Queer Art Lab Ex #3 অর্চন মুখার্জি অনুপ লেট একরামুল মোমেন রাকিব রাজা :: সৌরভ রায়

‘मोटे नैन चौड़ा माथा, लंबी गर्दन गोल तेरी/ तीरैं के निशान मारे, भुजा हैं सुडौल तेरी/ चेहरे की गोलाई जैसे चंद्रमा सी खिली हुई/ दाँतों की बत्तीसी जैसे संधि करके मिली हुई/ शेरों जैसी चाल जैसे मंद मंद ढली हुई/ मैं कई बार बोलूँ एक बार बोले तू, मन्ने दुःख सै बड़ी भारी’

(‘সুগোল চোখ, চওড়া মাথা, দীর্ঘ নিটোল ঘাড় তোর / তীরের ঘায়ে ভরপুর, দু’ বাহু সুডোল তোর / মুখের গোলক পূর্ণ চাঁদপারা ফুটেছে / দাঁতের বত্রিশ যেন সন্ধি করে জুটেছে / সিংহ চাল, সাথে যেন মদালস মিলেছে / স্বল্প বাক তোর, তাই মনে দুঃখ মোর ভারি’)

রাজস্থানী চারণগীতির এই পুরুষ রুপ-বর্ণনা আর বৈষ্ণব পদাবলীর রাধা কর্তৃক কৃষ্ণের নাভিনিম্নের রোমরেখাকে (Happy Trail) মধুগামী পিঁপড়ের সারি বলা, বা রংপুরের মেয়েলী গীতে স্বপ্নপুরুষের উরুকে লোহার কলাগাছ বলা – সেইসব পুরুষ রূপ-বর্ণনার তফাত কি?

আর নিচের এই দুটি পুরুষের দৃশ্যরুপ-বর্ণনার তফাত-ই বা কি?

  চিত্র ১ক ‘Leigh under skylight’, Lucien Freud, 1994
চিত্র ১খ ‘David’, Michelangelo di Lodovico Buonarroti Simoni, 1504

তফাতের বিধান সারণী বানানোর আগে প্রথম দর্শনেই ধরা পড়ে একটা বড় পার্থক্য। সহজেই বলা যায় যে লে-র নগ্নতা বড় বেশি বাস্তবিক আর ডেভিডের নগ্নতা বহৎ-খুব আদর্শিক। লি যে ন্যাংটো তা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানো হয়েছে – আমাদের চোখ প্রথমে তাঁর দু’ পায়ের ফাঁকে, পরে তাঁর থলিত তলপেটে, স্খলিত বুকের বোঁটায়, চকচকে টাকে ধাক্কা খেয়ে তা মোক্ষম বুঝে যায়। চামড়ার রঙের যে উচনীচ লি-কে উদোম করে, শ্বেতমর্মরের নিরঙ মসৃণতা যেন ডেভিডকে একরকম আব্রু দেয়। যদিও লি-এর তুলনায় তার নগ্নতা একসুতো-ও কম নয়, আর লি এর contrapposto নয় কিছু কম-দুরস্ত। কিন্তু ডেভিডের মাপজোখ, ঠাটঠাম আর ভাব এতটাই মাপে-মাপ ও খাপে-খাপ যে ডেভিডের সার্বিক নগ্নতাকে তারা করে তোলে আদর্শিক। কারণ ডেভিডের নগ্নতা কোন রক্তমাংসের cisলিঙ্গপুরুষমানুষে সম্ভবে না। তা অপৌরুষেয়। তা কৃত্রিম।

চিত্র ২ from Tresspass 2 Photocollage Series, Sunil Gupta, 1992-1995

আবার চিত্র ২ এর ডান আদ্ধেকে প্রবাদপ্রতিম ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী চন্দ্রশেখর আজাদের যে ক্যালেন্ডার প্রিন্ট সাঁটা আছে তা যেন রাজস্থানের পূর্বোদ্ধৃত চারণগীতের বর্ণনার হুবহু চিত্ররুপ। নয়ন ঠিক তেমনই মোটা, মাথা তেমনিই চওড়া, চেহারা তেমন সুগোল, ভুজায়েঁ তেমনি সুডোল আর সর্বোপরি মুখের গম্ভীর, স্বল্পবাক ভাব ও নীরব গোঁফ চুমড়ানো। বাঁদিকে ফোটোগ্রাফার সুনীল গুপ্তার নিজের নুড সেলফ-পোর্ট্রেটে যেন তার ঠিক বিপরীতার্থক পৌরুষের দ্যোতনা। ১-এর লে আর ২-এর সুনীলের দেহগঠন আর নগ্নতার মধ্যে অনেক তফাত থাকলেও তাদের মধ্যে একটি মিল খুবই মোক্ষম – তাদের বাস্তবিকতা; যা সুনীলের ক্ষেত্রে আক্ষরিক আর লে-র ক্ষেত্রে প্রায়-আক্ষরিক ভাবে – photographic.

চোখে-আঙুল-ঠোঁটে-নয় ধারাবাহিক Queer Art Column এর এই কিস্তির চার শিল্পীর কাজই মেল ন্যুড ফোটোগ্রাফ ঘরানার। তাঁরা নিজেরা স্ব-সংজ্ঞায়িত queer আর তাঁদের কাজ সচেতনভাবেই queer art। কিন্তু মেল ন্যুড ফোটোগ্রাফ কি ততটাই সহজবোধ্যভাবে queer art, এই ধারাবাহিকের প্রথম কিস্তিতে ‘অবৈধ কাম ও কামনার উদযাপন’ queer art-এর সংজ্ঞার্থে যেমন বলা হয়েছিলো? রাধা বা রংপুরের মেয়ে গায়েন কি এ ব্যাপারে আমাদের প্রশ্নের হাল ধরতে পারেন? তাঁরা পুরুষশরীরকল্পনায় যে  কামনার রং লাগান, যে female gaze মাখান, পুরুষশরীরকল্পনার queering-এ male gaze কি সেই একই কাজ করে? Male Nude Photograph-এর queer art হয়ে উঠতে ঠিক কি কি লাগে?

ফিমেল ও মেল Nude, পশ্চিমা রেনেশাঁসালো আর্টের একটি মূলনিবাসী ও বহুবিবর্তিত লব্জ। তাহার ফোটোগ্রাফি যুগের সন্তান মেল ন্যুড ফোটোগ্রাফ। ভারতীয় চিত্রকলায় কিন্তু নগ্নতার হিসেব আলাদা। সেই ‘আলাদা’-র একটি মূল জায়গা হ’ল নগ্নতার ধরণ ও ধারণ – তার degree ও gradient. 

চিত্র ৩ক – ভারতে প্রাচীন কাল থেকেই নারীপুরুষ নির্বিশেষে পরিধেয়ের স্বল্পতা।
মহাজনক জাতকের কাহিনীচিত্র, অজন্তার ১ নং গুহা
চিত্র ৩খ – শুধু নির্মোক নটী পুরো কাপড় পরে রয়েছেন, বাকিরা নগ্নবক্ষা। 
মহাজনক জাতকের কাহিনীচিত্র, অজন্তার ১ নং গুহা

পশ্চিমা শীতের প্রভাবের অভাবে ভারতীয়দের গা খোলা আদিকালের ব্যাপার, এমনকি মেয়েদের পেটিকোট বালাউস পরাইয়া কট খাওয়ানোর ইতিহাসও কয়েক শতকের ব্যাপার। 

পূর্বের মানুষের এই নিলাজ নগ্নতা নিয়ে প্রথমদিকের পশ্চিমা আগন্তকরা যারপরনাই দুঃখ-কষ্ট-জ্বালা-পোড়া পেয়ে civilizing burden নিজ নিজ স্কন্ধে নিয়ে থেকেছেন। কিন্তু ভারতীয় চিত্রকল্পনায় সেই আদি-নির্বাসে আদিরসের আমদানি conditional. যেমন ওপরের ছবিতে শুধু নির্মোক নটীর (strip tease dancer) দেহের উত্তম-মধ্যম কাপড়ে ঢাকা। কারণ তাকে নির্মোকের ন্যায় উন্মোচিত করে তবেই ধাপে ধাপে নগ্নতার পুনর্নবায়ন ও পুনঃযৌনায়ন হবে – খোলাকে ঢেকে তাকে আবার আঢাকা করে খুলে।  

গ্রীক nudity-র ক্ষেত্রেও দৈনন্দিন নগ্নতার প্রসঙ্গ অনেকাংশে সত্যি। খ্রিষ্টপূর্ব গ্রীক শিল্পে নগ্ন পৌরুষের ছড়াছড়ি (তাকে ‘ন্যুড আর্ট’ বলে ইস্পেশাল স্টেটাস দেওয়া হ’ত না, তা ছিল শুধুই আর্ট) গ্রীক পুরুষের দৈনিক যাপনের সাথে যুক্ত (উদোম calisthenics, নগ্ন Olympics ইত্যাদি)। সে তুলনায় গ্রীক ফিমেল ন্যুড, গ্রীক নারীদের দৈনিক নগ্নতার অভাবের মতই অপ্রতুল – শুধু Aphrodite / Venus মূর্তিমতী গ্রীক রতি, তাই তিনি সদানির্বস্ত্রা।

আবার ভারতের রতিমূর্তি যতই মদনমদালস হোন না কেন, কখনই নির্বাস নন। গ্রীক-রোমান আমল গত হবার পরে আফ্রোদিতে / ভেনাস-রা, আবার যখন পাইকারিভাবে অত্র-তত্র-সর্বত্র সম্পূর্ণ নির্বাস হ’লেন, তখন ইউরোপীয়ান রেনেসাঁসের কাল। তার মাঝের যুগের, মানে তথাকথিত dark middle ages-এর ভেনাসেরা প্রায়ই (বিশেষ করে ভেনাস দি গ্রহ-রানীরুপে)রাজ্ঞীবেশভূষিতা থাকতেন।

