তালার গ্রিল থেকে দেখা
মৃত্যুর আচার মানুষের পৃথিবীতে
লাকড়ি ভাংগা, ডেকচির ধাতবতা
ধোঁয়া ওঠা খিচুরির গন্ধ
এই সময়ে-
প্রতিটি জলের বিন্দুও
নাকি পুঁজি দিয়ে বানানো!
এক কূলে, নতুন এক ঈশ্বরের দেবালয়
আরেক কূলে, মরিয়মের মায়ের গোঙানি
খবরের কাগজে মোড়া সিন্নি হাতে
ভাঙা নৌকায়
কীভাবে পাড়ি দিবো
এই ভব নদী?
২১শে অগ্রহায়ণ ১৪২৯

মানুষের সভ্যতায় ইঁদুর
ইঁদুরের যে প্রকৃতি
খাবার চুরি করা
কাগজ কাটা
তা কি মানুষের তৈরী?
সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে ধরা খেয়েছে কয়েকটি ইঁদুর
তাদের অপরাধ পুলিশের জিম্মায় থাকা ১৯৫ কেজি গাঁজা খাওয়া
জানি, সবাই বলবে মানুষের গল্প
সরকারী অদক্ষতা, দুর্নীতি ইত্যাদি
আমি ইঁদুর প্রসঙ্গে ফিরে যেতে চাই
যেহেতু এটা প্রাসঙ্গিক আমার জীবনে
তোমরা কি কখনো দেখেছো
ইঁদুরের চাহনি, তার স্পৃহা,
ভাবতে পার, ইঁদুর আমাদের বন্ধু হতে চায়, বিড়াল বা কুকুরের মতই?
আচ্ছা, মানুষের পৃথিবীতে কত শত সহস্র বছর পূর্বে,
সভ্যতা ইঁদুরকে শত্রু গণ্য করা শিখেছে?
আমার মনে পড়ে
১৯৮৩’র এক শীতের বিকালে
আমার মামারা,
ওদের পেশি, ওদের হাতে লাঠি,
অজস্র ভয়ার্ত ইঁদুরের সারি
কোনদিন ভুলবো না সেই ধ্বনি,
জৈব আর অজৈবর সংঘাত
রক্তাক্ত থেতলান দেহ
এতদিন বাদে, কোথায় যেন
আমি টের পাই
কোথাও যেন আমার দেহের ভিতর,
না কি, ‘আমার কলবের ভিতর’?
আমার প্রেমিকও একজন ইঁদুর
তখন ১৯৯৭
বিজয়নগরের হলুদাভ বাড়িতে
রাত দিন জেগে মেট্রিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছি
তাকে দেখে দেখে আমার আরেকজন ইঁদুরের কথা মনে পড়ে
আমার বক্তব্য পরিষ্কার
মানুষের পৃথিবীতে
ইঁদুরের সাথে
সহাবস্থান দরকার
এর বাইরেও একটা কথা ছিল
যেটা আমার প্রেমিককে দেখে শেখা
দিন নাই রাত নাই
বছরের পর বছর
যুগের পর যুগ
ভোঁষ ভোঁষ গাঁজা খায়
আমি ওকে ভালবাসি
ওকে দেখে ভাবি
মানুষের প্রকৃতি
সে কি হতে পারে ইঁদুরের তৈরী?
২২ নভেম্বর, ২০২২

আবু আহসান – কবি। প্রকাশিত বই ‘সেলিমের চোখ’