চিত্র ৪ক- দ্বাদশ শতকের রতিমূর্তি
চিত্র ৪খ- ত্রয়োদশ শতকান্তের লজ্জাশীলা ভেনাস (Modest Venus / Venus Pudica / Venus Lactans)

কিন্তু ফোটোগ্রাফি-পূর্ব যুগের ভারতীয় নগ্নতা প্রায়শই নিরাবরণ (বা প্রায়-নিরাবরণ ) হ’লে-ও সম্পূর্ণ নিরাভরণ কখনই না – সে মন্দিরমূর্তি, ভিত্তিচিত্র, পটচিত্র, মুরাক্কা, কিতাব যেখানেই হোক না কেন –কামোত্তেজক যৌনমিলনের ছবি বা মূর্তিতেও না, আদিনাগাবাবা বা আদিনানাঙ্গামা শিব ও কালী-র ক্ষেত্রেও না, নেহি, নট। 

এমনকি ব্রিটিশ উপনিবেশের সাথে সাথে আর্টকলেজ শিক্ষার হাতে হাতে ন্যুড এর পশ্চিমা ট্রেনিং ভারতে আসার কয়েকশো বছর পরেও ভারতীয় ন্যুড চিত্রণ তার degree-তে ও gradient-এ আলাদা রয়ে গেছে, ইউরোপীয় ধারার ন্যুড চিত্রণের ভারতীয় ব্রাঞ্চ চালু হবার পরেও । 

ভারতীয় চিত্রকলায় ফুল নিরাবরণ প্লাস নিরাভরণ ন্যুড কখনই কাঙ্খিত, আদর্শ ছবির বিষয় হয়ে উঠতে পারেনি জ্যান্ত ন্যুড স্টাডি দিয়ে ভারতের ঔপনিবেশিক আর্ট কলেজে anatomically correct মানবদেহ আঁকা শেখা প্রথমে বিতর্কিত আর পরে উপেক্ষিত তথা কোনঠাসা হয়েছে।

ভারতীয় ন্যুডেরা never-nude (never-fully-nude) থেকে গেছে, এমনকি pucca দেশি-সাহেবি হেমেন মজুমদারের বা রবি বর্মার ফিমেল ন্যুডেও।  

চিত্র ৫ ক – বাংলার বটতলার বইয়ের অলঙ্করণে ফুল ফিমেল ন্যুড ইজ ইকুয়াল টু ফুল-মেন্টাল – পাগলিনী, স্বৈরিণী, উন্মাদিনী। zero sex appeal, zero আদর্শিকতা. তিনি বেশ্যার চেয়েও নিচে।
চিত্র ৫ খ – তামিলনাড়ুর কুম্ভকোনম শহরের এক অখ্যাত মন্দিরের সমসাময়িক দেওয়ালচিত্র।  ফুল ফিমেল ন্যুড আর ফুল মেল ন্যুড, দু’টিই চোখরোচক পশ্চিমাস্টাইল ডেকোরেশনমাত্রে পর্যবসিত । মেল দু’টি চিরশিশু কিউপিড বা putti (মালাধর গন্ধর্ব ফ্লেভারড) আর ফিমেলদুটি নেহাতই extra nobodies.


তরুণ রবীন্দ্রনাথের ‘বিজয়িনী -তে পরিপূর্ণভাবে নিরাবরণ ও নিরাভরণ যে ফিমেল ন্যুড মদনদেবকে ধরাশায়ী করেন, তার পরিবেশ আর পরিসর যতই সংস্কৃতায়িত হোক, তার মূল চিত্রকল্প পশ্চিমা Leda and the Swanএর কাহিনীবীজ থেকে নেওয়া – সংস্কৃতায়িত হয়ে তা শোধিত (Swan-রুপী Zeus-এর rape-রহিত) হয়েও সুশীল পরিমাপে scandalising রয়ে যায়।

ঘনউপনিবেশিত উনিশ শতকের শেষার্ধেও বঙ্গীয় সংস্কৃতির পরিসরে ফুল ফিমেল ন্যুড পশ্চিমাস্য, অভিনব।


“বক্ষে লয়ে টানি

সযত্নপালিত শুভ্র রাজহংসীটিরে

করিছে সোহাগ– নগ্ন বাহুপাশে ঘিরে

সুকোমল ডানা দুটি, লম্বা গ্রীবা তার

রাখি স্কন্ধ-‘পরে, কহিতেছে বারম্বার

স্নেহের প্রলাপবাণী– কোমল কপোল

বুলাইছে হংসপৃষ্ঠে পরশবিভোল।
(…)

তীরে উঠিলা রূপসী–

স্রস্ত কেশভার পৃষ্ঠে পড়ি গেল খসি।

অঙ্গে অঙ্গে যৌবনের তরঙ্গ উচ্ছল

লাবণ্যের মায়ামন্ত্রে স্থির অচঞ্চল

বন্দী হয়ে আছে, তারি শিখরে শিখরে

পড়িল মধ্যাহ্নরৌদ্র– ললাটে অধরে

ঊরু-‘পরে কটিতটে স্তনাগ্রচূড়ায়

বাহুযুগে সিক্ত দেহে রেখায় রেখায়

ঝলকে ঝলকে।

 (…)

ত্যজিয়া বকুলমূল মৃদুমন্দ হাসি

উঠিল অনঙ্গদেব।

          সম্মুখেতে আসি

থমকিয়া দাঁড়ালো সহসা।   মুখপানে

চাহিল নিমেষহীন নিশ্চল নয়ানে

ক্ষণকাল-তরে। পরক্ষণে ভূমি-‘পরে

জানু পাতি বসি, নির্বাক বিস্ময়ভরে,

নতশিরে, পুষ্পধনু পুষ্পশরভার

সমর্পিল পদপ্রান্তে পূজা-উপচার

তূণ শূন্য করি। নিরস্ত্র মদনপানেচাহিলা সুন্দরী শান্ত প্রসন্ন বয়ানে।”


                                    আবার ‘জাপানযাত্রী’ তে রবীন্দ্রনাথ লিখছেন –

“প্রথমেই চোখে পড়ল জাহাজের ঘাটে চীনা মজুরদের কাজ। তাদের একটা করে নীল পায়জামা পরা এবং গা খোলা। এমন শরীরও কোথাও দেখি নি, এমন কাজও না। একেবারে প্রাণসার দেহ, লেশমাত্র বাহুল্য নেই। কাজের তালে তালে সমস্ত শরীরের মাংসপেশী কেবলই ঢেউ খেলাচ্ছে। এরা বড়ো বড়ো বোঝাকে এমন সহজে এবং এমন দ্রুত আয়ত্ত করছে যে সে দেখে আনন্দ হয়। মাথা থেকে পা পর্যন্ত কোথাও অনিচ্ছা, অবসাদ বা জড়ত্বের লেশমাত্র লক্ষণ দেখা গেল না। বাইরে থেকে তাদের তাড়া দেবার কোনো দরকার নেই। তাদের দেহে বীণাযন্ত্র থেকে কাজ যেন সংগীতের মতো বেজে উঠছে। জাহাজের ঘাটে মাল তোলা-নামার কাজ দেখতে যে আমার এত আনন্দ হয়, এ কথা আমি পূর্বে মনে করতে পারতুম না। পূর্ণ শক্তির কাজ বড়ো সুন্দর, তার প্রত্যেক আঘাতে আঘাতে শরীরকে সুন্দর করতে থাকে, এবং সেই শরীরও কাজকে সুন্দর করে তোলে। এইখানে কাজের কাব্য এবং মানুষের শরীরের ছন্দ আমার সামনে বিস্তীর্ণ হয়ে দেখা দিল। এ কথা জোর করে বলতে পারি, ওদের দেহের চেয়ে কোনো স্ত্রীলোকের দেহ সুন্দর হতে পারে না, কেননা, শক্তির সঙ্গে সুষমার এমন নিখুঁত সংগতি মেয়েদের শরীরে নিশ্চয়ই দুর্লভ। আমাদের জাহাজের ঠিক সামনেই আর-একটা জাহাজে বিকেল বেলায় কাজকর্মের পর সমস্ত চীনা মাল্লা জাহাজের ডেকের উপর কাপড় খুলে ফেলে স্নান করছিল; মানুষের শরীরের যে কী স্বর্গীয় শোভা তা আমি এমন করে আর কোনোদিন দেখতে পাই নি।” 


চিত্র ৬ ক, খ , গ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কৃত ১০টি মেল ন্যুডের ৩ টি। চয়ন – সুশোভন অধিকারী

পদ্যন্যুডিকা বনাম গদ্যন্যুডের এই রাবীন্দ্রিক আলোচনায়, ফিমেল ও মেল ন্যুডের একটি মূল আর্টহিস্টোরিকাল তফাত র.ঠা. আধা-অজানিতে উপস্থাপন করেন। ন্যুড ফিমেল হোক বা মেল, তা শুধু নগ্নমনুষ্যদেহের চিত্ররুপায়ন নয়, ইউরোপিয়ান রেনেসাঁসের ম্যান-সে-বড়কর-কওন এর ভাবাদর্শে পূর্ণপ্রস্ফুটিত একটি অতি-আদর্শিক বস্তু। অর্থাৎ তার নগ্নতা অন্য কোন আদর্শের প্রতি ইঙ্গিত করে থাকে, মানে তার পবিত্র উদ্দেশ্য সেটিই – কোন এক আদর্শ। ফিমেল ন্যুডের ক্ষেত্রে তার ‘সৌন্দর্য’ হ’ল  প্রধান আদর্শ এবং সেই গোদা আদর্শ ‘সৌন্দর্য’ থেকে নানা চিকন উপ-আদর্শ, যথা – সতীত্ব, লজ্জাশীলতা, সত্য (‘Truth is always naked’), দেবীত্ব (যথা গ্রীক-রোমান) ইত্যাদির সুতো কাটা যায় আর তার থেকে নানা আদর্শিক অদৃশ্য ঢাকনার সেমিজ, কামিজ, শাড়ী বোনা যায়, যা নগ্মিকার নগ্নতাকে গায়েব করে দেয়। 

যেমন ওপরের উদাহরণ, ‘বিজয়িনী’। ফিমেল ন্যুডে male gaze-এর আদর্শগত কাঠামো মোটামুটি এই – দৈহিক সৌন্দর্য চোখ ভরে দেখুন কিন্তু সেই বাড়া ভাতে মন-হি-মন-মে নগ্নতার ডাল ঢালবেন না কারণ সেই নগ্নতা ডাল না, মাংসভাত না, বিরিয়ানিও না, তা আসলে এক অদৃশ্য অতিলৌকিক জাফরান – সে অন্য এক আদর্শের চিহ্নমাত্র। ন্যুড-কে de-eroticise করার দায় বড় দায়, universal দায়। আদর্শিকতার ঘোমটা তাই খ্যামটার অভিযোগ তোলার পথরোধ করে। 

মধ্যপূর্বযুগের prima donna পশ্চিমা নগ্নিকা Venus যখন ইউরোপীয়ান রেনেসাঁসের হক্কলডি ফিমেল ন্যুড-দের generic নাম-মাত্র হ’লেন (Venus অফ হেথা / হোথা / তথা) তাঁর নগ্নতা রেনেশাঁসালো হয়ে কামগন্ধহীন হ’ল, আদর্শের ধূপগন্ধে দিব্য হলো তাঁর রক্তমাংস।

মেল ন্যুডে male gaze আরও ‘no homo’-গোছের দ’-এ পড়ে। সেখানে নগ্ন পুরুষ দেহকে আরও আদর্শিক, আরও symbolic, তার বগল আরও কামগন্ধহীন করার দরকার পড়ে। রবি-দৃষ্ট চীনা মজুরের নগ্নতা তাই সরল, স্ব-ইচ্ছ কর্মময়তার মূর্তিমাত্র। তার আদর্শ ‘কর্ম’। তার নিরাবরণ স্নান শক্তি-সুষমার নিখুঁত সাম্যমাত্র (সেখানে শক্তির অভাবে ফিমেল ন্যুড এক নম্বর কম পায়। কিন্তু বাংলার গতর-খাটা মেয়েছেলেদের মাঠে কাজ করতে রবিবাবু বিলক্ষণ দেখেছেন, আর শক্তিমতী মেঝেনদের কি তিনি দেখেননি ?)। তিনিই তো ‘শাস্তি’-তে লিখেছিলেন -“চন্দরার … মুখখানি হৃষ্টপুষ্ট গোলগাল শরীরটি অনতিদীর্ঘ আঁটসাঁট সুস্থসবল, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মধ্যে এমন একটি সৌষ্ঠব আছে যে, চলিতে ফিরিতে নড়িতে চড়িতে দেহের কোথাও যেন কিছু বাধে না। একখানি নূতন-তৈরি নৌকার মতো; বেশ ছোটো এবং সুডোল, অত্যন্ত সহজে সরে এবং তাহার কোথাও কোনো গ্রন্থি শিথিল হইয়া যায় নাই। …

আর ছিদামকে একখানি চকচকে কালো পাথরে কে যেন বহুযত্নে কুঁদিয়া গড়িয়া তুলিয়াছে। লেশমাত্র বাহুল্যবর্জিত এবং কোথাও যেন কিছু টোল খায় নাই। প্রত্যেক অঙ্গটি বলের সহিত নৈপুণ্যের সহিত মিশিয়া অত্যন্ত সম্পূর্ণতা লাভ করিয়াছে। নদীর উচ্চপাড় হইতে লাফাইয়া পড়ুক, লগি দিয়া নৌকা ঠেলুক, বাঁশগাছে চড়িয়া বাছিয়া বাছিয়া কঞ্চি কাটিয়া আনুক, সকল কাজেই তাহার একটি পরিমিত পারিপাট্য, একটি অবলীলাকৃত শোভা প্রকাশ পায়।…” 

‘সুন্দর’ শব্দটিকে প্রথমক্ষেত্রে (বিজয়িনী) অতি অল্পবার ব্যবহার করেও তার নগ্নতার নির্যাস যে সৌন্দর্য কবি তা বোঝাতে কসুর করেননি আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে (চিনী) ‘সুন্দর’ শব্দটি বার বার ব্যবহার করেও লেখক তার নগ্নতার নির্যাস যে রুপাত্মক নয়, গুণাত্মক তা স্পষ্ট বুঝিয়েছেন। 

তাই মেল ন্যুডে মূল আর্টহিস্টোরিকাল তফাত ফ্রম ফিমেল ইজ যে তা আরও আরও বেশী আদর্শিক, আরও de-eroticized। কারণ, সবার ওপরে (পুরুষ)মানুষ সত্য। 

মেল ন্যুড যে রুপাত্মকতাকে এড়িয়ে কতটা গুণাত্মক হ’তে চায় তার এক visual evidence নিম্নরুপ – exhibit চিত্র ৭ক। 

 
 চিত্র ৭ক Naked Nietzsche on a Rock in the High Mountains (1907) by Alfred Soder (1880-1957)
Ex-Libris for Friedrich Berthold Sutter, etching on paper, via https://www.facebook.com/nicolausus
চিত্র ৭খ  মহামানুষ-রূপী নিচ্চে, গ্রীক দেবরাজ জুপিটার-ইস্টাইল

নিসুতো Nietzsche শরীরের একচুল-ও না ঢেকে এক-ঝোপ গোঁপ দিয়ে কেন ওষ্ঠ ঢেকেছেন তা আমাদের বেয়াদব দৃষ্টির কাছে খিল্লিমূলক বিষয় হ’লেও শিল্পী ও শিল্পমোদীর কাছে এই নগ্নতার দ্যোতনা গভীর।  একান্ত দর্শনের জন্য আঁকা এই ছবিতে (চিত্র ৭ক, ব্যক্তিগত বইয়ের প্রথম পাতার নকশাকারি হিসাবে ছাপা , ex libris design) Nietzsche-এর নগ্নতা তাঁর তত্বায়িত Übermensch বা মহামানুষের দ্যোতক। যে সামাজিক, ধার্মিক নিয়মকানুনের উর্ধে এক অত্যুচ্চ বিচারধারার সাধনা করে। যে “comfortable house on the lake” ছেড়ে “mountains of unrest and solitude”-এ বাসা বেঁধেছে। নিচ্চেপন্ডিত-দের মতে এই ছবি যেন তাঁর লিখিত এই ছত্রগুলির চিত্রায়িত প্রতিধ্বনি।

“I grew high above man and beast; And I speak – none speaks with me. I grew too lonely and too high – I waited: what am I waiting for? I’m too close to the base of the clouds – I’m waiting for the first lightning bolt.”

কিংবা

“He who knows how to breathe the air of my writings knows that this is the air of the heights, healthy air.”

অর্থাৎ নিচ্চের ইয়েতি অবতার নিয়ে হাস্যরস, কিংবা তাঁর সুগঠন উরু (শিল্পীর আদর্শায়ন, ফোটো অন্য কথা ব’লে) বা তাঁর উরুবিভাজিকায় অদৃশ্য ধনসম্পদ নিয়ে শৃঙ্গাররস এলা কিছুই এলাঊ না- শান্তরস with a heavy dose of philosophical contemplation only.
  

তার একটা কারণ মেল ন্যুডে, ‘নো হোমো’ male gaze যাহা !! ‘তোবা-তোবা’ !! সৌন্দর্য
(এই ক্ষেত্রে সৌন্দর্য নামক কাঁঠালের সাথে কাঁঠালের আঠার মত লেগে থাকবে দর্শকাম) কখনই দেখিতে চায় না, পায় না, পারে না। “heterosexual men respond to male nudes in two ways—with overt rejection and with stated disinterest” (Eck 700). কারণ “Homoeroticism, when revealed, is the greatest challenge to virility and thus masculinity’s claim to authenticity, to naturalness, to coherence to dominance.” (Simpson, 1994) . ফলে, মেল ন্যুড ফোটোগ্রাফের ক্ষেত্রে এই সমস্যা দ্বিগুণিত হয়ে দাঁড়ায়। 

সেই সমস্যার প্রথম ভাগ হ’ল – নন-ফোটোগ্রাফিক ন্যুডের ওপর শিল্প, সৌন্দর্য, রুচি ইত্যাদির আদর্শিক ঢাকনা যত সহজে পরানো যায়, “অসভ্যতা করবেন না, হ্যাংলা-ক্যাংলা নাকি? Naked ও Nude-এর এস্থেটিক তফাত বুজেন না, যান পানু দেখেন গিয়া, ব্রুট!” ব’লে যতটা সুশীল স্বরে বকে দেওয়া যায়, ফোটোগ্রাফি real-all-too-real হয়ে সেই আদর্শিক দেহদর্শনের ঢাকনা খুলে দেয়। দেহ যতই সাজোয়ান, ইস্মুথ, সুগঠিত, মাস্কেল যতই upscale ফাটস্ফুটিত হোক না কেন, তাতে মানুষী মাংসলতা, মানুষী imperfection থাকবেই থাকবে।
“Critical prejudice towards photographs of the nude has never been more succinctly summed up than by a reviewer (Reviewer R Smith, Photographic Times Magazine) in 1897 who wrote, “The nude in art is only accepted as an ideality, as representing the ideal figure, not as portraiture. This is not possible in photography… the photograph is, and must remain, a picture of nakedness.”

আর এই সমস্যার দ্বিতীয় ভাগের আঠা প্রথম ভাগের কাঁঠালের সাথে লেপটিত। দেহদর্শন ও দর্শকাম অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। আর সামাজিক রুচি-সভ্যতা-ইত্যাদি-প্রভৃতি নামক প্রতিষ্ঠানের slippery slope যুক্তিতে সেই দর্শকাম নাকি গড়গড়িয়ে দর্শককে ধর্ষকামের নরকে দ্রুত পৌঁছে দেবে। কাপড় খোলার সাথে সাথে লাজ লজ্জা শুভবুদ্ধি সব খুলে ফেলা হয় নাকি, অতএব male nude photograph মূর্তিমান কামনার আমন্ত্রণপত্র, পৌরুষের এবং পুরুষোচিত আদর্শিকতার যুগপৎ ধ্বজভঙ্গ। 

 
সেই আমন্ত্রণপত্রকে পুরোপুরি গালা-সিল করে রাখতে, ভেঙ্গে কামনরকের দ্বারের চাবি যেন ভাবী দর্শককে কেউ নিয়ে না যেতে পারে তার জন্য অনেক অনেক দৃশ্য-অনুশাসন বাহাল আছে প্রথম থেকেই যার কিছু কিছু মেল ন্যুড পেন্টিং আর স্কাল্পচার-এর ঐতিহ্য থেকে ধার করা। 

যেমন, পুরুষ যৌনাঙ্গ দৃশ্যমান না করা। যদি কেউ গ্রেকো-রোমান ভাস্কর্য আর রেনেশাঁসালো পেন্টিং থেকে কোটি কোটি পুংলিঙ্গ প্রতিবাদী প্রমাণ হিসাবে দাখিল করেন, তাইলে বলতে হয়, চিত্র ১খ-এর ডেভিডের মত নেহাতই আদর্শিক, বাস্তবের সাথে তাদের সম্পর্ক খুবই কম। ডিক-পিকের বিরাট অভিজ্ঞতা না থাকলেও নিজের পায়ের ফাঁকে দেখার অভ্যাস যে সব লিঙ্গ-যুক্তদের আছে, তাঁরা চাইলে জেদ করে বুড়ো-দামড়া Poseidon-এর বা পূর্ণযৌবন Apollo-র sanitized শিশু-ভোলানাথ লিঙ্গের আদর্শিকতার ব্যাপারে অবুঝ থাকতেই পারেন, অন্যে পরে কা কথা। এমন কি ভদ্রমানুষেরা museum-এ জন্তু-জানোয়ারের taxidermy-র লিঙ্গলোপ ভি করে থাকেন, লোকলজ্জার খাতিরে। কিন্তু মূর্তিশাস্ত্রে পৌরুষের প্রতীক ঘোড়া বা সিংহের মূর্তির লিঙ্গচ্ছেদ সাধারণতঃ মুলতুবি থাকে। Mineke Schipper এই ব্যাপারে ক’টি গোড়ার কথা আমাদের মনে করিয়ে দেন, যাতে করে আমরা পুরুষ যৌনাঙ্গের অদৃশ্যমানকরণ-কে নীতিবাগানিয়া-র বাইনারির বাইরেও বুঝতে পারি। চারপেয়ে থেকে দন্ডায়মান দু-পেয়ে হওয়া দিয়েই দু-পায়ের ফাঁকে লুক্কায়িত মানুষের যৌনাঙ্গের দৃশ্যমানতা শুরু, আর পুরুষ যৌনাঙ্গ নারী যৌনাঙ্গের থেকে বেশি বেশি দৃশ্যমান। সেই দৃশ্যমানতার সাথে evolutionary sexual selection-এর যোগ স্বতঃসিদ্ধ। Geoffrey Miller-কে quote করে তিনি বলেন –  “Our bodies are rich sources of evidence about sexual selection pressures, because they are visible, measurable, easily comparable with those of other species, and relatively undistorted by human culture…Many of our body traits such as penises, breasts, buttocks, beards, head hair, and full lips show the hallmarks of sexual selection through mate choice. They are uniquely amplified in our species…All around the world they are clearly valued as sexual signals….They probably evolve partly as fitness indicators…” অতএব সুতরাং তবে কি দর্শকাম ইকুয়াল টু ধর্ষকাম ইকুয়াল টু আয়-তবে-সহচর-দুই-থেকে-তিন কর? তাইলে এই ব্যান কি ঠিকই আছে ম্যান ?!

কিন্তু জ্যান্ত যৌনাঙ্গ দর্শন আর আঁকা-গড়া-visually represented যৌনাঙ্গ দর্শন তো এক না। আর দেশে দেশে দিশি দিশি কালে কালে male nude visual depiction-এ পুংলিঙ্গের দৃশ্যমানতা simply দেখা-গেলে-আচে আর না-দেকা-গেলে-নাই ঠিক এই বাইনারি অন-অফ সুইচের মত কাজ করে না। কিছু উদাহরণ নিম্নরুপ।

ব্যূঢ়োরস্ক প্রগতযৌবন লাওকুন ও তাঁর প্রাপ্তবয়স্ক পুত্রদের (চিত্র ৮ক) same-size-fits-all সাইজের শিশু ভোলানাথ লিঙ্গ শুধু আদর্শিক অভিজ্ঞানই নয়, সাথে এক ধরণের লিঙ্গ অদৃশ্যায়ন-ও বটে। এই লিঙ্গরুপ শুধু দেহের নগ্ন নাটকীয়তার প্রতিটি খাঁজভাঁজ কে বোঝানোর indicator মাত্র, অর্থাৎ এই signifier-এর signified হল, এই-দেহটি-পুরুষ-এবং এই-দেহটি-নগ্ন, এই মাত্র, আর কিছু নয়। তার স্বকীয় লিঙ্গত্ব এখানে অপ্রাসঙ্গিক, আদর্শীকরণের দ্বারা অদৃশ্যায়িত। মনে রাখা ভাল, উত্থিত (erected) লিঙ্গের দৃশ্যমানতা কিন্তু গ্রেকো-রোমান আর্টে জল-অচল (big dick energetic গ্রীক লিঙ্গেশ্বর Priapus বা রোমান লিঙ্গ-তাবিজ Fascinus আর্টের গন্ডির বাইরে দৈনন্দিন মানত-মানসিকের দৃশ্যবস্তু)। আবার শিব (চিত্র ৮গ) বা শিবাবতার মূর্তিতে (চিত্র ৮ঘ) উত্থিত লিঙ্গ বিশেষ ভাবে দৃশ্যমান, নন্দিত ও বন্দিত কিন্তু তা তাত্বিকভাবে দৃশ্যমান Phallus, দৃশ্যমান Penis নয়, তা যে আদর্শিকতাকে চিহ্নায়িত করে তা হ’ল দৈবিক level-এর দৈহিক control, যোগবলে তা সদাউত্থিত, উর্ধরেতঃ, বীর্যপাতে কখনই নত-পরাস্ত নয়। আর কোন পুরুষ দেবতার মূর্তিতে কিন্তু লিঙ্গ কখনই দৃশ্যমান নয়। শিবাবতার লকুলীশের মূর্তিতে (চিত্র ৮ঘ) ডবল লিঙ্গ এই penis দৃশ্যমানতার phallic fallacy-কে দু’গুণ অ-লৌকিক করে। এবার মথুরা বুদ্ধমূর্তির wet cloth effect-এ তাঁর উরুসন্ধির পুঙ্খানুপুঙ্খ দৃশ্যমানতার মধ্যে লিঙ্গের অদৃশ্যমানতা একমেটে censorship মাত্র না। বুদ্ধের মহাপুরুষলক্ষণ অনুযায়ী তাঁর লিঙ্গ কোসোহিতভট্টগুয়হো… ( পালি : লক্ষন সুত্ত )অর্থাৎ ঘোটক বা হস্তীর লিঙ্গের মত খাপে ঢাকা, কোষবদ্ধ-অদৃশ্য এবং বিশেষ অতিমানুষিক কারণ (মানুষিক প্রয়োজনে নৈব নৈব চ) ছাড়া কখনোই কোষমুক্ত বা দৃশ্যমান নয়।    

চিত্র ৮ক – Laocoon
চিত্র ৮খ – মথুরা ঘরানার বুদ্ধমূর্তি
চিত্র ৮গ – উর্ধ্বরেত শিব
চিত্র ৮ঘ – দ্বিলিঙ্গী লকুলীশ

এবার, মেল ন্যুড ফোটোগ্রাফিতে তো আদর্শিক male appendage বানানো যায় না! অতএব তাকে ঢাকার ব্যবস্থা সরাসরি করতে হয়, তাতে অনেক সময় তাকে আরও বেশি দৃশ্যমান করে তোলা হ’য়। কিন্তু চেষ্টার কসুর তাতে থাকে না। 

কিন্তু প্রাথমিক যৌন বৈশিষ্ট্য না হয় ঢাকা গেল, তার উপরাউপরি নগ্ন পুরুষের তো সেকেন্ডারি যৌন বৈশিষ্ট্যও বিদ্যমান (আগের কিস্তিতে সারণী দেখেন), অনুশাসন সেখানেও। 

সেই তালিকায় সবার চেয়ে আগে মোছা হয় পুরুষদেহের দেহরোম বা body hair. দেহরোম যৌনসঙ্কেতময় – কারণ যৌবনপ্রাপ্তি হ’লেই তা আসে, অভিযোজনের নিয়মে পুরুষ মানুষের দেহরোম দেহকে সমানভাবে ঢাকার কাজের জন্য নয়, তাই তার ফলন দেহের নানা নির্বাচিত অংশে বেশী। 

যেজন্য নানাখানে, নানামনে, নানাভাবে পুরুষের দেহরোম দেহজ পৌরুষ আর ঔরস-উর্বরতার প্রতীক হিসাবে ধরে নেওয়া হ’য়। তাই জোর ক’রে মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া যেমন যৌবনের চাবিকাঠি ঘুরিয়ে দেয় (বালবিধবাদের আরও শিশু করে দেয়, বয়ঃপ্রাপ্ত বিধবাদের দেয় আরও বুড়িয়ে, কারণ একমাত্র অতিশিশু বা অতিবৃদ্ধই হয় পুরোপুরি টাকমুন্ডি) তেমনি দেহরোম নিঃশেষে মুছে দেওয়া (কামানো, তুলে ফেলা বা লেজার-র‍্যাঁদা করে বা airbrush, photoshop ক’রে) বিকচযৌবনের প্রমাণ লোপ করে ফেলে। তা নগ্ন পুরুষদেহকে আরও বেআব্রু করে, অথচ আবার এক একমেটে সুষম আব্রুর সৃষ্টি করে – পাথরের তৈরী মেল ন্যুডের ম’ত। ধাঁধালো!

এই ধাঁধালো সুষমতার সমাধানের কিছু হদিশ আছে বোধহয় লোমহরণের দ্বারা একধরণের visual impenetrability-র বা দৃশ্যদুর্ভেদ্যতার সৃজনে যাতে পুরুষশরীরের কোন জায়গাকেই দর্শকের চোখ যেন ভেদ না করতে পারে, ঠোকর না খেতে পারে, দাঁড়াতে না পারে না, যাতে সেই gaze পিছলে, হঠে, দূরে দাঁড়িয়ে থাকে। কারণ দেহরোমের অঙ্গসংস্থান যে chiaroscuro আলোআঁধারি texture তয়ের করে তা পুরুষদেহের বিভিন্ন অংশের তুলনামূলক ভেদ্যতা, কাম্যতা, কোমলতা বা দার্ঢ্যের সংকেত দেয়। 

রাধা জানেন কৃষ্ণের নাভিরোমের রুপক পিঁপড়ের সারি কোন মধুর চাকের দিকে যাচ্ছে। রংপুরের মেয়ে গায়েন জানেন উরুর লোহার কলাগাছ লোহার পাইপের মত মসৃণ না (আর তাতে যে কলা ধরে তা লোহার মত শক্ত নাও হতে পারে)। মিকেলেঞ্জেলোর ডেভিডের abdominal muscle আর গাল বগল বাইসেপ সবই পাথরের মত সমান শক্ত আর নিরেট। এই দার্ঢ্য কোন মানুষ-পুরুষের ক্ষেত্রে সম্ভব না (না, কোনো পেশীদানব বা গামা বা সোয়ার্জেনেগারের-ও না)। 

পৌরুষের তুঙ্গবিক্রম যে সব পেশার সাথে যুক্ত, এবং উন্মুক্ত পুরুষ শরীরের ফোটোগ্রাফির প্রকাশনা আর প্রচলন যে গুটিকতক পরিসরে জায়েজ – যেমন যুদ্ধ, দেহচর্চা (জিম হোক বা আখাড়া), ব্যায়ামবীর্য, সিনেমা, মডেলিং, sports, পর্ণোগ্রাফি – সেখানে সেখানেই দেহকে নির্লোম করা কম-বেশী বাধ্যতামূলক। নির্লোম দেহকে অবশ্যই ছবিতে তোলার জন্য , ছবিতে আলোকিত করার জন্য ব্যবহার করা যায় অনেক সহজে কিন্তু উন্মুক্ত পুরুষদেহকে নিরোম দেখানো ফোটোগ্রাফির অবদান নয়। তা পেন্টিং এবং ভাস্কর্যে আগে থেকেই রয়েছে। De eroticization follows, as an after-effect. 

চিত্র ৯ক – দেহরোম নিঃশেষে মুছে দেওয়া নগ্ন পুরুষদেহকে আরও বেআব্রু করে,
অথচ আবার এক একমেটে সুষম আব্রুর সৃষ্টি করে নতুন ভাবে।
চিত্র ৯বাঁয়ে, ১৯২০ সালের ফরাসী বিজ্ঞাপন – নকল বুকপশম লাগিয়ে টারজান হয়ে উঠুন।
ডাইনে, গুগলানূদিত ইংরেজি ভার্সন।

 চিত্র ৯গ, ঘ, ঙ – পুরুষদেহের সরোম নগ্নতার  ফোটোগ্রাফিক প্রকাশ দুনিয়াভ’র ক্ষণিকের জন্য ঘটেছিল নব্বইয়ের দশকে, সে ইতালিতেই হোক (৯গ) বা ইন্ডিয়ায় (৯ঘ)। হাল আমলের erotic male nude photograph-এ (৯ঙ, ২০১৮), বিশেষ করে কুইয়ার পর্ন  আর্টে দেহরোম না কামানোই জায়েজ। 

চিত্র ৯চ – কুঈয়ার ডিরেক্টর Derek Jarman-এর Sebastiane (1976) ছবির একটি দেহরোম কামানোর দৃশ্যকে re-eroticise করেন homoerotic gaze-এর মাধ্যমে। এই ছবির বিষয় Saint Sebastian। প্রসঙ্গত, Roman Catholic Church-এর Council of Trent (1563) কর্তৃক শিল্পে পুরুষ নগ্নতার চিত্রায়ন ও নির্মাণ  নিষিদ্ধকরণে দু’টিমাত্র ব্যতিক্রম ছিল – যীশু ও Saint Sebastian। 

Male Nude Photograph-এর দৃশ্য-অনুশাসনের সবচেয়ে বড় লব্জ হ’ল দেহের ভঙ্গি বা pose. সেই অভিনীত ভঙ্গি সিগনাল দেয় যে এই নগ্নতা দেহপ্রদর্শনী নয়, এই বেআব্রুপনা নহে নহে কামনিমন্ত্রণের খোলা চিঠি, এই নগ্নতা-প্রদর্শন অন্য কোন আদর্শিকতার স্বার্থে – দৈহিক স্বাস্থ্য, অতিপৌরুষেয় পেশী, শারীরিক বল, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা, নৃতাত্বিক উদাহরণ, ইত্যাদি প্রভৃতি। আর সেই দেহভঙ্গির খনিতে বেশীরভাগ আদর্শই গ্রেকো-রোমান মূর্তি থেকে গৃহীত – The Discus Thrower, The Wrestler, Mercury, Sisyphus,  Hercules, Hermes, Atlas, David, Samson in  Chains (এ দু’টি বাইবেলের), The Dying Gladiator, etc.  আর সেই ভঙ্গি কখনই অবিকল, মাছিমারা এক নয় – set of variations on a theme, ‘a code of cultural meanings’ যা বহাল থাকে দেশে দেশে, যুগে যুগে।


বিভিন্ন দৈহিক প্রদর্শনীর বিভিন্ন প্রয়োজনে ঘটে দেহভঙ্গির তারতম্য, তা নেহাত যান্ত্রিক দেহ-লব্জ না।
যেমন ব্যায়ামবীরেরা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের পেশী শোকেস করার জন্য বিভিন্ন ভঙ্গিমা বাছেন, গ্রেকো-রোমান ভাস্কর্‍্যের থেকে লব্জ ধার করে, তাকে অদলে-বদলে। নিখুঁত আদর্শিক শরীর প্রাত্যহিক পরিবর্তনশীল রক্তমাংসের পুরুষদেহে যেমন খুবই ক্ষণস্থায়ী (শুধু ক্ষনিকের perfectly shot ফটোতেই তার অজর উপস্থিতি) তেমনি সর্বাঙ্গের পেশীর সার্বিক এককালীন প্রস্ফুটন অসম্ভব, কিছু ফোলাতে হ’লে কিছু চুপসাতে হ’বে (নিউটন-দা তৃতীয় সূত্রে যেমন কয়েছেন)। ফলে খুব কায়দায় তয়ের করতে হয় দেহে সেই সার্বিক পেশীবহুলতার বিভ্রম, যাতে দেহ পুরো নগ্ন হয়েও শুধু নাকি পেশীর দেখনদারি হ্য়, যৌন লালসা উসকানোর দখলদারি তাতে নাকি এতটুকুও যেন না থাকে। আবার বিজ্ঞাপনের মেল মডেলদের ন্যুড পোজের ক্ষেত্রে ব্যায়ামবীরদের ব্যগ্রতার বিপরীতার্থক এক আলসা নির্বেদ থাকে- আমি-তর-তরে-ল্যাংটা-হই-নাই-তুই-আমারে-ল্যাংটা-দেখতে-আইছস-বেশ-সমস্যা-নাই। সেই পোজ যেন pose-less, so-called ন্যাচুরাল কিন্তু সেও সুঅভিনীত ভঙ্গি-ই বটে। আর নৃতাত্বিক ন্যুড স্পেসিমেনদের উদ্বেগভরা বা হতাশ চাউনির সাথে ‘সাবধান!’-ভঙ্গিতে সটান শরীরের কম্বিনেশন, আদিরস নহে অদ্ভুতরস। তাঁদের নিজেদের নগ্নতা বা যৌনাঙ্গ প্রদর্শন নিয়ে কোন সঙ্কোচ না থাকলেও Mineke Schipper লেখেন অনেক সদানগ্ন জনজাতি পুরুষ-নগ্নতার ওপর এক বিশেষ লাগাম লাগায়, স্বয়ংক্রিয় লিঙ্গোত্থান (involuntary erection) কে সামলানোর জন্য যৎসামান্য কিন্তু যথেষ্ট শক্ত সুতোর বাঁধন দিয়ে। 

চিত্র ১০ক – মেল ন্যুড ফোটোগ্রাফির আদিযুগে ফরাসি ফোটোগ্রাফে যুদ্ধং দেহি পোজ,
যা এখনো তামাদি হয় নি পুরোপুরি (সবার দেখার জন্য তোলা হয়নি এই ন্যুড, তাই লিঙ্গ দৃশ্যমান ছিল)
চিত্র ১০খ – তার কয়েক দশক পরে বাঙালি বডিবিল্ডারদের পোজেও গ্রেকো-রোমান echo

গ্রেকো-রোমান দেহের ভঙ্গি যে শুধু শিল্প-ইতিহাস বা দেহচর্চা পরিসরেই সীমাবদ্ধ না, বরং তা যে বিশ্বজনীনভাবে যেকোনো পুরুষদেহের নিরাবরণ ফোটোগ্রাফির সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে সম্পৃক্ত, তার উদাহরণ নিচে Atlas Pose-এর মাধ্যমে দেই – সেই সেই গ্রিক যুগ থেকে ঠিক আজকের যুগ পর্যন্ত।

চিত্র ১০ গ – অ্যাটলাস পোজের উৎপত্তি গ্রীক দেবতা অ্যাটলাসের
নিজের জোরদার কাঁধে পৃথিবী ধারণ করার ভঙ্গি থেকে

চিত্র ১০ ঘ – সেই অ্যাটলাসের নামধারী আমেরিকান ব্যায়ামবীর চার্লস অ্যাটলাস (১৮৯২-১৯৭২, জন্মনাম – এঞ্জেলো সিসিলিয়ানো, জন্মসূত্রে ইটালিয়ান ) সারা দুনিয়া জুড়ে ব্যায়ামচর্চার সাথে সাথে এই পোজকেও জনপ্রিয় করেন, ছবিতেও তিনি সেই পোজে
চিত্র ১০ ঙ – ভারতের অ্যাটলাস সাইকেল কোম্পানির লোগো
(একসময় তা বিশ্বের এক নম্বর সাইকেল উৎপাদক ছিল), স্বাস্থ্য, শরীরচর্চা ও শক্তির প্রতীক অ্যাটলাস 
 
চিত্র ১০ চ  – Charles Atlas Pose, Collage by Chad White, Photography Print on Plastic, 1970

চিত্র ১০ ছ  – ব্যাঙ্ককের বিখ্যাত মেল স্ট্রিপ জয়েন্ট অ্যাটলাস বার। ১৯৫০ এর দশকে পুরুষদেহচর্চা যখন ফোটোগ্রাফি আর ম্যাগাজিন এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পণ্যে পরিণত হ’ল, তার সোৎসাহ queering হ’ল পুরুষ সমকামী দর্শক মন্ডলীর মাধ্যমে
চিত্র ১০ জ, ঝ, ঞ –   সোশ্যাল মিডিয়ায় পেশীপ্রদর্শন এর সঠিক পোজ দেখানোর জন্যই হোক কিংবা ক্যাজুয়াল সেলফিতে  পিঠের পৌরুষ – অ্যাটলাস পোজের রকমফের এখনো দৃশ্যমান , সর্বময় 

লেকিন কিন্তু পরন্তু বন্ধু Male Nude Photograph-এর queer art হয়ে উঠতে ঠিক কি কি কি লাগে? De-eroticization-এর যে উপরোল্লিখিত তিন তাস, তার দান উল্টে দিলেই কি চলবে? এই প্রোশ্চেন থুড়ি কোশ্চেন ঠিক আমার অরজিনাল না। আর্টিস্টিক ন্যুড ফোটোগ্রাফির ঊষাকাল আর বহুফসলি যুগ – আশি-নব্বই এর দশক – শৈল্পিক নারীবাদ আর ভিন্নকামী শিল্প-আন্দোলনের-ও মহাযুগ। ফিমেল ন্যুড নামক অতিপুরনো, শিল্পবস্তুবাজারে থাম-থান টাইপের রেনেশাঁসালো বস্তুটিকে কি ভাবে দেখা হয়ে এসেছে, দেখানো হয়ে এসেছে আর দেখা ও দেখানো উচিত, তা নিয়ে বহু তর্ক-বিতর্ক, মতান্তর-মনান্তর হয়েছে। তাতে আমাদের এতাবত আলোচিত মোদ্দা বিষয়গুলি – নগ্ন মানুষদেহ ও তার ন্যুডায়নের রীতিপদ্ধতি, দেহছবিদর্শন ও দর্শকামের যোগ-বিয়োগ-বিয়োজন-অভিযোজন, লিঙ্গভেদে তাতে শক্তিসাম্যের তফাত (নারী শুধু সুন্দর-পুরুষ আরও অনেক কিছু), ন্যাংটো নারীদেহছবি বনাম উদোম পুরুষদেহছবির আপেক্ষিক আদর্শিকতা নামক শক্তিসূত্রের সুতোর টান – এই সব বিষয়ই সংশ্লিষ্ট। ব্যাপারটির অতি সরলীকৃত তত্বায়ন করে বা তিনতাস ফর্মূলা বানিয়ে (না, এই তিন তাস, পূর্বোল্লিখিত মেল ন্যুড ফোটোগ্রাফির de-eroticization-এর তিন তাস – লিঙ্গলোপ, নির্লোমকরণ আর ভঙ্গিমায়ন না ) বলতে গেলে এ লড়াই ত্রিভুজাকৃতি – male gaze, female gaze আর female gaze-এর sibling (ছুডো ভাই / বোন / ভোন / বাই / বাদ-দেন-কাম-নাই) queer gaze এর লড়াই। 

Male Gaze, যাতে heteropatriarchal সব বোঝা (baggage, knowledge দুই অর্থে) সম্পৃক্ত, যাতে পুরুষ শরীর বেশী দামী, তাই তাঁকে ন্যাংটো করায় বাধাবাঁধি বেশী, নারীদের নগ্ন দেখানোর জন্য no need of এত সাধাসাধি আর তার সাথে সব gender binary – সাবধান-বিশ্রাম, শক্ত-নরম, আগুয়ান-সনাতন, ইত্যাদি-প্রভৃতি সব included free of cost. Female Gaze ঠিক তার বিপরীতার্থক নয় কিন্তু তা নারীদের কমদামা হিসেবে দেখতে অরাজি, পুরুষের সব ধ্যান, জ্ঞান, দাম, গুরুত্ব, মানুষপনা, মানবিকতা, ঠিক ঠিক তাতেও আছে। আর তার মনসিজ queer gaze যা সবধরনের যৌনতা আর লিঙ্গত্বের মানুষের প্রতি সমদৃষ্টিতে দেখে। অতএব এই অতিসরল ফর্মূলায় queer gaze-এ দেখা আর দেখানোর জন্য যে মেল ন্যুড ফোটোগ্রাফ, তাহাই Queer Art. 

Gaze রেখে দেহের লিঙ্গ বদলে দিলে, যেমন গড়পড়তা female nude ছবি-র সব বজায় রেখে একটি male nude body সেখানে ঢুকিয়ে দিলেই তা জাদুবলে feminist বা queer art হয়ে যায় না, মানে চিত্রপন্ডিত (আর চিত্রপন্ডিতাইনরা ) তাই বলে থাকেন। 

আর যদি আমরা মেল ন্যুড ফোটোগ্রাফির ইতিহাস দেখি – সমকামী, উভকামী, ভিন্নকামী নারী পুরুষ ফোটোগ্রাফাররাই সবচেয়ে সুন্দর, চমকপ্রদ, আলাদা ধরণের মেল ন্যুড ফোটোগ্রাফি করেছেন। অতএব queer photographer মেল ন্যুড ফোটোগ্রাফি করিলে তাহা queer gaze দ্বারা দৃষ্ট অতএব তদ্বারা হয় male nude photography as queer art হয় সৃষ্ট। এই তো বেশ জলের মত বোঝা গেছে।

কিন্তু এই সব gaze-এর মধ্যে desire ঢুকলে লখিন্দরের লোহার বাসরঘরে সুতাশঙ্খ সাপ ঢোকার কেস হয়, তত্ত্বায়নের তিনতালের জলবৎ তরলং সরলতায় ক্যাড়াব্যাড়া লেগে যায়। যে male gaze মেল ন্যুড ছবিকে de-eroticize করে, সেই ছবির সব কিছু অপরিবর্তিত রেখেই queer gaze তাকে homo-eroticise করে। Female gaze এর দর্শকাম feminist নাও হ’তে পারে, queer gaze-এর-ও male নগ্নতাকে যথেষ্ট objectify করতে কোন বাধা না-ই থাকতে পারে। পুরুষ-নারীতে যেই যেই gender binary heteropatriarchal, queer gaze-এর সেই সেই বাইনারি সম-সম-লিঙ্গে প্রয়োগ করে desire-এর দৃশ্যতৃপ্তি সাধনে কোন বাধা নেই। আর erotic vs pornographic (যে যে male nude pornographic, এই বিশ্ব-pornification এর যুগে তাদের নিজেদের art বলে প্রমাণ করে ছাড় পাবার কোন দায় নেই, সেই censorship-এর দিন গিয়াছে)।

Nude art ‘done in good taste’ বা রুচিশীল ন্যুড শিল্পও বেশ একটা গড়বড়ে বিষয়, যা নিয়ে এক সুরুচিবাগীশ আমেরিকান সুশীলতা-প্রচারিকা একদা ক্ষুব্ধ ভাবে বড় মোক্ষম একটা সত্যি কথা বলে ফেলেছিলেন – ”Done in good taste” when referring to nude photography means only one of something is showing, or maybe all of something but in poor lighting, or perhaps that which is showing is too small to be considered in poor taste.” 

তা হ’লে কি আমরা feminist বা queer চিত্রপন্ডিতদের সেই সূত্রায়ণ মেনে নেব যে male nude photograph তখনই যথার্থ queer art যখন তা Full Body Portrait যেভাবে একজনের face portrait এর মাধ্যমে তুলে ধরা হয় তার মন-ভাব-ব্যক্তিত্ব-আত্মার যথার্থ প্রতিচ্ছবি? বা যখন তা পৌরুষ নামক performance-এর বর্ম-চর্ম খুলে রেখে উদব্যগ্রতা-উত্তুঙ্গতা নামিয়ে রাখে, হয় Lisa Simpson-এর Non-Threatening Boys Magazine-এর ছেলেদের মত reclining, vulnerable, friendly and inviting (কিন্তু come-hither বা cum-hither নয়?)। 


তবু, Queer gaze-দৃষ্টি সৃষ্টির মনের কথা মনে হয়, Desire. কিন্তু কি সেই Desire-এর স্বরুপ? Grace McNealy যখন সিনেমা দেখার ক্ষেত্রে queer gaze-এর তত্বায়ন করার চেষ্টা করেন, তখন তিনি Laura Mulvey-র Male Gaze-এর তত্বায়নের কানাগলি ছেড়ে, Mulvey-র মূল উৎস Lacanian Gaze (‘gaze’ as theorised by Jacques Lacan) থেকে queer gaze-কে ‘Invisible and desirable object as a lens’-এর মাধ্যমে বুঝতে চেষ্টা করেন। Gaze-কে এক ধরণের peripheral but willful, conscious vision হিসাবে দেখা দিয়ে এই বোঝার শুরু। “In his 1973 book The Four Fundamental Concepts of Psychoanalysis, …(Jacques) Lacan …defines the gaze as distinct from what the eye can see – rather, the gaze is that which, in our visual relation to things, “slips, passes, is transmitted, from stage to stage, and is always to some degree eluded in it” (1973: 73). Thus, it is not “seeing” the object that we are looking at that drives our gaze but the very experience of not seeing it, yet still knowing it is there: the gaze is “presented to us only in the form of a strange contingency, symbolic of what we find on the horizon, as the thrust of our experience…[a] lack…” কিন্তু এই তত্বায়ন Grace সেই সেই সিনেমার ক্ষেত্রে সফলভাবে প্রয়োগ করেন যেখানে queer desire-কে হাল্কা-ঝাপসাভাবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু male nude-এর ক্ষেত্রে ( যেখানে আখাম্বা object of desire সংশয়াতীত ভাবে খাম্বা জাইসা খাড়া হ্যায়)  queer gaze কি male gaze-এর মতই দর্শলোভী-scopophilic ভাবে কাজ করে (male nude-এর নির্যাস dickpic তো নয় আবার)? নাকি সোজা-সাপ্টা-ধরি-জাপ্টা-র রাজপথ ছেড়ে ধরি-ধরি-মনে-করি বা পেয়ে-হারাই বা দেখেও-না-দেখার গলিপথে চলাফেরা করাতেই সেই gaze-এর queer-ত্ব? মহামতি নিচ্চে (উপরে তাঁর ইয়েতি অবতার দ্রষ্টব্য) তো বলেইছেন  – “Everything that is profound loves the mask: the profoundest things have a hatred even of figure and likeness.” (Friedrich Nietzsche, Beyond Good and Evil (1886)) যা ঠিক Platonic চিত্র-ছলনা-ঘৃণা নয়। Nude figure-এর figurative কামনার মুখের ওপর সদরদুয়ার এঁটে দিয়ে তাকে আবার লুকিয়ে পাছদুয়োর দিয়ে নিয়ে আসাই কি male nude photographic queer gaze-এর আসল কথা?

আমেরিকার Playboy ও Playgirl Magazine-এর centrefold-দের (Playboy Magazine – Female Nudes vs Playgirl Magazine – Male Nudes with both female and queer viewership )-এর তুলনা করে একটা আসল কথা বোঝা যায় – শুধু কিছু অনুশাসন আর চিহ্নায়ন দিয়ে gaze-এর একধরণের gatekeeping করা গেলেও gaze-এর লিঙ্গপরিবর্তন করা যায় না (male to female to queer and vice varsa).

আগেই যেমন বলেছি, তথাকথিত de-eroticised মেল ন্যুড in male gaze-এর আদর্শিক রূপ হতে পারে দাঁড়ানো, দৃপ্ত, গ্রেকো-ঘ্যাঁকো, উদ্ধত, ব্যগ্র, খুব পেশল, নির্লোম, লিঙ্গগুপ্ত ইত্যাদি। আবার তাকে homo-eroticise করে male gaze-এর অধীনে রাখলে সব কিছু এক রেখে তার লিঙ্গকে প্রকাশ্য (এবং উত্থিত) করলেই হ’ল। Again, male nude কে female gaze-এ দেখলে তাকে au naturel (নগ্ন, স্বাভাবিক, সহজ সব অর্থে) হিসাবে দেখে রাখা যদি জায়েজ হয়, তার স্বভাবের আর নগ্ন দেহের প্রাকৃতিক আকর্ষণ বা বিকর্ষণকে portrait-এর মত ফুটিয়ে তোলাই যদি হয় তার লক্ষ্য তা হ’লে তা শয়ান, শান্ত, অলস, সুখুমাল, unshaved, অপেশল পুরুষদেহ বেছে নেবে। queer gaze যদি উপরোক্ত দুই ধরণের স্টিরিওটাইপকেই মান্য করে তার সাথে তথাকথিত অনাকর্ষনীয়, ambiguous-gendered দেহ বেছে নেয় তাতে কি queering-এর ষোল কলা পুর্ণ হবে? না desire বিসর্জন-এর দায় লাগবে তায়? নাকি Male Gaze আর Female Gaze-এর আদর্শ Male Body-দের আকর্ষনীয়তার হিসেব যে মোটের ওপর খুব আলাদা নয়, সেটাই কি বেশ ঘাঁটা ঘ ব্যাপার নয়?  

চিত্র ১১ক – 1954 – 2019 Playboy Magazine Centrefold থেকে নেওয়া নির্বাচিত Female Nudes

চিত্র ১১খ – 1973 – 2013 Playgirl Magazine Centrefold  এবং Feature থেকে সম্পাদকমন্ডলী নির্বাচিত সেরা ৫০ টি Male Nudes (তাঁরা লিঙ্গ-দৃশ্যমান ন্যুড বাদ দিয়েছেন)

১১ক আর ১১খ বিপরীতার্থক desiring gaze-এর ফসল হিসাবে দেখা হ’লেও বিরাট তফাত কিছু নেই।

এই দু’টি কালেকশন থেকে এটা বেশ বোঝা যায় যে মেল আর ফিমেল ন্যুডের gaze-এর কারিগরিতে খুব বেশ ফারাক নেই, আর কোন তফাতই স্বতন্ত্রভাবে মেল ন্যুড ফোটোগ্রাফি মাধ্যমের কোন এক ঘরানায় ধরে রাখা বেশ কঠিন। এই মাধ্যমের মধ্যে নানা ঘরানার মেল ন্যুড ফোটোগ্রাফিতে (পশ্চিমে artistic – classic / modern / contemporary, scientific, ethnographic, news-advertising-leisure magazine, physique-showcasing, pornogrphic এবং private erotic। এখানে Street Photography, Ethnographic Photography, Body Building Photography, Film Magazine Photography, Advertising Photography। আর Online Pornographic Photography, আর Casual Male Nudes on Social Media সর্বত্র ) ভিন্ন ভিন্ন প্রয়োজনভিতিক যে যে পদ্ধতি specific aesthetic তৈরি করে তার ঘরানাভিত্তিক অনন্যত্ব ‘পো-মো পিছলামো’-র যুগে বজায় রাখা অসম্ভব মেল ন্যুড ফোটোগ্রাফিতে, তো  queer gaze তো দূর রংধনু। যা আগে radical candid feminist male nude photography ছিল তা আজ onlyfans-এর profile pic, যা ক্লাসিক গ্রেকো-রোমান ন্যুড ফোটোগ্রাফ ছিল তা আজ ফোটোরিয়াল ai gay porn-এর রসদ, যা vintage advertising male nude photo ছিল তা আজ  contemporary high art-এর ironic reference.  

অতএব অনন্যোপায় এই তেরোদফা ছবি(কাটা)ছেঁড়া ও অন্তে শিরোনামের চার শিল্পীর চারটি কাজ পরিবেশন। তেরোদফার প্রতি দফায় সেই প্রশ্ন তৃতীয়বার- Male Nude Photograph-এর queer art হয়ে উঠতে ঠিক কি কি কি লাগে? উত্তর একটাই– চোখে দেখে নাও(নিজে যদি দেখবা, নিজে তবে বুঝবা)।

#এক

চিত্র ১২ক – Wrestler at Benaras Akhada, William Gedney, 1969-1971
চিত্র ১২খ – Jeetu Pahalwan, Phill Cannon, 2014

ভ্রাম্যমান queer photographer দেহপ্রদর্শনে অভ্যস্ত কুস্তিগীরের যে  সামান্য-অপ্রস্তুত বিরল মূহুর্তকে ধরেন (চিত্র ১২ক) তা ধরতে চিত্র ১২খ-এর posed photograph-এর আগ্রহী নয়। ফলে desire ভিন্ন পথে উৎপন্ন হয়। 

# দুই

চিত্র ১৩ক
চিত্র ১৩
চিত্র ১৩

চিত্র ১৩গ এর ভাস্কর্য মেল ন্যুড ফোটোগ্রাফির আদিমতম আদর্শের একটি (প্রাচীনতম contrapposto male nude). চিত্র ১৩ক আর চিত্র ১৩খ সেটিকে দু’টি আলাদা আলাদা পথে ভাঙ্গে। প্রথমটিতে disabled body-র ওপর queer gaze বীভৎস রস, করুণ রস আর হাস্যরস-এর যোগে এক বিচিত্ররস সৃষ্টি করে যা male nude photograph-তে দুর্লভ।  ১৩খ জীবন্ত আর মূর্ত পুরুষদেহের আয়না-কোলাজের বুদ্ধিমন্ত ব্যবহার। এই শিল্পীর ফোটগ্রাফি দুর্লভ। তিনি মূলতঃ কাঁচশিল্পী। 

#তিন

চিত্র ১৪ক – Sun City, Sunil Gupta, 2010
চিত্র ১৪খ

চিত্র ১৪কতে প্রখ্যাত queer photographer সুনীল গুপ্তা gay bath house-এর staged photograph-এ এতগুলি আকর্ষনীয় নগ্ন পুরুষদেহ দেখানো সত্বেও যে homoeroticism-কে কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখেন (মূলতঃ কারোর চোখে চোখ মিলতে না দিয়ে, কারণ তাঁর উদ্দেশ্য সেই স্থানের বিশেষত্বের চিত্রায়ণ করা, দেহের নয়)। সেই homoeroticism দর্শকের চোখে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ঘাই মারে চিত্র ১৪খ-এর homosocial, unstaged, candid, news photograph-এ (প্রাইভেট ক্লাবের প্রাইভেট সুইমিং পুলে প্রফেশনাল বক্সার বন্ধুরা চানে যাচ্ছেন)।

#চার

চিত্র ১৫ক Print Advertisement for Tuff Shoes, India, 1995
চিত্র ১৫খ Paul Marguerite, “Le Couple de Cimetiere (The Cemetery Couple), 2000s(?)

চিত্র ১৫ক এর ন্যুডটি ভারতীয় ন্যুড ফোটোগ্রাফির ইতিহাসে আলোড়ক এক icon. এর যৌন আবেদন খুব সচেতনভাবেই পুরুষ মডেল-কেন্দ্রিক (মিলিন্দ সোমান)। কিন্তু চিত্র ১৫খ-এর যুগলের দেহসংস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং তার যৌন আবেদন অনেক বেশী নম্র ও কম্প্র।

#পাঁচ

চিত্র ১৬ক – Students painting from life at Ecole des Beaux-Arts – Atelier de Peintre (School of Fine Arts – Painter Workshop), 1850
চিত্র ১৬খ – The Sculptor, John Koch, 1964

চিত্র ১৬ক-এর গণ-পরিসরে ন্যুড মডেল নিষ্প্রাণ মূর্তিতে পর্যবসিত, কিন্তু চিত্র ১৬খ-এর একান্ত পরিসরে সে শিল্পীর সতীর্থ। এর queer gaze John Koch-এর sexuality-সাপেক্ষ নয়। 

#ছয়

চিত্র ১৭ক – Imbecile, Akbar Padamsee, 1951

চিত্র ১৭খ – Le Décor de Faust, Guglielmo Pluschow, 1890


Frontal nude-এ male gaze-উদ্দিষ্ট দৃপ্ততা দেখানো যতটাই সহজ , উবুড় হওয়া reclining pose-এ homo-erotic gaze  ঠিক ততটাই cliched.

#সাত

চিত্র ১৮ক- from ‘Not At Home’ series, Charan Singh, Continuing Series
চিত্র ১৮খ – Fisherman and his son, Henri Cartier-Bresson, 1980

Photographic male gaze ভারতের কালো, উন্মুক্ত, গরীব নারীশরীরের eroticization-এ যতটা অকুন্ঠ, পুরুষ শরীরের ক্ষেত্রে ততটাই কুন্ঠিত (চিত্র ১৮খ)। চিত্র ১৮খ তে queer photographer চরণ সিং নিজের শরীরকে eroticize না করে self-voyeurize করেন।

#আট

চিত্র ১৯ক- from ‘The Promise of Beauty’ series, Charan Singh, 2023
চিত্র ১৯খ- Pandit Ram Gopal, Carl Van Vechten, 2023

ভারতীয় চোখ নৃত্যের বা অন্যান্য অভিনয় মুদ্রায় নিরাবরণ পুরুষ দেহ দেখতে অভ্যস্ত। এই দুটি ফোটোগ্রাফের প্রথমটি সেই gaze যে gender-blind নয় সে বিষয়ে দর্শককে সচেতন করে।

#নয়

চিত্র ২০ক- Nigel Drinking Tea, Photographer Unknown, 1978
চিত্র ২০খ- Venus of Urbino, Titian, 1538

Male reclining nude মানেই কি তা benign gaze থেকে সৃষ্ট?

#দশ

চিত্র ২১ ক,খ,গ – Red Jasper Male Torso from Harappa Civilization 

চিত্র ২১ ঘ, ঙ – Polished Sandstone Male Torso from Lohanipur, Maurya Era

চিত্র ২১ চ – Contemporary Miniature Painting of Krishna Making Love to Radha

ভারতের পুরুষ দেহসৌন্দর্যের আদর্শিকতার পাথুরে উদাহরণ কখনই ভারতের male nude photography-তে বয়ে আসেনি। Miniature Painting-এ হয়তো এসেছে কিছু। আর মানুষের দেহে কিছু কিছু।

#এগারো

চিত্র ২২ ক – Man in Polyester Suit, Robert Mapplethorpe, 1981 

চিত্র ২২খ – from ‘The Allegory’ series, Barbara DeGenevieve, 1980s

চিত্র ২২ক বোধহয় ইতিহাসের সর্বাধিক চর্চিত queer photograph-এর অন্যতম। আর চিত্র ২২খ ততটাই স্বল্পচর্চিত। কিন্তু এই ক্ষেত্রে ফোটোগ্রাফারদের male আর female gaze-এর তফাত খুব স্পষ্ট।     

#বারো

চিত্র ২৩ ক,খ – Preparatory photography for Art by Tom of Finland (Touko Laaksonen), 1980s

চিত্র ২৩গ, ঘ, ঙ – Contemporary Stock Photographs for Male Underwear Advertising

চিত্র ২৩চ – The Cold Moment, Michael Taggart, 2024

Tom of Finland-এর homoerotic art-এর homoeroticism militantly দ্ব্যর্থহীন, প্রায় সুপারফোটোগ্রাফিক। কিন্তু male underwear-এর বিজ্ঞাপনে homoerotic interpretation একটি সমস্যা, নানাভাবে যার পথরোধ করতে ঐতিহাসিক ভাবে ফোটোগ্রাফি সদাই তৎপর। এখানে যেমন দুজ’ন প্রায় এক রকম দেখতে মডেলকে নেওয়া হয়েছে (যেন বিম্ব আর প্রতিবিম্ব), চোখাচোখি এড়ানো হয়েছে। আবার চিত্র ২৩চ-তে নগ্নতাকে আর underwear-কে করুণ narrative-এর অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে (post-coital abandonement).

#তেরো

চিত্র ২৪ক – Ethnographic Photo of Jarawa Tribesmen in Andaman & Nicobar Islands, 1880s

চিত্র ২৪খ – Ethnographic Photo of Sentinelse Tribesman in Andaman & Nicobar Islands, 1880s

চিত্র ২৪গ – A Fan designed by Drag Syndicate from a Tom of Finland Print, 2025

চিত্র ২৪ঘ – 1938 postcard illustration of a peeping tom bellhop eyeing the keyhole of the honeymoon suite

সদানগ্ন মানুষদের নগ্নতাকে eroticise করা কঠিন। শুধু সংগমকালে নগ্ন হওয়া মানুষের দেহ aesthetically eroticise করতেও কিছু বিশেষ দেহভঙ্গির প্রয়োজন পড়ে। De-eroticization-এর জন্য জরুরি দেহভঙ্গির মতই। 

#একরামুল মোমেন
(@akramul_momen)

চিত্র ২৫ – একরামুল মোমেন, Photograph from a queer performance ‘Dear Society’, 2020

(নগ্ন)দেহ না থাকলেও সমাজের উদোম ঘৃণার ঝাপটা সাহসে সামলানোর জন্য এই নগ্ন মুখ এক full body portrait. 

#অনুপ লেট
(@letanup)

চিত্র ২৬ ক, খ, গ- অনুপ লেট, Interaction, 2025

পরিপূর্ণ পোশাকআবৃত হয়েও queer artist-এর তোলা এই পোরট্রেট-এর queer coding, অনেক male nude photograph-এর থেকেও অনেক সোচ্চার – দেহভঙ্গি, উর্দি ইত্যাদির homoerotic visual reference-এর মাধ্যমে। 

#অর্চন মুখার্জি
(@archan_mukherjee_visuals)

চিত্র ২৭ – অর্চন মুখার্জি, Dorji-Shantiniketan Promtion Shoot, 2020

একটি সাধারণ (মডেল-অসুলভ) পুরুষ শরীরের নগ্নতাকে খন্ড-বিখন্ড আর আরশি-মাফিক করে ফোটোগ্রাফার এখানে mal nude photography-র সব gaze-এর ঘরানাকে মুশকিলে ফেলেছেন।

# রাকিব রাজা 
(@daintystrangerphotos)

চিত্র ২৮ – রাকিব রাজা, Untitled, 2020

কোনো আন্তঃসম্পর্কের narrative ছাড়া posed male nude photography-তে একত্রিত একাধিক পুরুষদেহ দেখতে দর্শক অভ্যস্ত নয়। সেইদিক থেকে এই non-performative সহজ আড্ডা utopian homosocial space তৈরি করে। 

আরও পড়তে চাইলে:

Harageones, Sandi. “Men Want to Be Looked At: A Look at the Male Nude in Western Photography.” 2017.

Cooper, Emmanuel. Fully exposed: The male nude in photography. Routledge, 2013.

Schipper, Mineke. Naked or Covered: History of Dressing and Undressing Around The World. Speaking Tiger, 2017. See Chapter 1: Nothing on the Body (pp. 11-35)

Geard, Annie. A matrixial gaze: portrayals of the male nude by female artists. Doctor of Philosophy Thesis, University of Tasmania, May 2018

McNealy, Grace. “Queering the gaze: visualizing desire in Lacanian film theory.” Whatever. A Transdisciplinary Journal of Queer Theories and Studies 4 (2021): 433-466

সৌরভ রায়। ভিজুয়াল স্টাডিস গবেষক, সম্পাদক এবং ইন্টারনেটভাষা বিউপনিবেশিকরণ কর্মী।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান